নাইক্ষ্যংছড়ি করোনা ভাইরাসের আতংকে রাস্তার অলিগলিতে সাবান দিয়ে হাত দোয়ার ব্যবস্থা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

শামীম ইকবাল চৌধুরী : করোনাভাইরাস সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের মানুষকেও উৎকণ্ঠায় ফেলেছে। মানুষ প্রতিরোধের পথ খুঁজছে। সংক্রমণ এড়াতে চাইছে সবাই। হাত পরিষ্কার রাখা সংক্রমণ থেকে দূরে থাকার প্রধান উপায় মনে করছে শিক্ষিত সমাজের লোকজনেরা।
সাধারণ কেটে খাওয়া লোকজনকে উদ্ভোদ্ধ করতে চেষ্টা চালাছে শিক্ষিত লোকেরা।
এসব বিষয়কে প্রাধন্য দিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ইউপি মেম্বার মো,আরেফ উল্লাহ ছুট্টুর উদ্যোগে সদর উপজেলায় বিভিন্ন রাস্তার অলিগলির ১৪টি পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে বিশুদ্ধ পানির মিনি ট্যাংক এবং সাথে রাখা হয়েছে হ্যান্ড ওয়াশ ও সাবান।

মঙ্গলবার(২৪মার্চ)সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়,দেশে মরণঘাতক করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার পর যাঁরা কোনো দিন দুই হাত পরিষ্কার-পরিচন্ন রাখতে সাবান ব্যবহার করেননি, তাঁরাও এখন সাবান ব্যবহার করতে চাইছেন। এতে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সদর উপজেলায় ১৪টি পয়েন্টে হাত দোয়ার ব্যবস্থা করেছেন সদর ইউপি সদস্য মো আরেফ উল্লাহ ছুট্টু মেম্বার। এই হাত দোয়ার পয়েন্ট গুলো হলো- জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর মোড়,উপজেলা পরিষদের চৌরাস্তার মোড়,ধুংরী হেডম্যানপাড়া অলিগলির মোড়ে মেড়ে,পুরাতন বাস ষ্টেশন মোড়,মসজিদ ঘোণার মোড়,নাইক্ষ্যংছড়ি বাজার তিন রাস্ত মোড়, থানার মোড়,আর্দশগ্রাম র্মাকেট সংলগ্ন,উপবন লেকের মোড়,মাহাজনঘোণা রাস্তার মোড় ও মোস্তক সাওদাগরের প্রট্রোল পাম্প সংলগ্ন মোড়।
হাত দোয়া ব্যবস্থায় সাবান রাখা বিষয়টি জীবানুমুক্ত নয় বলে আশঙ্কায় রয়েছে অনেকে। আবার অনেকেও ভাবছেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ছাড়া দুহাত করোনাভাইরাসমুক্ত করা যাবে না।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন,সাধারণ মানুষ হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিনতে হিমশিম খাচ্ছে।বাজারে হাত পরিষ্কার করার দ্রবণ হ্যান্ড স্যানিটাইজার দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষতার আওতায় রয়েছে সাবান। এই সাবান করোনাভাইরাস দমনে যথেষ্ট।
হাতে নোংরা দৃশ্যমান হলে সাবান-পানি দিয়ে ধুতে হবে। হাতের নোংরা দৃশ্যমান না হলে অ্যালকোহলসমৃদ্ধ হ্যান্ড রাব (হ্যান্ড স্যানিটাইজার) অথবা সাবান-পানি দিয়ে বারবার হাত ধুতে হবে।

এই বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা (টি,এস) আবু জাফর মো, ছলিম জানান, করোনাভাইরাসের ওপরের আবরণ চর্বি (লিপিড) দিয়ে তৈরি।
সাবানে আছে ক্ষার। চর্বি যখন ক্ষারের সংস্পর্শে আসে, তখন চর্বি ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে যায়। সাবানের সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সঙ্গে করোনাভাইরাসের ওপরের আবরণ নষ্ট হয়ে যায়, ভাইরাস মরে যায়। সাবানে ক্ষার যত বেশি থাকে, ভাইরাস তত দ্রুত মরে। সে জন্য কাপড় কাচা সাবানই এ ক্ষেত্রে শ্রেয়।

