সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বংশ পরিচিতি নৃশংস হত্যাকান্ড খুনীদের পূর্ণবাসন এবং বিচার

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

মুক্তিযোদ্ধা সোলতান আহমদ : আমি মুজিব বাহিনীর হয়ে ১৯৭১সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে নিরবে-নিভৃতে থাকা একজন মুক্তিযোদ্ধা। হয়তো জীবন সায়াহ্নে এসেই এটাই আমার জীবনের শেষ জাতীয় শোক দিবস পালন করা হবে। যে সূর্য সন্তানের অগ্নিঝরা আহবানে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম ; সেই বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বংশ পরিচিতি, ঘাতকদের হাতে নৃশংসভাবে স্বপরিবারে নিহত, খুনীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পূর্ণবাসন এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠিত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের বিচারের মাধ্যমে আইনের কাঠগড়ায় এনে বাঙ্গালী জাতিকে কলংকমুক্ত করার চেষ্টা নিশ্চয় প্রশংসার দাবীদার। দেশ ও জাতি এবং আগামী প্রজন্মকে অবহিত করার লক্ষ্যে আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস আপনাদের জন্য তুলে ধরা হল।

(১) : পরাধীন ভারত উপমহাদেশের বৃটিশ উপনিবেশিক শাসন শোষণের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলন যখন বেশ দানা বেঁধে উঠেছে তখনই জন্মগ্রহণ করেন মহাকালের মহানায়ক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এসময় ভারতের সকল প্রদেশের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণীর মানুষ কোন না কোনভাবে সেই সংগ্রামে শরীক হয়ে পড়েছে এবং তাতে সম্পৃক্ত হতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। বাংলাও তখন পিছিয়ে ছিলনা, বরং সমগ্র বৃটিশ শাসিত ভারতের স্বাধীনতা-সংগ্রামে বাঙ্গালিরই ছিল অগ্রণী ভূমিকা। বাংলার এই সংক্ষুদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশেই যে পরিবারে শেখ মুজিবুরের জন্ম তা শেখ পরিবার হিসেবে সমগ্র অঞ্চলে পরিচিত।

টুঙ্গিপাড়া শেখ পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা হলেন শেখ জহির উদ্দিন, তার পিতার নাম ছিল শেখ আব্দুল আউয়াল, শেখ আব্দুল আউয়াল ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের অষ্টম পূর্বপুরুষ। টুঙ্গিপাড়ায় শেখ পরিবারের একটি পাঁকা বাড়ি তৈরী হয় ১৮৫৪ সালে।

শেখ জহির উদ্দিন আড়তদারী ব্যবসা করতেন কলকাতায়। কোন্দাপাড়া গ্রাম থেকে কলকাতায় যাতায়াত করা অসুবিধাজনক হওয়ায় তিনি কলকাতার বেলেঘাটা অঞ্চলে বাসা নিয়ে সেখানে সপরিবারে বসবাস করতেন। শেখ জহির উদ্দিনের পুত্রের নাম শেখ জান মাহমুদ, শেখ জান মাহমুদের পুত্র শেখ বোরহান উদ্দিনের জীবনকাল পর্যন্ত উক্ত আড়তদারী ব্যবসা টিকে ছিল।

শেখ বোরহান উদ্দিন ব্যবসায়ের কাজে এক সময় কলকাতা থেকে মধুমতি নদী তীরের গিমাডাঙ্গা ও ঘোপের ডাঙ্গায় আসেন। তিনি কলকাতায় আর ফিরে যাননি। তিনি টুঙ্গিপাড়ার কাজী পরিবারে বিয়ে করেন এবং টুঙ্গিপাড়াতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। এই বোরহান উদ্দিনই টুঙ্গিপাড়ার শেখ পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা এবং তার পরিবারই টুঙ্গিপাড়ার শেখ পরিবার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

