হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফে ২৫নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পারিবারিক কলহের জেরধরে দুই সন্তানের জননী এবং গর্ভবতী স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত ও জবাই করে খুনের পর পালিয়েছে ঘাতক স্বামী। খবর পেয়ে ১৬ এপিবিএন এসপি এবং টেকনাফ মডেল থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মৃতদেহ পোস্টমর্টেমের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়,২৫আগস্ট (শুক্রবার) সকাল ৯টারদিকে টেকনাফের ২৫নং আলীখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বøক-ডি/৬ এ নুর কামালের তালাবদ্ধ ঘরে শিশুর কান্না শুনতে পেয়ে জড়ো হয়ে লোকজন জড়ো হয়ে তালা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে দেখে নুর কামালের স্ত্রী, দুই সন্তানের জননী এবং ৪ মাসের গর্ভবতী আছিয়া খাতুন (২৩) এর রক্তাক্ত মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। স্বামী নুর কামাল (২৪) এর কোন ধরনের হদিস পাওয়া যায়নি। এতেই স্বামী খুন করে পালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, সকালে নুর কামাল চা দোকানে বেচা বিক্রিও করেছিল। কখন বাড়িতে এসে অঝোর বৃষ্টিতে এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে ঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়েছে। বিষয়টি ক্যাম্পে দায়িত্বরত ১৬এপিবিএন পুলিশকে অবহিত করা হয়। তখন পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে আছিয়ার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করা হয়।
এই ঘটনার খবর পেয়ে দুপুরের দিকে টেকনাফ ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোঃ হাসান বারী নুর এবং টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ সর্ঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। তারা এই হত্যাকান্ডের ক্লু উদঘাটনে বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলেন। এরপর মৃতদেহ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য কক্সবাজার মর্গে প্রেরণ করেন।
২৫নং ক্যাম্পের হেড মাঝি নুরুল আমিন জানান, সকাল সাড়ে ৮-৯টার মধ্যে প্রবল বৃষ্টিতে এই ঘটনা ঘটতে পারে। তবে কি কারণে এই ধরনের নৃশংস ঘটনা ঘটেছে তা জানা যায়নি। কিন্তু স্বামী পলাতক থাকায় পারিবারিক কলহে দুই সন্তানের জননী এবং গর্ভবতী আছিয়াকে স্বামী খুন করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মা হারিয়ে এতিম হয়ে যাওয়া দুই ছেলে-মেয়েকে মোচনী ক্যাম্পে নানার বাড়িতে নেওয়া হয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ সংবাদ মাধ্যমকে জানান,ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মৃতদেহ পোস্টমর্টেমের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। এই বিষয়ে মামলা দায়ের করা হলে তদন্ত স্বাপেক্ষে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ####
