সাদ্দাম হোসাইন : হ্নীলায় পাহাড়ি এলাকা হতে রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী ও অপহরণকারী চক্রের সদস্য ডাকাত রফিকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ। গভীর পাহাড়ে স্বশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা ও মত বিরোধ নিয়ে এই ধরনের ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানা যায়,১৬জানুয়ারী বিকালে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মুহাম্মদ ওসমান গণির নেতৃত্বে এসআই মাসুদ ফয়সাল ও মনিরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপজেলার হ্নীলা আলীখালী ২৫নং ক্যাম্প সংলগ্ন তুলা বাগানের পশ্চিমে গভীর পাহাড় হতে পুরাতন রোহিঙ্গা ইউছুপ আলীর পুত্র,স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী ও অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়কারী গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ডাকাত রফিক (৩৮) এর মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এসময় নিহত ডাকাত রফিকের স্ত্রী,বাবা,বোন ও স্বজনেরা উপস্থিত ছিল। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মৃতদেহ পোস্টমর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।
এই বিষয়ে হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান,বিষয়টি দায়িত্বশীল কারো কাছ থেকে জানতে পারিনি। লোকজন মারফত শুনছি। খারাপ মানুষের পরিণতি এমনই হয়ে থাকে। আশাকরি বিষয়টি প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মুহাম্মদ ওসমান গণি জানান,খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল হতে মৃতদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে আসে। সে ইঊছুপ আলীর ছেলে ডাকাত রফিক বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে থানায় একাধিক মামলার আসামী এবং আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই হত্যাকান্ডের প্রকৃত অপরাধী সনাক্ত করার জন্য পুলিশ আবারো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর বিস্তারিত জানাতে পারব।
এদিকে গভীর পাহাড় হতে ডাকাত রফিকের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলার বাহারছড়া, হোয়াইক্যং, হ্নীলা মরিচ্যাঘোনা, পশ্চিম পানখালী, লেচুয়াপ্রাং, ঊলুচামরী, জুম্মা পাড়া, বৃহত্তর আলীখালী ও লেদা এলাকার ভূক্তভোগী রাখাল, কৃষক, কাঠুরিয়া ও সাধারণ মানুষকে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
এদিকে স্থানীয় সুত্রের দাবী,খুন হওয়া ডাকাত রফিকের পিতা একজন পুরান রোহিঙ্গা। সে আলীখালী এলাকায় এসে বসবাস শুরু করে। সেখানে রফিকের জন্ম হয়। সে খারাপ লোকজনের সাথে মিশতে মিশতে দূধর্ষ অপরাধী হয়ে উঠে। সে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও পাড়া ভিত্তিক অপরাধী চক্রের সাথে যুক্ত হয়ে মাদকের চালান খালাস, ভাড়াটে সন্ত্রাসী, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় চক্রের পাহাড়ি স্বশস্ত্র গ্রুপের অন্যতম সদস্যে পরিণত হয়। গত ৫/৬বছরের মধ্যে সে স্থানীয় লোকজন ও পার্শ্ববর্তী লোকজনের সাথে আলোচিত বেশ কয়েকটি ঘটনা করে আলোচনায় আসে। যার কারণে তার পরিবারকে এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়। সে পাহাড়ে অবস্থানে থাকায় তার এক স্ত্রী ও বোন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলে যায়।
স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা,এখন অপহরণকারীদের ভয়ে পাহাড়ের পাদদেশে কোন কৃষক ও কাঠুরিয়া যায়না। হয়তো তাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, ভাগ-বাটোয়ারা অথবা মতের অমিল হওয়ায় গোলাগুলি ও নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। ###