শেখ বোরহান উদ্দিনের তিন পুত্র শেখ একরাম হোসেন, শেখ তাজ মাহমুদ এবং শেখ কুদরত উল্লাহ ওরফে কুদু শেখ। শেখ বোরহান উদ্দিনের বড় ছেলে শেখ একরাম উদ্দিনেরও তিন পুত্র শেখ আব্দুল মজিদ, শেখ আব্দুল হামিদ এবং শেখ আব্দুর রশিদ ওরফে নসু মিয়া। এ তিন ভাইয়ের মেজো ভাই শেখ আব্দুল হামিদই হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দাদা অর্থাৎ শেখ লুৎফুর রহমানের বাবা।
আবার শেখ মুজিবের মা সায়রা খাতুন ছিলেন শেখ লুৎফুর রহমানের বড় চাচা শেখ আব্দুল মজিদের কন্যা অর্থাৎ শেখ মুজিবুর রহমানের মা ছিলেন বাবা শেখ লুৎফুর রহমানের চাচাতো বোন। শেখ মুজিবুর রহমানের বাবা শেখ লুৎফুর রহমান পেশাগত জীবনে ছিলেন দেওয়ানী আদালতের একজন সেরেস্তারদার। পৈত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত তার জমিজমাও ছিল প্রায় শতাধিক বিঘা। তাদের পরিবারে প্রাচুর্য ছিলনা, ছিল স্বচ্ছতা। নিজের জমির যে পরিমাণ ফসল তার গোলাঘরে উঠতো তা দিয়ে সারা বছরই স্বচ্ছন্দে চলে যেত। শেখ লুৎফুর রহমানের ৬ সন্তান। তারা হলেন যথাক্রমে শেখ ফাতেমা, শেখ আছিয়া, শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ আমেনা বেগম, শেখ খোদেজা বেগম লিপি এবং শেখ আবু নাসের। দেখলে তো বন্ধুরা বঙ্গবন্ধুর পরিবার কত ঐতিহ্যবাহী ছিল।

(২) আমি পৃথিবীর সবচাইতে দরিদ্র, সবচাইতে জনবহুল একটি দেশের একজন রাজনৈতিক নেতার জীবন কাহিনী বলছি। এ জন্যই এদেশের রাজনীতির উত্থান পতনের কথা আমি যথা সম্ভব সংক্ষেপে বলতে বাধ্য হয়েছি। কারণ এই রাজনীতির সাথে জড়িয়ে আছে বঙ্গবন্ধুর জীবন। তিনি উচ্চ পদস্থ কোন সরকারী চাকুরে ছিলেন না, সামরিক বাহিনীর কোন অফিসার ছিলেন না, কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন না, এমনকি শিল্পী, সাহিত্যিক কবিও ছিলেন না। তাঁর ধ্যান জ্ঞান, আরাধনা সবই ছিল রাজনীতি। এই দেশকে, এদেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালোবেসে ছিলেন বলেই তিনি রাজনীতির এই সংঘাত-সংঘর্ষময় জীবন বেঁচে নিয়ে ছিলেন।

তাঁর জেল খাটা রাজনৈতিক জীবনের শ্রেষ্ঠ ফসল ছিল, ছয় দফার স্বায়ত্ব শাসনের দাবী। এই দাবী একদিকে যেমন তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু’ বানিয়েছে, অন্যদিকে তেমনি বাংলাদেশের স্বাধীনতাও এনে দিয়েছে। দীর্ঘকালের শোষণ বঞ্চনার বেদনা থেকেই জন্ম নিয়েছিল এই গণদাবী। কিন্তু স্বাধীনতার পরও সেই শোষণ বঞ্চনার অবসান ঘটেনি। দেশী ও বিদেশী শোষকেরা সেই আগের মতোই বঙ্গবন্ধুর উপর চাপ সৃষ্টি করছিল। এই চাপের মুখে নতি স্বীকার করলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে খুবই লাভবান হতে পারতেন। কিন্তু এটাই যদি করতে পারতেন তাহলে পশ্চিম পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে কি সংগ্রাম করার প্রয়োজন ছিল? অবলীলায় তিনি তার টোপ গিলে প্রধানমন্ত্রীত্বসহ বিবিধ সুবিধা লাভ করতে পারতেন। এইখানেই তিনি তাঁর ব্যক্তি স্বার্থ এমনকি দলীয় স্বার্থের গন্ডিকে ছাড়িয়ে গেছেন। এই জন্যেই তিনি নির্র্দ্বিধায় উচ্চারণ করতে পেরেছেন। পৃথিবী আজ দু’ভাগে বিভক্ত। একদিকে শোষক, আর অন্যদিকে শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে। এই উচ্চারণ শুধু দেশে নয়; বিদেশ থেকেও তাঁর জন্য খ্যাতি ও পুরস্কার এনে দিয়েছিল। তিনি জুলিও কুরি আর্ন্তজাতিক শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন। সুতরাং তিনি এই দেশের শোষিত নির্যাতিত সাধারণ মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন শোষিতের গণতন্ত্র। এই উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়েই তিনি বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ (বাকশাল) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অথচ বাহিরে তখন তাঁর একদলীয় শাসন সেই বাকশালে যোগদানের জোয়ার বইছে। বঙ্গবন্ধু এই গণজোয়ার দেখে এতটাই আশান্বিত হলেন যে, তাঁর নিরাপত্তার কথাও ভুলে গেলেন। ভুলে যাবারই কথা। কারণ তিনি মানুষের এই বাহ্যিক রূপটিকে বিশ^াস করেছিলেন। এরই সুযোগ গ্রহণ করল নিষ্ঠুর ঘাতকের দল। ১৯৭৫ সনের ১৫ই আগষ্ট স্বপরিবারে নিহত হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই টুঙ্গিপাড়ায় যেখানে তিনি জন্মেছিলেন, শৈশব কাটিয়ে ছিলেন সেখানে তাকে নিয়ে গিয়ে কবর দিল ঘাতকেরা। রীতি রক্ষার জন্য কয়েকজন মুসল্লী ছাড়া তখন তাঁর কবরের পাশে আর কেউ উপস্থিত ছিল না। তাঁর পরিবারের কেউতো থাকার কথা নয়। কারণ বঙ্গবন্ধুর দুই জন মেয়ে বিদেশে থাকার জন্য বেঁচে গিয়েছিলেন।

