আমান উল্লাহ আমান, টেকনাফ :
সেন্টমার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগরে কয়েকটি ফিশিং ট্রলারে হানা দিয়ে লুটপাট চালিয়েছে জলদস্যুরা। এসময় জেলেদের মারধর ও গুলি চালায় জলদস্যূরা। এতে দুই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। এরা হচ্ছে কক্সবাজার রুমালিয়ারছড়া এলাকার পিটিআই স্কুল সংলগ্ন মৃত বশির আহমদের পুত্র মকবুল আহমদ মাঝি (৫০) ও উখিয়ার কুতুপালং এলাকার আবদুল হাকিমের পুত্র আবদুল শুক্কুর প্রকাশ কামাল।
সোমবার (২০ মার্চ) সকালে অন্যান্য ফিশিং ট্রলারের সহায়তায় সেন্টমার্টিন পৌঁছলে কোস্টগার্ড আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য টেকনাফ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
আহত মকবুল আহমদ মাঝি জানায়, কক্সবাজার নুনিয়ারছড়ার এফ বি মোজাম্মেলের নামে একটি মাছ ধরার ট্রলারে করে ১৪ জন জেলে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে বের হয়। শনিবার (১৮ মার্চ) সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ পশ্চিমে পৌঁছে রাত ৯ টারদিকে মাছ শিকারকালে জলদস্যুদের কবলে পড়ে। এসময় জলদস্যুরা টাকা, মোবাইল, মাছ লুট করে এবং জেলেদের রড দিয়ে পিঠিয়ে আহত করে। একপর্যায়ে জেলেদের উপর গুলিবর্ষন করে সটকে পড়ে জলদস্যূরা। এসময় মকবুল আহমদ মাঝির পিঠে, মাথায় এবং মুখমন্ডল ও আবদুল শুক্কুর প্রকাশ কামালের দুই পায়ে চরকা গুলি লেগে গুরুত্র আহত হয়। এসময় আশেপাশে থাকা অন্যান্য ফিশিং ট্রলারের জেলেদের ডাকাতির খবর জানালে তাদের সহায়তায় সোমবার (২০ মার্চ) সকালে জলদস্যুর কবলে পড়া ট্রলারটি সেন্টমার্টিন উপকূলে ভিড়ে কোস্টগার্ডকে অবহিত করে এবং কোস্টগার্ড প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আহতদের দ্রুত স্পীড বোট যোগে টেকনাফ হাসপাতালে নিয়ে আসে।
কোস্টগার্ড সেন্টমার্টিন ষ্টেশন সাব লেঃ আশমাদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার সকালে জলদস্যূদের কবলে পড়া জেলেরা সেন্টমার্টিন পৌঁছলে গুলিবিদ্ধ দুইজনসহ ৫ জনকে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্রে প্রেরন করা হয় এবং অপর পিঠিয়ে আহত করা ৯ জন জেলেদের সেন্টমার্টিনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এদিকে শনিবার রাত ১২টার দিকে সেন্টমার্টিনের পশ্চিমে শাহপরীর দ্বীপ বাজার পাড়ার মোঃ কায়সার ও মাঝের পাড়ার নুর হোসেনের মালিকানাধীন দু’টি ফিশিং ট্রলার জলদস্যূদের কবলে পড়ে লুটপাটের শিকার হয়েছে। এসময় জলদস্যুরা ট্রলারে থাকা মাঝিমাল্লাদের মারধর সহ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এসময় গভীর রাতে অন্যদিক থেকে একটি ট্রলার এসে আকস্মিক ট্রলার দুটিতে স্বশস্ত্র হানা দিয়ে জেলেদের মারধর করে এবং ট্্রলারে থাকা জাল ও অন্যান্য মালামাল লুট ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল করে নিয়ে দিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে সকালে ট্রলার দু’টি সাগরে অবস্থান করা অন্য ট্রলারের সহায়তায় সেন্টমার্টিন নৌ ঘাটে পৌঁছে।
ডাকাতি হওয়া ট্রলার মালিক মোঃ কায়সার জানিয়েছেন, ডাকাতরা তার ফিশিং ট্রলারে হামলা করে জাল ও মাছসহ প্রায় একলক্ষ টাকা পরিমাণের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এসময় ডাকাত দল জেলেদেরও মারধর করে।
শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা মৎসজীবি মোহাম্মদ কাসেম জানান, সম্প্রতি সাগরে ডাকাতরা বেপরোয়া ভাবে একের পর এক ট্রলারে ডাকাতি করে যাচ্ছে। ডাকাতের ভয়ে জেলেরা খুব আতংকে রয়েছে। অনেক জেলে সাগরে যেতে অনিহা প্রকাশ করে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে কোস্ট গার্ড শাহপুরী স্টেশন কন্টিনজেন কমান্ডার মোতালেব জানান, সাগরে দুটি ট্রলারে ডাকাতির খবর শুনেছি। এসময় জলদস্যুরা মালামাল লুট করে নিয়ে যায়, আমরা জেলে এবং ট্রলারের মালিকদের সাথে যোগাযোগ রেখে সম্ভব সহায়তা দিয়েছি। তবে বর্তমানে ট্রলার দুটির জেলেরা নিরাপদে রয়েছে এবং ট্রলার দু’টি সেন্টমার্টিন নৌ ঘাটে অবস্থান করছে।
