টেকনাফের নাইট্যং মুড়া’র (নে টং পাহাড়) আগুন নিয়ন্ত্রণে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

টেকনাফ টুডে ডটকম |
টেকনাফের নাইট্যং মুড়া’র (নে টং পাহাড়) আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ। টেকনাফ রেঞ্জেরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন রাতে টেকনাফ টুডে ডটকমকে জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রনে অানা সম্ভব হয়েছে। তবে তখনও কিছু কিছু জায়গায় ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে টেকনাফের নে টং পাহাড়ে আগুন লাগিয়ে দেয় অজ্ঞাত দূর্বৃত্তরা। আগুনে একশত একর সামাজিক বনায়ন ও পশু খাদ্য বাগান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। টেকনাফ উপজেলার পৌরসভা সংলগ্ন নুর আহমদ ঘোনা, নাইট্যংপাড়া ও বিজিবি সংলগ্ন পাহাড়সহ অন্তত ৪০ টি পয়েন্টে ৮ মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা থেকে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। বাতাসের তীব্রতায় আগুন মুহুর্তে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন, বনবিভাগ ও বন পাহাড়া দলের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। আগুনে লাখ লাখ চারা গাছ, বন্য প্রাণীসহ শতশত উপকারভোগীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীকে সতর্কবস্থায় রাখা হয়েছে।

খবর পেয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রবিউল হাসান, সহকারি কমিশনার (ভূমি) প্রণয় চাকমা ও রেঞ্জ কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন পাহাড়ে ছুটে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় ভিলেজার, সামাজিক বনায়নের অংশিদার ও দমদমিয়া ন্যাচার পার্ক বন পাহারা দলের সদস্যদের দিয়ে চেষ্টা করছেন। বিকাল ৫ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হয়নি।

টেকনাফ উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন জানান, হঠাৎ করে সকালের দিকে দূর্বৃত্ত্বরা পাহাড়ের ৪০ টি পয়েন্টে আগুন দিয়েছে। এতে ২০১৫-১৬ সনে সৃজিত সামাজিক বনায়নের ৭৫ একর ও ২৫ একর পশু খাদ্য বাগানসহ প্রাকৃতিকভাগে বেড়ে উঠা হাজার চারা গাছ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বন্য পশু-পাখি ও উপকার ভোগীরা। কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সহকারি কমিশনার (ভূমি) প্রণয় চাকমা জানিয়েছেন, দূর্বৃত্ত্বের আগুন প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা গাছ পালা পুড়ে গেছে। পাশাপাশি সৃজিত বাগান ও পশু-পাখিদের আভাসস্থল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বাতাসে তীব্রতা বেশী থাকায় আগুন নেভানো সম্ভব হচ্ছেনা। তবে বনকর্মীদের দিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যারা পাহাড়ে আগুন ধরিয়েছে তাদের খোঁজ নিয়ে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রবিউল হাসান জানান, পাহাড়ের পাদদেশে বসতি রয়েছে। আগুনের কবল থেকে এসব ঘরবাড়ী রক্ষা এবং মানুষের জানমাল নিরাপত্তার স্বার্থে ফায়ার সার্ভিসসহ স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে তা নিভানো মুশকিল। নিয়ন্ত্রনে রাখতে বনকর্মীদের সতর্কাবস্থা এবং কারা আগুন লাগিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নাইট্যংপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল জানান, সকাল ১১টার দিকে পাহাড়ে আগুনের শব্দ পেয়ে দৌড়ে গিয়ে দেখি দাও দাও করে আগুন জ্বলছে। আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসি। পরে খবর পেয়ে প্রশাসন ও বনবিভাগ আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। কারা আগুন লাগিয়েছে দেখেনি বলে জানায় সে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ বছর ধরে মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা আবদুল হাকিম ডাকাত নে টং পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে এলাকায় ডাকাতি, খুন-গুম ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। তাকে নির্র্মূলে গত এক মাস ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা আন্দোলন ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। এমনকি উপজেলা পরিষদ ঘেঁেষ পুরান পল্লান পাড়ায় ওই হাকিম ডাকাতের বসত বাড়ীতে এলাকাবাসী হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে। ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী হাকিম ডাকাতকে তাড়াতে পাহাড়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে দিচ্ছেননা সংশ্লিষ্টরা।