সেই শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা তো তখনও বিদেশে। তাঁর দলের কেউ, তাঁর দেশের কেউ, না, কেউ না। একটা শোক সভা, একটা শোক মিছিল, না, কিছুই হলো না। কি এমন অপরাধ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু? তাঁর অপরাধ যদি এতটাই জঘন্য ছিল তাহলে তাঁকে বঙ্গশত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হলো না কেন? আর তাঁর দোষে কেনই বা তাঁর শিশু পুত্রসহ পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়-স্বজনকে নির্বিচারে হত্যা করা হলো? যদি কেউ বলেন গণতন্ত্র হত্যাকারী, অত্যাচারীর এমনি শাস্তি হওয়া উচিত। তাহলে আমি বলবো যে, গণতন্ত্রতো আরো অনেকে হত্যা করেছে তাদের বেলায়? আর তাঁকে যেভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছে; তা শুধু অমানবিক বর্বরতা নয়; চরম স্বেচ্ছারিতাও। এতে গণতন্ত্রের নয়; স্বৈরাচারেরই বিজয় ঘোষিত হয়েছে। এসব কথা আমি আপনাদের কাছে এই জন্যই বলছি যাতে আপনারা বুঝতে পারেন যে, আমি এমন একজন রাজনৈতিক নেতার জীবন কাহিনী বলছি যাকে তাঁর দেশের মানুষ পরম বন্ধু বলেই গ্রহণ করেছিল। কিন্তু বিনা বিচারে তাঁকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে; চরম শত্রুকেও কেউ এমনভাবে হত্যা করে না। তবে এই কথা ঠিক যে, ঘাতকেরা তাঁকে হত্যা করতে পারেনি; তাঁর নশ্বর দেহটাকে শুধু দুরে সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বাংলার কোটি কোটি সাধারণ মানুষের অন্তরে তিনি চিরদিন ‘বঙ্গবন্ধু’ রূপে বিরাজ করবেন।
(৩) : ১৫ আগষ্টের ভোরে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বাংলাদেশের স্থপতি বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ বাস ভবনে সেনা বাহিনীর কতিপয় উচ্চাভিলাসী বিশ্বাসঘাতক অফিসারদের হাতে নিহত হন। সেদিন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনীর মহিয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা, বঙ্গবন্ধুর জৈষ্টপুত্র মুক্তিযোদ্ধা লেঃ শেখ কামাল, পুত্র লে শেখ জামাল, কনিষ্টপুত্র শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধু সোলতানা কামাল ও রোজি জামাল, বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ নাসের, ভগ্নিপতি ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর কন্যা বেবী সেরনিয়াবাত, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, দৌহিত্র সুকান্ত আব্দুল্লাহ বাবু, ভ্রাতুষ্পুত্র শহীদ সেরনিয়াবাত, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, বঙ্গবন্ধুর সামরিক সচিব কর্ণেল জামিল আহমেদ এবং চৌদ্দ বছরের কিশোর আব্দুল নঈম খান রিন্টুসহ ১৭জনকে ঘাতকেরা হত্যা করে।

