মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম : টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে জমি বিরোধের জেরধরে আদালত পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত শান্ত থাকার আদেশ দেন। একটি পক্ষ বিশেষ মহলের ইন্দনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণ করলে বাদীপক্ষ পুলিশী সহায়তায় বাঁধা প্রদান করে। এতে প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীপক্ষের বসত-বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এরপর উভয়পক্ষের সংঘর্ষে গর্ভবতী নারী,কলেজ ছাত্রীসহ দু’পক্ষের ৮জন আহত হয়েছে। এরপর চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে প্রভাবশালীরা।
জানা যায়,কক্সবাজার সহকারী জজ আদালতের অপর মামলা নং-৪৩/২০২০ইং মূলে বিএস ২৪৬১ ও ২৪৬৩ দাগদ্বয়ের বাদী এবং বিবাদী উভয়পক্ষ দখলে থাকার দাবী করে। দখলে থাকার বিষয় স্বাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ব্যতীত মোর্কদ্দমার এই পর্যায়ে নির্ধারণ করা অসম্ভব মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় এই জমি হস্তান্তর ও রকম পরিবর্তন থেকে উভয়পক্ষকে স্থিতিশীল বজায় রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।
আদালতের এই নির্দেশনা অমান্য করে ১৪ফেব্রুয়ারী (সোমবার) সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং মধ্যম হ্নীলা কাঞ্জরপাড়ারস্থ কোনাপাড়ায় অত্র মামলার বিবাদী কালু মিয়ার পুত্র নুর হোছন গং উক্ত দাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বসত-ঘর নির্মাণ করলে মামলার বাদী নজির আহমদের পুত্র আব্দুল হালিম গং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা কামনা করলে সকাল সাড়ে ৮টারদিকে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ মুজিকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আদালতের নির্দেশনা অনুসারে নুর হোছন গংকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে ফিরে যান। এতে নুর হোছনের নেতৃত্বে তার পুত্র রিদুওয়ান, শাহরিয়ার,কামরুল হাসান ছোটু, নুরুল আলমের পুত্র নুরুল আমিন, জনৈক নুর আলমের পুত্র কামাল হোছনসহ ১৫/২০জনের একটি স্বশস্ত্র গ্রæপ ক্ষুদ্ধ হয়ে পুলিশ চলে যাওয়ার সাথে সাথে দা-কিরিচ ও লাঠি-সোটা নিয়ে আব্দুল হালিম গংদের বসত-বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে মালামাল লুটপাট চালায়। এসময় বাঁধা দিতে এলে মোঃ হারুনের স্ত্রী গর্ভবতী ইসমত আরা, উখিয়া বঙ্গমাতা মহিলা কলেজের ছাত্রী ও আব্দুল হালিমের মেয়ে আছিয়া খানম,পুত্র মোঃ আলম, মোঃ হারুন, জুহুর আলম, মৃত নজির আহমদের পুত্র আলতাফ হোসেন ও আলতাফ হোসেনের পুত্র আবু হেনা বাবুকে এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত করে। এসময় আহত পক্ষের ইট-পাটকেল নিক্ষেপে হামলাকারী পক্ষের কালু মিয়ার পুত্র নুর হোছন আহত হয়। এরপর আহতদের স্থানীয় ও বহিরাগত বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
সন্ধ্যারদিকে জবরদখলকারী নুর হোছন গংয়ের লোকজন এসে আব্দুল হালিম গংয়ের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে হামলার হুমকি-ধমকি দেওয়া অব্যাহত রাখায় আব্দুল হালিম গং নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে দাবী করেন।
এই ব্যাপারে হামলায় অভিযুক্ত নুর হোছনের মুঠোফোন নং-০১৮১৮-৯১৬৪৯০ নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে রিসিভ না করায় কোন ধরনের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এসআই মুজিব জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের নিষেধ করার পর টেকনাফে চলে যায়। পরে দু’পক্ষের মধ্যে মারামারীর খবর পেয়ে এসআই মিজান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
হোয়াইক্যং মডেল ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী জানান, তারা উভয়পক্ষ সম্পর্কে মামা-ভাগিনা গং। যেহেতু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাজ করা ঠিক হয়নি। আদালতের রায়ের পরে কাজ করলে এই সংঘর্ষ হতনা। আগামীতে আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলায় আহত এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের দাবী,আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারী ও সন্ত্রাসী চক্রের হামলার হাত থেকে তাদের রক্ষার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহায়তা কামনা করেছেন। ###
