এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :
চকরিয়ায় পুলিশের সাবেক সদস্য ইদ্রিচ মিয়ার (৬০) উপর দফায় দফায় হামলা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ওই পুলিশ পরিবারের সদস্যদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। শনিবার স্থানীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে এসব লিখিত অভিযোগ তুলে ধরেন নির্যাতনের শিকার সাবেক পুলিশ সদস্য ইদ্রিচ মিয়ার স্ত্রী রুপজাহান বেগম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার স্বামী ইদ্রিচ মিয়া তার পৈত্রিক ও ক্রয় সুত্রে চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা মৌজায় বিএস ৮৪ নং খতিয়ানের বিএস ৩২৮ দাগে ২৫ শতক জমির মালিক হয়। তার মধ্যে ১৪.৩৩ শতক জমিতে নিজেরা মাকের্ট নির্মাণ করি। ৪.৫০ শতক জমি নিয়ে গ্রান্ডপ্রিক্স নামের ডেভলাপার কোম্পানীর এমডি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার উত্তর রামপুর কুতুবদেওর গোল এলাকার সরোয়ার কামালের সাথে ডেভলাপার চুক্তিতে আবদ্ধ হই। চুক্তি অনুয়ায়ী ডেভলাপার কোম্পানী আন্ডার গ্রাউন্ডসহ চার তলা বিল্ডিং নির্মাণ করে। কিন্ত তারা স্থানীয় একই খতিয়ানের অংশিদার মৃত আব্বাছ মিয়ার পুত্র ছলিম উল্লাহগংদের যোগসাজসে আমার নির্মিত আমেনা শপিং কমপ্লেক্সের দোকান ও বাকি জমি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। উক্ত জমি নিয়ে চকরিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে অপর ১১২/০৭ মামলা চলমান ছিল। কিন্তু মামলার বাদী আব্বাছ মিয়ার স্ত্রী ছলেমা খাতুন মামলা চালানোর আবশ্যকতা নাই মর্মে ওই মামলা প্রত্যাহার করে নেয়।
তিনি লিখিত বক্তব্যে আরো দাবী করেন, প্রতিপক্ষ আব্বাছ মিয়া তার ওয়ারিশান ও খরিদা সুত্রে চিরিঙ্গা মৌজার বিএস একই নং খতিয়ানের একই দাগে সাড়ে ৩৯ শতক জমির মালিক হয়। তিনি রেজিঃযুক্ত সাব কবলা দলিলমূলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে প্রায় ৪৭ শতক জমি বিক্রি করে নিঃস্বত্ববান হয়ে যান। তিনি প্রাপ্ত জমির অতিরিক্ত সাড়ে ৭ শতক জমি বিক্রি করেন।
এছাড়া গ্রান্ডপ্রিক্স ডেভলাপার কোম্পানী সাথে আমাদের চুক্তি অনুযায়ী ২ বছরের মধ্যে মার্কেট নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও অদ্যবধি নির্মাণ কাজ শেষ করেনি। এমনকি যেসব দোকানের কাজ সম্পন্ন হয়েছে সেগুলো চুক্তি অনুযায়ী বন্টন ও কাগজপত্র সম্পাদন করছেনা। উল্টো ডেভলাপার কেম্পানী ওইসব দোকান ও মার্কেটের জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ভুঁয়া দলিল সৃজনপূর্বক এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি ও দখলবাঁজ চক্রের যোগসাজসে মার্কেটে নির্মিত দোকান দখল করতে ইতিপূর্বে ইদ্রিচ মিয়ার উপর কয়েকবার হামলা চালায়। এমনকি ওই ডেভলাপার কোম্পানী রফিক নামের এক সন্ত্রাসী ব্যক্তিকে কেয়ারটেকার হিসেবে নিয়োগ দেয়।
সর্বশেষ গত ১৪ মে রবিবার বিকাল ৩টার দিকে চকরিয়া বিদ্যুৎ অফিসের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজসে জমির মালিক বিহীন মৃত আব্বাছ মিয়ার পুত্র ছলিম উল্লাহ ডেভলাপারের লোকজনসহ আমেনা শপিং মার্কেটে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে যায়। এতে ইদ্রিচ মিয়া বাঁধা দিতে গেলে পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা ছলিম উল্লাহর নেতৃত্বে একদল ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী আমার স্বামী উদ্রিচ মিয়ার উপর হামলা চালায়। এসময় সন্ত্রাসীরা তাকে মার্কেটে নিচ তলার একটি কক্ষে আটকে রেখে শ্বাসরোধ করে হত্যা চেষ্টা চালায়। পরে ওই কক্ষে তাকে তালাবদ্ধ করে রাখে। পরে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন পুলিশে খবর দিলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ১৬ মে আমি বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় ছলিম উল্লাহ গংদের আসামী করে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করি। পরে প্রতিপক্ষের লোকজন ডেভলাপারের সাথে আঁতাত করে আমার স্বামী আহত ইদ্রিচ মিয়ার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো দাবী করেন, তার কোন পুত্র সন্তান না থাকায় চার কন্যা সন্তান নিয়ে প্রতিপক্ষর হুমকিতে আতংকে দিনানিপাত করছেন। তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনের সুষ্ট তদন্তপূর্বক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
