উখিয়ায় বৈদ্যুতিক ফাঁদে বন্য হাতি হত্যা ; সংরক্ষিত বনে মাইলের পর মাইল পল্লী বিদ্যুতের অবৈধ সঞ্চালন লাইন

লেখক: সিরাজুল কবির বুলবুল, উখিয়া থেকে
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

কক্সবাজারের উখিয়ায় বৈদ্যুতিক ফাঁদে বন্য হাতি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে রাজাপালং ইউনিয়নের খয়রাতি পাড়ার রমজান আলী ঘোনা এলাকায় পাহাড়ের পাশে কৃষি জমিতে হাতিটির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা বন বিভাগকে খবর দেন। খবর পেয়ে বন বিভাগ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতি মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করেন পরে ময়নাতদন্তের পর হাতিটিকে মাটি চাপা দেয়া হয়েছে।

উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, সংরক্ষিত বনের পাশে একটি কৃষি জমিটি মৃত হাতিটি পড়ে ছিলে। হাতিটির মুখে জড়ানো ছিল বৈদ্যুতিক তার। এ থেকে ধারনা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শকে হাতিটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তিনি আরো জানান, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ হাতি মৃত্যুর দায় এড়াতে পারে না কারন বন বিভাগের অনুমতি না নিয়ে সংরক্ষিত বনে মাইলের পর মাইল বৈদ্যুতিক লাইন সঞ্চালন করেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। এঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ হোসেন জানান, আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী হাতিটি একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ হাতি।  য়নাতদন্তে প্রাথমিকভাবে হাতিটির মৃত্যুর জন্য বৈদ্যুুতিক শকসহ তিনটি কারন শনাক্ত করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারন জানা যাবে।

 

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যে কৃষি জমিটিতে হাতিটি মারা পড়েছে, শামসুল আলম নামে এক ব্যক্তি ওই জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। ধান রক্ষার জন্য সে জমিতে বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতে রেখেছিল বলে ধারনা করা হচ্ছে। তবে কয়েকদিন আগে সেই জমির ধান কেটে ফেলা হলেও কি কারনে বৈদ্যুতিক ফাঁদটি পেতে রেখেছিলেন তা নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারনা করছেন হয়তো হাতি মারার জন্যই সেখানে বৈদ্যুতিক ফাঁদ পাতা হয়ে থাকতে পারে।

অবৈধ বৈদ্যুতিক ফাঁদে বন্য হাতির মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের শেষ ভাগে খাবারের সন্ধানে হাতিটি লোকালয়ে প্রবেশ করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে তারা মাঠে বিশাল নিথর দেহ দেখতে পান। অনেকেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং ফসল বাঁচাতে মানুষ যে বিপজ্জনক ফাঁদ ব্যবহার করছে, সে বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে অবহেলা বা ইচ্ছাকৃতভাবে বন্যপ্রাণী হত্যা করলে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

 

পরিবেশ বাদী সংগঠন সবুজ আন্দোলনের কক্সবাজার জেলা সভাপতি নুরুল আমিন সিকদার ভূট্টো জানান, এই ভাবে নিষ্ঠুরতম প্রক্রিয়ায় বন্যহাতি হত্যা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। অনতিবিলম্বে
দুষ্কৃতকারীকে সনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী জানান তিনি।  এমনিতে রোহিঙ্গাদের কারনে উখিয়া টেকনাফে হাতির আবাসস্থল সংকোচিত হয়ে পড়েছে তার উপর বৈদ্যুতিক ফাঁদে হাতি হত্যা বন্ধ করা না হলে অচিরেই এই এলাকা থেকে হাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে সতর্ক করেন তিনি।