১৯৭৫ সালে ১৫ আগষ্ট মহামানব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ হবার পর দেশে সামরিক শাসন জারী হয়। গণতন্ত্রকে হত্যা করে মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। শুরু হয় হত্যা, ক্যু এবং ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। কেড়ে নেয় জনগণের ভাত ও ভোটের অধিকার।

বিশে^ মানবাধিকার রক্ষার জন্য হত্যাকারীদের বিচারের বিধান রয়েছে কিন্তু বাংলাদেশে জাতির জনকের আতœস্বীকৃত খুণীদের বিচারের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ২৬শে সেপ্টেম্বর এক সামরিক অধ্যাদেশ (ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স) জারী করা হয়। জেনারেল জিয়াউর রহমান সামরিক শাসনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স নামে এক কুখ্যাত কালো আইন সংবিধানে সংযুক্ত করে সংবিধানের পবিত্রতা নষ্ট করে। খুণীদের বিদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরী দিয়ে পুরস্কৃত করেন।

(৪) : ১৯৯৬ সালের ২৩জুন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর ২ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের সদস্যগণকে হত্যার বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়। ১২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়। ১লা মার্চ ১৯৯৭ইং ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ হাজী গোলাম রসুল ৭৬ পৃষ্টার রায় ঘোষণায় ১৫জনকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন। ১৪ নভেম্বর ২০০০সালে হাইকোর্টে মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলী দুই বিচারক বিচারপতি মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং বিচারপতি এবিএম খাইরুল হক দ্বিমতে বিভক্ত রায় ঘোষণা করেন। এরপর ৩য় বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম ১২জনের মৃত্যুদন্ড বহাল রাখার সিদ্বান্ত দেন। এরপর ৫জন আসামী আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করে। ২০০২ ইং হইতে ২০০৬ইং পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় মামলাটি কার্য তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে শুনানীর জন্য বেঞ্চ গঠিত হয়। ২০০৯ সালে ২৯দিন শুনানীর পর ১৯ নভেম্বর প্রধান বিচারপতিসহ ৫জন বিচারপতি রায় ঘোষণায় আপিল খারিজ করে ১২জনের মৃত্যুদন্ড বহান রাখেন। ২০১০ সালের ২রা জানুয়ারী আপিল বিভাগে আসামীদের রিভিউ পিটিশন দাখিল এবং ৩দিন শুনানী শেষে ২৭ জানুয়ারী ৪ বিচারপতি রিভিউ পিটিশনও খারিজ করেন।

এদিনই মধ্যরাতের পর ২৮ জানুয়ারী ৫ ঘাতকের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। ঘাতকদের এক জন বিদেশে পলাতক অবস্থায় মারা যায়। করোনাকালে ভারত হতে পালিয়ে আসা মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আরেকজন আসামীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর এই হত্যাকান্ডের বিচার বাস্তবায়িত হল। এই নৃশংস হত্যাকান্ডের মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত অবশিষ্ট আসামী এখনো বিদেশে আ্তœগোপনে রয়েছে। তাদের দোসরেরা এখনো নানা কৌশলে জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করার গোপন পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই জাতীয় শোক দিবসের অঙ্গিকার হোক বিদেশে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর ৬জন খুনীকে কুটনেতিক তৎপরতার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে কলংকমুক্ত করা হোক।
আমি আশা করি, এখন বঙ্গবন্ধু বেঁচে না থাকলেও তাঁরই সুযোগ্য অনুসারী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এবং জাতিকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর দেখা স্বপ্ন পূরণ করতে শুরু করেছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে এদেশের সর্বস্তরের জনসাধারণকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পতাকা তলে ঐক্যবদ্ধ থাকার সবিনয় আহবান জানাচ্ছি।

(প্রিয় পাঠক, আমি ১৯৬৬ সন থেকে দীর্ঘ ৫৪টি বছর আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। কথায় এবং কাজে কারো মনে আঘাত দিয়ে থাকলে আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।)

পরিশ্রম আঘাত আর ত্যাগেই যার জীবন

Sultan Ahamed TEKNAF TODAY - সীমান্তের সর্বশেষ খবর

(সোলতান আহমদের ছবি আছে)

সোলতান আহমদ
মুক্তিযোদ্ধা (মুজিব বাহিনী)
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ
হ্নীলা ইউনিয়ন শাখা, টেকনাফ, কক্সবাজার। ###