টেকনাফের বড়ডেইল মৌজার ১.৬৩ একর জমির সৃজিত ৩৬৩৫ খতিয়ান বাতিল, মূল বিএস খতিয়ানে ফেরত

লেখক: বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ৩ minutes ago

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের বড়ডেইল মৌজার নোয়াখালী পাড়া এলাকায় ১ দশমিক ৬৩০২ একর জমি নিয়ে সৃজিত ৩৬৩৫ নম্বর খতিয়ান বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) এর রাজস্ব আদালত। একই সঙ্গে জমিগুলো মূল বিএস ১৭২, ১৭৫ ও ১৩৪৫ নম্বর খতিয়ানে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।

এ ঘটনায় ভূমি মালিকানা ও খতিয়ান সৃজন নিয়ে আনিসুর রহমান আমমোক্তারনামা মূলে হেলাল উদ্দিন গং বনাম সৈয়দুল ইসলাম গংয়ের  দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ রায়ের ফলে সৈয়দুল ইসলাম গংয়ের জমির মালিকানা বহাল থাকলো।

নামজারি রিভিশন মামলা নং-৬৪/২০২৪ (টেকনাফ)-এর ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের আদেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) ও রাজস্ব আদালতের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামনুন আহমেদ অনীক এ আদেশ দেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং প্রতিপক্ষের বক্তব্য শুনে টেকনাফের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক রিভিউ মিচ মামলা নং-১৫২/২৩-২৪-এ দেওয়া রায় বহাল রাখা হয়েছে। এরপর মামলাটি নথিজাত করা হয়।

যেভাবে ৩৬৩৫ খতিয়ান সৃজিত হয়

ভূমি অফিসের রায়ে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, বড়ডেইল মৌজার বিএস ১৭২, ১৭৫ ও ১৩৪৫ নম্বর খতিয়ানের বিভিন্ন দাগ থেকে মোট ১ দশমিক ৬৩০২ একর জমি চারটি কবলা দলিলের মাধ্যমে মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, পিতা মো. সোলতান খানের নামে ক্রয়সূত্রে মালিকানা দেখিয়ে নামজারি ও জমাভাগ মামলা করা হয়।

এরপর নামজারি ও জমাভাগ মামলা নং-২৯২৪/২০২৩-২৪-এর আদেশের ভিত্তিতে ওই জমি নিয়ে ৩৬৩৫ নম্বর খতিয়ান সৃজন করা হয়।

তবে এ খতিয়ান সৃজনের বৈধতা নিয়ে পরবর্তীতে আপত্তি ওঠে। সিকদার আলীর ওয়ারিশ ছৈয়দুল ইসলামসহ অন্যরা জমিগুলো মূল বিএস খতিয়ানে পুনর্বহালের জন্য টেকনাফ সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে আবেদন করেন।

দেওয়ানি মামলার নিষেধাজ্ঞার তথ্য গোপনের অভিযোগ

ভূমি অফিসের আদেশে বলা হয়েছে, একই জমি নিয়ে টেকনাফ সহকারী জজ আদালতে ২৯৮/২০২১ নম্বর একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলায় মোহাম্মদ আনিসুর রহমানকে ১২৭ নম্বর বিবাদী এবং টেকনাফের সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে ১২২ নম্বর বিবাদী করা হয়।

আদেশে আরও বলা হয়, ওই দেওয়ানি মামলার আর্জিতে ১৭ আগস্ট ২০২২ সালের ৩১৮০, ২২ আগস্ট ২০২২ সালের ৩২০২ এবং ৩১ আগস্ট ২০২২ সালের ৩৩৮৮ নম্বর দলিল নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৩ অক্টোবর আদালতের ৩৭ নম্বর আদেশে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের হাজির হয়ে আপত্তি দাখিল না করা পর্যন্ত নালিশি তপশিলভুক্ত জমি নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

ভূমি অফিসের রায়ে বলা হয়, ওই নিষেধাজ্ঞার তথ্য গোপন করে পরবর্তীতে নামজারি ও জমাভাগ মামলা নং-২৯২৪/২০২৩-২৪-এর আদেশের ভিত্তিতে ৩৬৩৫ নম্বর খতিয়ান সৃজন করা হয়েছিল। এ কারণে খতিয়ানটি বাতিলযোগ্য বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় ভূমি অফিস।

১.৬৩ একর জমি মূল খতিয়ানে ফেরত

রিভিউ মিচ মামলা নং-১৫২/২৩-২৪-এর রায়ে টেকনাফের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানুনগো ও বাহারছড়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেন। সরেজমিন তদন্ত ও মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই শেষে ৩৬৩৫ নম্বর খতিয়ানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বড়ডেইল মৌজার বিএস ১৭২, ১৭৫ ও ১৩৪৫ নম্বর খতিয়ানের বিভিন্ন দাগের মোট ১ দশমিক ৬৩০২ একর জমি নিয়ে সৃজিত ৩৬৩৫ নম্বর খতিয়ান সম্পূর্ণ বাতিল করে জমিগুলো মূল বিএস খতিয়ানে ফেরত দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়।

বাতিল হওয়া খতিয়ানের আওতাধীন দাগগুলো হলো বিএস ৫২৪৫, ৫২৪৬, ৫২৯৯, ৫২৩৪, ৫২৩৬, ৫২৪৮, ৫২৪৯, ৫২৫০, ৫২৯৩, ৫২৯২, ৫২৮৫ ও ৫২৮৬। এসব দাগের জমির মোট পরিমাণ ১ দশমিক ৬৩০২ একর।

রিভিশনেও বহাল ভূমি অফিসের সিদ্ধান্ত

সহকারী কমিশনার (ভূমি) টেকনাফের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মো. আনিসুর রহমানের পক্ষে নামজারি রিভিশন মামলা নং-৬৪/২০২৪ দায়ের করা হয়।

১ জুলাই ২০২৬ মামলার ধার্য তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়। রিভিশনকারী হাজিরা দাখিল করলেও আদালত চলাকালে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ১ নম্বর প্রতিপক্ষের পক্ষে লিখিত আপত্তি দাখিল করা হয়।

নথিপত্র পর্যালোচনা ও প্রতিপক্ষের বক্তব্য শোনার পর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) ও রাজস্ব আদালতের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামনুন আহমেদ অনীক টেকনাফ সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক রিভিউ মিচ মামলা নং-১৫২/২৩-২৪-এর দেওয়া রায় বহাল রাখেন।

ফলে বড়ডেইল মৌজার ১ দশমিক ৬৩০২ একর জমি নিয়ে সৃজিত ৩৬৩৫ নম্বর খতিয়ান বাতিলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্তভাবে বহাল থাকে এবং জমিগুলো মূল বিএস খতিয়ানে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকে।

তবে জমি নিয়ে মূল দেওয়ানি মামলা ২৯৮/২০২১-এর বিচারিক কার্যক্রমের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় কী হয়, তা পৃথক বিষয়। ভূমি অফিসের রিভিউ ও রাজস্ব আদালতের রিভিশন আদেশে মূলত ৩৬৩৫ নম্বর খতিয়ান সৃজনের বৈধতা এবং তা বাতিলের সিদ্ধান্তই বিবেচনা করা হয়েছে।