কর বকেয়া থাকলে টেকনাফ পৌরসভায় মিলেনা নাগরিক সেবা

লেখক: খান মাহমুদ।
প্রকাশ: ৩৫ minutes ago

সীমান্তবর্তী টেকনাফ পৌরসভায় পৌর কর বকেয়া থাকলেই মিলছেনা কোন ধরণের নাগরিক সেবা। নাগরিক সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে জিম্মি করে আদায় করা হচ্ছে পৌরকর বা হোল্ডিং ট্যাক্স। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার পৌরবাসী। আদালত ও মন্ত্রনালয়ের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পৌর প্রশাসক ও সচিব এমন নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানাগেছে। অনিয়ম বন্ধ না করলে টেকনাফ পৌরসভা ঘেরাও করার হুশিয়ারী দিয়েছেন পৌরবাসী।

গেলো ২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি শূণ্য টেকনাফ পৌরসভা। সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর, পর্যায়ক্রমে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি শূন্য পৌরসভার কার্যক্রম চলছে তালে মাতালে।

পৌরবাসী ও সাবেক জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরেও কখনো কখনো জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু, ওয়ারিশ ও নাগরিক সনদের মতো মৌলিক সেবা পেতে মাস গড়িয়ে যায়। তার উপরে এবার নতুন করে নেমে এসেছে নাগরিকের মৌলিক সেবার বিপরীতে জিম্মি করে কর আদায়ের খড়্গ। জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু, ওয়ারিশ ও নাগরিক সনদ নিতে গেলেই সেবা প্রার্থীকে জিম্মি করে পৌর কর বা হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে। যারা অর্থ দিতে পারছেননা তারা সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন।

কক্সবাজার আদালতের আইনজীবী এডভোকেট মোস্তাক আহমদ বলেন, সাংবিধানে বলা আছে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪ অনুযায়ী শিশুর জন্মের পর বা যেকোনো নাগরিকের জন্ম নিবন্ধন করা একটি শর্তহীন সংবিধিবদ্ধ অধিকার। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারী। ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া কোনো নাগরিকের অধিকার বা সেবাপ্রাপ্তিতে বাধা দেওয়া যাবে না। কর বকেয়া থাকার জন্য সনদ আটকে রাখা এক ধরণের বেআইনি শাস্তি, যা সংবিধান পরিপন্থী।

এর আগে, সারাদেশে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জন্ম নিবন্ধন ও নাগরিক সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রে হোল্ডিং ট্যাক্সের রসিদ বাধ্যতামূলক করার একটি অবৈধ প্রবণতা দেখা দিলে, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০২২ সালের এপ্রিলে এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনায় বলা হয়- “জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু, ওয়ারিশ ও নাগরিক সনদের সাথে অন্য কোনো ট্যাক্স বা রসিদ মেলানো যাবে না। এটি করলে তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে”। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে নাগরিকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট স্পষ্ট করেন যে, আইন নির্ধারিত প্রক্রিয়া বা আইনি নোটিশ ছাড়া নাগরিকদের পৌর সুবিধা বা নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত বা জিম্মি করা যাবে না। কর আদায়ের জন্য নির্ধারিত আইনি পথ অনুসরণ করতে হবে।

অভিযোগের বিষয়ে টেকনাফ পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনিক চৌধুরীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ‘টেকনাফ টুডে’কে বলেন, পৌরসভায় ৬ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। কর বাকী রেখে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহীতাদের ব্যাপারে কড়াকড়ি করা হচ্ছে। তাছাড়া পঁয়তাল্লিশ দিনের বেশী হলে জন্ম নিবন্ধনে সরকারী ফি নেওয়া হয়। এর বাহিরে নাগরিক সেবার বিপরীতে জিম্মি করে কারো কাছে কোনো অর্থ আদায় করা হচ্ছেনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভা সূত্র জানান, পৌরসভায় ৬ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে, তাই নাগরিক সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে বকেয়া কর বাবদ অর্থ আদায়ের জন্য পৌর প্রশাসক ও সচিব উভয়েই নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি অর্থ আদায় করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বেতন বন্ধ রাখা হবে বলে হুশিয়ারী দিয়েছেন পৌর সচিব মুহিউদ্দিন ফয়েজী।

এই বিষয়ে জানতে সচিব মুহিউদ্দিন ফয়েজীর মুটোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, পৌরসভায় নাগরিক হয়রানী ও অর্থ আদায় বন্ধ করা না হলে পৌর নাগরিক ফোরামের নেতৃত্বে পৌরবাসীকে সাথে নিয়ে টেকনাফ পৌর কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচীর ঘোষনা দিয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর ও ভারপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ ইসমাইল।