ফলোআপ : অজ্ঞাত লাশটি মিয়ানমারের হাফেজ ওসমানের, ইয়াবার কোটি টাকার লেনদেনে খুন : দাবী স্বজনদের

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago
নিহত ওসমান বামে ও ইয়াবা গডফাদার খাইর হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : টেকনাফে মেরিন ড্রাইভ হতে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির মৃতদেহ সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার সুত্রধরে এই ঘটনার রহস্য উম্মোচন করে দীর্ঘদিনের ইয়াবা ব্যবসার লেনদেন পরিশোধ না করতেই পরিকল্পিতভাবে এই নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবী করেছে নিহতের স্বজনরা।

স্বজনদের বক্তব্য ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১০বছর আগে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের পেরানপুরের নুর মোহাম্মদের পুত্র হাফেজ ওসমান (২৪) টেকনাফ সদর ইউপির মহেশখালীয়া পাড়ার মৃত মুসা আলীর পুত্র খাইর হোছনের বাড়িতে লজিং থাকত। উক্ত বাড়িতে ৩বছর অতিবাহিত হওয়ার পর খাইর হোছন এবং তার স্ত্রী মুঠোফোনে মিয়ানমারে হাফেজ ওসমানের পরিবারের সাথে ঘণিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরই সুত্রধরে সাগর উপকূলীয় এলাকা দিয়ে গত ৭ বছর পূর্ব হতে ইয়াবার চালান খালাস করতে থাকে। ইয়াবা ব্যবসায় উপরি আয়ের সুযোগে বার্মাইয়া হাফেজ ওসমানকে বাংলাদেশী ভোটার তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করেন। চট্টগ্রামে একটি ফ্লাট বাড়ি কিনতে সহায়তা করে। এখন হাফেজ ওসমান বাংলাদেশী পরিচয়ে ইয়াবা কারবার ও হুন্ডি ব্যবসা করেই গাড়ি-বাড়ি ও নগদ ৩ কোটির অধিক টাকার মালিক।

এদিকে টেকনাফে মাদক বিরোধী অভিযান জোর থাকার কারণে মিয়ানমার হতে আসা ইয়াবার চালান লুটপাট, খোয়া যাওয়া এবং আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার কারণে মিয়ানমার হতে আনা মাদকের চালানের বকেয়া টাকা দাবী করলে দু’জনের মধ্যে সাপে-নেউলের সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। খাইর হোছন মোটাংকের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে গত দু’মাস আগে হাফেজ ওসমানকে হত্যার হুমকি দিয়ে গোপন করে ফেলে। পরে ওসমানের মা-বাবা, ভাইয়েরা ওসমানকে প্রাণে রক্ষার্থে খাইর হোছনের নিকট প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে এবং আবারো ব্যবসা করার প্রতিশ্রæতি দিয়ে ফিরিয়ে আনে। এই কারণে গত ১১ জুলাই ভোররাতে সাড়ে ৩লাখ ইয়াবার চালান খাইর হোছনের নিকট পাঠানো হয়। এই ইয়াবার চালানের বকেয়া টাকা দাবী করলে হাফেজ ওসমানকে খুনের হুমকি দেয়। এই হুমকির পর ১৪জুলাই ভোর সকালের দিকে টেকনাফ সদর ইউপির সাগর উপকূলীয় মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন সাগর উপকূলে স্থানীয় লোকজন এবং জেলেরা পরিত্যক্ত এক ব্যক্তির মৃতদেহ দেখতে পেয়ে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশের একটি দল মৃতদেহ উদ্ধার করে পোস্ট মর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন বলে পুলিশ সুত্র সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

এদিকে স্থানীয় গোপন সুত্রের দাবী, নিহত হাফেজ ওসমান দীর্ঘদিন ধরে খাইর হোছনের বাড়িতে অবস্থান করে ইয়াবা ও হুন্ডি বাণিজ্য চালিয়ে আসছিল। যা তার ব্যবহৃত ল্যাপটপ এবং মোবাইলে এসব অপরাধে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।

নিহত হাফেজ ওসমানের বড় ভাই সেলিমের দাবী, ইয়াবা গডফাদার খাইর হোছন ভাড়াটে লোকজন দিয়ে অথবা নিজের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাই হাফেজ ওসমানকে খুন করে ইয়াবা চালানের শত কোটি বকেয়া টাকা পরিশোধ না করা এবং ওসমানের গাড়ি-বাড়ি ও ৩ কোটি নগদ টাকা ভোগ করার পরিকল্পনা নিয়ে এই নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে দাবী করে ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানান।

এই ব্যাপারে নিহত হাফেজ ওসমানের ভাই সেলিমের উত্থাপিত অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত খাইর হোছনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য বার বার চেষ্টা করেও সে ফেরারী থাকায় কোন ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে শাহপরীর দ্বীপ হতে শামলাপুর পর্যন্ত সাগর উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদকের এই অপতৎপরতা চালিয়ে আসায় আইন-শৃংখলা বাহিনীর সাড়াঁশি অভিযানের মধ্যেও তাদের থামানো যাচ্ছেনা।
yyyyyyyyyyyy TEKNAF TODAY - সীমান্তের সর্বশেষ খবর
উল্লেখ্য মঙ্গলবার ভোরে জেলেদের কাছ থেকে খবর পেয়ে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের মহেষখালীয়া পাড়া পয়েন্ট থেকে পুলিশ গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে অজ্ঞাত হিসাবে মর্গে প্রেরন করেন।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে কে বা কারা খাইর হোসেনের বাড়িতে আগুন দেয় বলে জানায় স্থানীয়রা। এব্যাপারে নিহতের স্বজনদের দাবী ওসমান হত্যার পর পাওনা টাকা না দিতে এটিও খাইর হোসেনের একটি পরিকল্পিত নাটক হতে পারে।