কক্সবাজার চট্টগ্রাম রেলপথে চলতি মাসে চালু করা হচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন, একইসঙ্গে যুক্ত হচ্ছে একজোড়া নতুন আন্তঃনগর ট্রেন

লেখক: এম জিয়াবুল হক, চকরিয়া 
প্রকাশ: ৬ minutes ago

যাত্রীসেবা আধুনিকায়নে কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনটি বেসরকারি খাতে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে 
চকরিয়ায় রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি 
কক্সবাজারের যাত্রীসেবা আধুনিকায়নে কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনটি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে রেল যোগাযোগ আরও সহজ ও যাত্রীবান্ধব করতে চলতি মাসেই জনপ্রিয় মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন চালু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই রুটে আরও একজোড়া নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন  রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে চকরিয়া উপজেলার  হারবাং ইউনিয়নের লালব্রীজ এলাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের এই দৃষ্টিনন্দন আইকনিক স্টেশনটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অবকাঠামো। এটি বেসরকারি খাতে পরিচালনা করা কতটা বাস্তবসম্মত, পরিচালনা পর্ষদের সক্ষমতা কেমন হবে এবং যাত্রীসেবার মান কতখানি উন্নত করা সম্ভব মূলত সেটি যাচাই করতেই আমাদের এই সফর। স্টেশনের বিদ্যমান সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনাও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণে পরিবেশের ওপর পড়া প্রভাব কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ বলেন, পরিবেশগত টেকসই ভারসাম্যের জন্য একটি দেশের মোট ভূখণ্ডের অন্তত ২৫ শতাংশ বনাঞ্চল থাকা জরুরি। দোহাজারী-কক্সবাজার ১০২ কিলোমিটারের দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণের সময় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ কাটতে হয়েছিল। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইতোমধ্যে রোপণ করা গাছগুলোর বর্তমান অবস্থা তিনি পরিদর্শন করছেন। পাশাপাশি, রেলপথের দুই পাশে নতুন করে সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণের জায়গা চিহ্নিত করে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন তিনি।
দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মানুষের রাজধানীর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের সুবিধার্থে প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা শীঘ্রই এ রুটে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ নামে নতুন আরও এক জোড়া ট্রেন চালু করা হবে। এর ফলে চকরিয়াসহ আশপাশের যাত্রীরা খুব সহজেই চট্টগ্রামে পৌঁছে রাজধানীমুখী ট্রেনগুলোর সঙ্গে ট্রানজিট সংযোগ তৈরি করতে পারবেন।
কক্সবাজার রেলপথে বারবার পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত উদ্বিগ্ন রয়েছে যাত্রী সাধারণ এবং রেল সংশ্লিষ্ট সবাই। বিষয়টি নিয়ে
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ রেলপথ ও যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, রেলপথে চকরিয়া, ডুলাহাজারা ও হারবাংসহ এই লাইনের সকল ছোট-বড় স্টেশনে আধুনিক আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা হবে। যাত্রীদের নিশ্চিন্তে যাতায়াতের জন্য রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) টহল তৎপর বাড়ানো এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
ব্রিফিংকালে রেলওয়ে চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সবুক্তগীন মাহমুদ, কক্সবাজার রেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) এরশাদুল হক, তমা কনস্ট্রাকশনের প্রকল্প পরিচালক বিমল সাহা, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার এবং চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আরিফুর রহমান, বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার, হারবাং ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মেম্বার রুবেল সিকদার সহ রেলওয়ে ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস বিফ্রিং শেষে বিকালে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি
চকরিয়া উপজেলার পহরচাঁদা ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা রেলপয়েন্ট পরিদর্শন করেছেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর কাছে চকরিয়া পেকুয়া, কুতুবদিয়া ও পাশের বাঁশখালীর মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী হারবাং রেল স্টেশনের বদলে সহজ যোগাযোগস্থল চকরিয়ার মছনিয়াকাটা এলাকায় রেল স্টেশন নির্মাণের দাবি তুলে ধরেন বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার।
এসময় সরেজমিনে দেখে এবং স্থানীয়দের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে শুনে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ মছনিয়াকাটা রেল স্টেশন নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন বলে নিশ্চিত করেছেন চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার।
‎রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের মতে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে নতুন ট্রেন সংযোজন বাড়ানো হলে পর্যটন, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং কক্সবাজারমুখী যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তিও অনেকটাই কমবে। ##