তিনি আরও বলেন, ‘হ্যান্ড স্যানিটাইজারের জন্য হাপিত্যেশ করার দরকার নেই। সাবানই যথেষ্ট। সাশ্রয়ী, উপজেলার গ্রামের অলিগলির সব দোকানে পাওয়া যায়। সাবান–পানি দিয়ে হাত ধোয়াই যথেষ্ট। সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ধুলে ভাইরাস মারা যায়। হ্যান্ড স্যানিটাইজারের পেছনে দৌড়াদৌড়ি না করে মানুষ নিশ্চিন্তে সাবান ব্যবহার করতে পারে।

প্রশাসন সূত্রে জানাযায়, গত ৮ মার্চ সরকার ঘোষণায় দেশে কোভিড–১৯–এ আক্রান্তের সর্তকতা থেকেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিনতে তোড়জোড় শুরু করে লোকজন। এসময় একটি অসাধু ব্যবসায়ী সেন্ডিকেট নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যমূল্য ধীর গতিতে মূল্য বৃদ্ধি করার আঁচ পেয়ে
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর উপজেলায় বাধ্য হয়ে নিত্যপ্রয়োজনী দ্রব্যমূল্যসহ ঔষধ বেশি দামে বিক্রি না করার লক্ষ্যে নজরধরীতে রাখছেন প্রশাসন।
গত শনিবার ( ২১ মার্চ ) দিন ব্যাপী নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন কচির নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি টিম বাজার মনিটরিং করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীকে নিত্যপ্রয়োজনী খাদ্যদ্রব্য চড়া দামে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। এসময় নিত্যপ্রয়োজনী খাদ্যদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমা করে দেন তিনি।

ইউপি সদস্য আরেফ উল্লাহ ছুট্টু মেম্বার জানান, দেশব্যাপী মরণঘাতক করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে মানবতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। করোনা ভাইরাসের জীবানু প্রাথমিক ভাবে মুক্ত রাখার উপায়ের মধ্য সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার রখলে জীবানু মুক্ত হয়। সেই টিপসটি জানতে পেরে উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার অলিগলির মোড়ে মোড়ে ১৪টি হাত দোয়ার ব্যবস্থা করেছি। সাধারণ মানুষের চাহিদা অনুযায়ী আরও হাত দোয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে এই ইউপি মেম্বার জানান।

এলাকার সাধারণ মানুষেরা জানান, আরেফ উল্লাহ ছুট্টুকে আমরা ৪বারের মতো মেম্বার বানিয়েছি। সে সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন। তার মানবতার দৃষ্টিকোণটা অনেক বড় মনের মানুষ। এই র্দুসময়ে আতঙ্ক থেকে মুক্ত করার জন্য যে কাজটি করেছেন এতে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলে মন্তব্য করছে অনেকে।

থ্রি-ষ্টার মেডিসিন ও বিজিনেজ কমপ্লেক্স এর প্রোফাইটার মো,জসিম উদ্দীন জানান,সাধারণ মানুষের কাছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার খুব বেশি পরিচিত জিনিস নয়। এই দ্রবণে অন্যান্য রাসায়নিকের সঙ্গে অ্যালকোহলও থাকে। তালুতে ঢেলে ঘষলেই কিছুক্ষণ পর তা শুকিয়ে যায়। হাত জীবাণুমুক্ত করার জন্য মূলত চিকিৎসকেরাই এটা নিয়মিত ব্যবহার করেন। নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীও তা ব্যবহার করেন। যাঁরা পরীক্ষাগারে কাজ করেন, তাঁরাও এটা নিয়মিত ব্যবহার করেন। তাঁদের বাইরে আরও অনেকে ব্যবহার করছেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার।
তবে চিকিৎসকের পরার্মশ অনুযায়ী সাধারণ কেটে খাওয়া মানুষ গুলো সাবানের প্রতি ঝুঁকছে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার চেয়ে কাপড় কাঁচার সাবানসহ অন্যান্য সাবানের মধ্যে ডেটল,সেভলুন,লাক্স সাবানও সমান তালে বিক্রয় হচ্ছে।
এসব সাবানগুলো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার নাগালে রয়েছে বলে জানান।