নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ টুডে ডটকম :
৪৩ হাজার ৬৫ পিচ ইয়াবা ও একটি মাইক্রেবাস সহ এক মাদক কারবারীকে আটক করেছে বিজিবি।
জব্দ ইয়াবার আনুমানিক মূল্য এক কোটি ঊনপঞ্চাশ লক্ষ ঊনিশ হাজার পাচঁশত টাকা।
বিজিবি উপ অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার জানান, বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারে যে, মেরিন ড্রাইভ রাস্তা দিয়ে মাইক্রোবাস যোগে ইয়াবার একটি চালান টেকনাফ হতে কক্সবাজার পাচার হতে পারে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ শীলখালী চেকপোষ্টে কর্মরত হাবিলদার মোঃ বাচ্চু মৃধা এর নেতৃত্বে একটি টহলদল অদ্য ০১ আগস্ট ২০১৮ তারিখ ১২০০ ঘটিকায় বর্ণিত চেকপোষ্টে যানবাহন তল্লাশীর কাজে নিয়োজিত হয়।
আনুমানিক ১২৩০ ঘটিকায় টেকনাফ হতে একটি মাইক্রোবাস (চট্টমেট্রো-১১-৩২০১) চেকপোষ্টে আসলে কর্তব্যরত টহলদল সিগন্যাল দিয়ে থামায়। পরবর্তীতে উক্ত মাইক্রোবাসটি তল্লাশীকালীন মাইক্রোবাসের চালকের সীটের নীচে এবং যাত্রীদের সীটের নীচে অভিনব পদ্ধতিতে লুকানো অবস্থায় ইয়াবা ভর্তি ২১৬ টি নীল রংয়ের প্যাকেট পাওয়া যায়। অতঃপর ইয়াবা ভর্তি প্যাকেটগুলো খুলে গণনা করে ১,২৯,১৯,৫০০/- টাকা মূল্যমানের ৪৩,০৬৫ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ২০,০০,০০০/- (বিশ লক্ষ) টাকা মূল্যমানের ০১ টি মাইক্রোবাসসহ চালককে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটককৃত মালামালের সর্বমোট সিজার মূল্য- ১,৪৯,১৯,৫০০/-(এক কোটি ঊনপঞ্চাশ লক্ষ ঊনিশ হাজার পাচঁশত) টাকা।
ধৃত আসামীর নাম ও ঠিকানা। মোহাম্মদ আলী (৩২), পিতা-ফয়েজ আহম্মেদ, গ্রাম-পুরান পল্লানপাড়া, পোঃ ও থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার। নিষিদ্ধ ঘোষিত মাদক ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজ দখলে রাখার অপরাধে ধৃত আসামীকে ৪৮ পিছ ইয়াবাসহ ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১ (এক) বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৪৩,০১৭ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট ব্যাটালিয়ন সদরে জমা রাখা হয়েছে, যা পরবর্তীতে উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মিডিয়া কর্মীদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হবে। এছাড়াও আটককৃত মাইক্রোবাসটি টেকনাফ শুল্ক গুদামে জমা করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ধৃত মো. আলীর প্রকাশ আলী জোহারের পরিবার পূর্বের কক্সবাজারের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে উপজেলা কমপ্লেক্স সংলগ্ন পুরান পল্লান পাড়া এলাকায় বসবাসরত। সে স্থানীয় দলিল লিখক দিদার মুন্সির শ্যালক। জানা গেছে, দিদার মুন্সির ছত্রছায়ায় মো. আলী ও দিদারের স্ত্রী দুই ভাই-বোন মিলে ইয়াবা সিন্ডিকেট গড়ে তোলে রমরমা বানিজ্য চালিয়ে আসছি দীর্ঘদিন ধরে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি মো. আলীর। ধরা পড়ে বিজিবির হাতে। মো. আলী ধরা পড়লেও সিন্ডিকেটের প্রধান দিদারের স্ত্রী বহাল তবিয়তে রয়েছে। মো. আলীকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সিন্ডিকেটের থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন সূত্র। এছাড়া তাদের সম্পদের পরিমান অনুসন্ধান করলেই সবকিছু পরিস্কার হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন সেই সূত্র।
অপরদিকে নুরুল বশর নামে উপজেলা এলাকার অপর এক ব্যক্তির এতে সম্পৃক্ততার কথাও লোকেমুখে প্রচার হয়েছে। তবে নুরুল বশর নামের সেই ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

