জয়নাল আবেদীন : প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারে বিদ্রোহী এবং সরকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘাত, হামলা, পাল্টা হামলা এবং ঘাঁটি সমুহে দখল এবং লুটপাটের পর ভারী অস্ত্রসমুহ চোরাই পথে টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশের পর কৌশলে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের নিকট পৌঁছে যায়। এর ফলে অপরাধ প্রবণতা আরো বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিদেশী ভারী জি-৩ রাইফেল, ২টি ম্যাগজিন ও ৫০রাউন্ড তাঁজা বুলেটসহ একজনকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনায় আরো একজন পলাতক রয়েছে।
১লা জুলাই বিকাল সাড়ে ৪টায় টেকনাফ মডেল থানার সম্মেলন কক্ষে অফিসার্স ইনচার্জ মুহাম্মদ ওসমান গণি সংবাদ সম্মেলনে জানান,অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ৩দিনের সাঁড়াশি অভিযানকালে সকাল পৌনে ৮টারদিকে তাঁরই নেতৃত্বে টেকনাফ মডেল থানার একদল পুলিশ পৌরসভাস্থ ঝর্ণা চত্বর সংলগ্ন আল করম মসজিদের সামনে প্রধান সড়কে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন তল্লাশীর এক পর্যায়ে সুপারীর বস্তাসহ রামু গর্জনিয়ার পূর্ব জুমছড়ির মনির আহমদের পুত্র হেলাল উদ্দিন (২৫) কে আটক করতে সক্ষম হলেও মহেশখালীর ধলঘাটা পন্ডিতের ডেইলের লোকমান হাকিমের পুত্র মুহাম্মদ জুয়েল রানা (৩৫) পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে বাজারে উপস্থিত জনতার সামনে সুপারির বস্তা খুলে তল্লাশী চালিয়ে বিশেষ কায়দায় লুকানো সিলিংযুক্ত প্লাস্টিকের বাটসহ একটি বিদেশী জি-৩ রাইফেল, (লম্বা ৩৯.৫ ইঞ্চি), ২টি ম্যাগজিন এবং ৫০ রাউন্ড তাঁজা গুলি জব্দ করা হয়। ধৃত আসামী ও পলাতক আসামীরা বিভিন্ন ধরণের অপরাধমূলক কর্মকান্ড সংঘটনের উদ্দেশ্যে বর্ণিত অস্ত্র-গুলি নিজ হেফাজতে রাখিয়া ১৮৭৮ সনের অস্ত্র আইনের অপরাধে টেকনাফ মডেল থানার মামলা নং-০১/৩৫৫, তাং-০১/০৭/২০২৪ইং রুজু করে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।


সাম্প্রতিক সময়ে উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত পয়েন্ট হতে আইন-শৃংখলা বাহিনীর কয়েকটি অভিযানে এসব বিদেশী ভারী অস্ত্র এবং বুলেট উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যে এসব ভারী অস্ত্র স্থানীয় ও রোহিঙ্গা দূবৃর্ত্ত গ্রুপের হাতে পৌঁছে গেছে। এসব অস্ত্রের মহড়ায় তারা দিনের পর দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এতে বিভিন্ন স্থানে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ###
