চকরিয়ায় মাদক বিক্রিতে বাঁধা দেয়ায় কলেজ শিক্ষার্থীসহ ৬জনের নামে উল্টো মামলা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া : চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নে মাদক বিক্রিতে বাঁধা দেয়ায় এলাকার সাধারণ লোকজনকে ঘায়েল করতে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ ৬জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চরম আতঙ্কে ভূগছেন ভুক্তভোগীরা। মামলার জেরে এলাকার লোকজন ফুঁসে উঠেছে। এতে যে কোন মুহুর্তে এলাকায় বড় ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী লোকজন সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন প্রশাসনের কাছে তদন্তপূর্বক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বালুরচর ও ষোলহিচ্ছা এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁিক দিয়ে দিব্যি মরণনেশা ইয়াবা ও মাদক বিক্রি করে আসছেন ওই এলাকার মনজুর আলমের ছেলে ছাদেক। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ও তার পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডে বখাটে তরুণ যুবকের নিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করে এ অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তার এ ধরণের কর্মকান্ডে পুরো এলাকাবাসী অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। ছাদেকের অনৈতিক বাণিজ্যের এলাকায় মাদকে আসক্ত হয়ে উঠতি তরুণ যুবকরা দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসি অভিযোগ তুলেছেন, মরণনেশা ইয়াবা টাকা জোগাড় করতে এলাকায় ঘটছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মতো নানা ধরণের ঘটনা। ডুলাহাজারা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ নুরুল আমিন তার নয়টি ওয়ার্ডকে মাদকমুক্ত রাখতে স্থানীয় তরুণ যুবক ও সামাজিক সংগঠনের দায়িত্বশীল ব্যক্তি দিয়ে প্রতি ওয়ার্ডে সমাজ কমিটি গঠন করে। যেই জায়গায় মাদক বিক্রির কথা শুনা যাবে ওই জায়গায় মাদক বিক্রিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে সামাজিক ভাবে প্রতিরোধ করার ঘোষনা দেন তিনি। এরই আলোকে প্রতিটি পাড়া-মহল­ায় তরুণ যুবকরা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে ডুলাহাজারা বালুরচর ও ষোলহিচ্ছা এলাকায় মাদক বিক্রেতা ছাদেকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়।
সর্বশেষ গত ২৪ এপ্রিল ডুলাহাজারাস্থ ষোলহিচ্ছা এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করা খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে ছাদেককে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এ সময় স্থানীয়দের সাথে তার কথা কাটাকাটি ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করে তাকে মারধরের ঘটনা সাজিয়ে গত ২৬ এপ্রিল ছাদেক বাদী হয়ে ৬জনকে আসামী করে চকরিয়া থানায় মামলা নং-৫১ একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে আসামী করা হয়েছে, ডুলাহাজারাস্থ ৫নম্বর ওয়ার্ডের ষোলহিচ্ছা এলাকার নুরুল আলমের ছেলে মীর কাসেম, একই এলাকার মনজুর আলমের ছেলে আরিফুল ইসলাম, আবু তাহেরের ছেলে জিয়াবুল করিম, নুরুল আলমের ছেলে মোকাদ্দেছ, মনজুর আলমের ছেলে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ওয়াহিদুর রহমান ও মৃত গুরা মিয়ার ছেলে নুরুল আলমকে।
ভুক্তভোগী মামলাটির আসামি আরিফুল ইসলাম বলেন, ডুলাহাজারাস্থ বালুরচর ও ষোলহিচ্ছা এলাকায় মনজুর আলমের ছেলে ছাদেকসহ কয়েকজন যুবক দলবদ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছে। এতে আমরা প্রতিবাদ করায় এবং মাদক বিক্রিতে বাঁধা দেয়ায় আমাকেসহ ৬জনের বিরুদ্ধে উল্টো মিথ্য মামলা দায়ের করেছেন। এমনকি ওই মামলায় কলেজ পড়ুয়া ছাত্রকেও আসামী করা হয়। মামলার স্বাক্ষীদের যোগসাজসে নাটকীয় ভাবে আমাদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে হয়রানী করা হচ্ছে।
আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, ছাদেককে মারধরের ঘটনাটি বানোয়াট। এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান আলহাজ নুরুল আমিন ও ডুলাহাজারা ৫নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নুরুল আবচার অবগত রয়েছে। ছাদেক মিথ্যা মামলা করে এখনো আমাদের বিরুদ্ধে তার সাঙ্গপাঙ্গরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকির পাশাপাশি নানা ভয়ভীতি ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে ভুক্তভোগী জানান। তিনি এ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনার মামলাটি সুষ্ট তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানতে চাইলে ডুলাহাজারা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ নুরুল আমিন বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা একটি ঘটনাকে প্রভাবিত করে এলাকার নিরীহ ব্যক্তিকে জড়িয়ে মামলাটি করা হয়েছে। মাদক বিক্রি কাজে বাঁধা দেয়ায় মূলত এ মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদেরকে হয়রানী করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে ছাদেক হোছাইন একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী। থানার মধ্যে তার বিরুদ্ধে যথেষ্ট ডকুমেন্ট রয়েছে। পুলিশের অভিযানে তাকে কয়েকবার আটক করা হয়েছিল। মুছলেখা দিয়ে থানা থেকে ছাড়া পাওয়ার পর পরই পুনরায় সে মাদকে জড়িয়ে যায়। এ মামলাটি সুষ্টু ও নিরপেক্ষ ভাবে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে তিনি আহবান জানান। #