হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়ায় মা*দ*ক রাজ্যে এখনো সক্রিয় ওরা ৫জনের চক্র

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৪ years ago

বিশেষ প্রতিবেদক : হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়ায় মাদক রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে ৫জনের নেতৃত্বে বিশেষ চক্র। এ চক্রের অপকর্মে এলাকার সাধারণ কিছু মানুষ চরমভাবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এছাড়াও বিভিন্ন পেশার মুখোশের আড়ালে এসব অপকর্মে তৎপর রয়েছে আরো ৪/৫টি চক্র।

ভূক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়,হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়া-ছোট লেচুয়াপ্রাং এলাকায় স্থানীয় রফিক মিস্ত্রীর ছেলে আব্দুল মতলব প্রকাশ পুতিয়া মিস্ত্রি, মোহাম্মদ জলিলের পুত্র মোঃ ইব্রাহীম, জাফর আলমের পুত্র পারভেজ, আব্দুল হাকিমের পুত্র রায়হান উদ্দিন এবং জকির মিস্ত্রীর পুত্র ইমরানের সমন্বয়ে একটি চক্র বিভিন্ন কৌশলে মাদকের চালান সংরক্ষণ, সরবরাহ ও পাচারে লিপ্ত রয়েছে।

এই চক্রের কয়েকজন সদস্য রোহিঙ্গা বংশোদ্ভুত হওয়ায় রোহিঙ্গা মাদক কারবারীদের সাথে তাদের সখ্যতা রয়েছে। ক্যাম্প ও ভাড়া বাসায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা মাদক কারবারীরা আব্দুল মতলব প্রকাশ পুতিয়া মিস্ত্রি এবং মোঃ ইব্রাহীমের নিকট মাদকের চালান পৌঁছে দেন। তারা মিস্ত্রী পেশার আড়ালে এসব মাদকের চালান টিলা ও পাহাড়ি গর্তে মওজুদ রাখে। জাফরের পুত্র রিক্সা চালক পারভেজ অতি চালাক হওয়ায় দিনের বেলায় ভাড়া নেওয়ার অজুহাতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন স্থানের মাদক কারবারীদের সরবরাহ করে আসছে।

রায়হান ও ইমরানের দায়িত্ব হল অভিনব কৌশলে খেয়ে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনীর মাদক কারবারীদের নিকট পৌঁছে দেওয়া। নতুন কোন মাদকের চালান বাহক গেলে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও পাহারা দেওয়া। বহিরাগত কোন নতুন মাদকের চালান বহনকারী এলে সকাল ও সন্ধ্যার দিকে তাদের বরণ করে নিয়ে রাতে ভূরিভোজের পর সকালে ভিন্ন স্থান হতে গাড়িতে তুলে দেওয়া।

এছাড়াও বিভিন্ন প্রভাবশালীদের সাথে সখ্যতার সুযোগে খামারী, মাটি কাটার মাঝি, চাকরীজীবি ও কৃষি পেশার আড়ালে এখনো অনেকে এসব মাদকের অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে কারো ঝগড়া হলে অথবা কথা কাটাকাটি হলে প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও জুয়ার হাঁট বসিয়ে কথায় কথায় অবৈধ অস্ত্রের মহড়া শুরু হয়। তাই নিরীহ-সাধারণ নিরাপত্তার স্বার্থে এসব চক্রের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেনা।

মাদক দমন ও সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থার সদস্যরা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তাদের নিজস্ব গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। বিষয়টি মাদক কারবারীরা টের পেয়ে কৌশল পরিবর্তন করলেও তাদের অপকর্ম বন্ধ হয়নি।
তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় বিভিন্ন জনের নিকট জানতে চাইলে তাদের মাদক সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেন।

এই বিষয়ে উক্ত চক্রের সদস্য ইব্রাহীমের নিকট জানতে চাইলে বলেন, উক্ত অভিযোগের বিষয়টি শুনামাত্রই মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন। তাই তার বক্তব্য বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি।

এলাকার খেটে-খাওয়া সাধারণ মানুষ, সন্ধ্যার পর যাতায়াতকারী নারীরা মুখোশধারী এসব অপরাধীদের দ্রæত আইনের আওতায় আনার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। #####