হ্নীলায় ২২ দিন বন্ধের পর কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু : বিভিন্ন প্রকল্পে রোহিঙ্গা শ্রমিক ব্যবহারের অভিযোগ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

বিশেষ প্রতিবেদক :
টেকনাফের হ্নীলায় ২২ দিন বন্ধের পর অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় সৃজিত প্রকল্প কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। এতে বিভিন্ন প্রকল্পে দেশীয় শ্রমিকের পরিবর্তে রোহিঙ্গা শ্রমিক দিয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাগজে কলমে দেশীয় শ্রমিকের তালিকা ঠিক রেখে প্রকল্প সভাপতিরা অল্প টাকা দিয়ে রোহিঙ্গা শ্রমিক ব্যবহার করে এ কাজ চালিয়ে ব্যাংক থেকে নির্ধারিত বরাদ্ধকৃত সরকারী টাকা উত্তোলন করে যাচ্ছে।

গত ১৮ মার্চ হতে প্রকল্প মেয়াদ শেষ হওয়ায় কাজ বন্ধ ছিল বলে উপজেলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তবে ০৯ এপ্রিল পুনরায় কাজ শুরু হওয়ার খবরে হ্নীলা ইউনিয়নের ০৮টি প্রকল্প কাজ সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ০১নং ওয়ার্ড সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সভাপতি ফরিদা বেগমের প্রকল্পে ২৬ জন শ্রমিক পাওয়া গেছে। তাও উপজেলা পিআইও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কাজের শ্রমিক বলে স্বীকারুক্তি দিয়েছেন সভাপতি নিজেই।

এছাড়া ০২নং ওয়ার্ড সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সভাপতি ফরিদুল আলম মেম্বারের প্রকল্পে ১৬ জন শ্রমিক পাওয়া গেলেও বাকী ০৬টি প্রকল্পে বন্ধের পূর্বে তুলনামূলক কাজ হলেও ০৯ এপ্রিল কোন শ্রমিক পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে স্ব স্ব প্রকল্প সভাপতিদের সাথে কথা বলে জানা গেছেÑ উপজেলা অফিস থেকে প্রকল্প কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা কাজ বন্ধ রেখেছি। তবে পুনরায় শুরু হওয়ার বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি বলে কাজের শ্রমিক দেওয়া হয়নি। পরবর্তী নির্দেশনা আসলে আমরা কাজের শ্রমিক দেব।

এদিকে গত ১০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় হ্নীলা ৩নং ওয়ার্ড সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সভাপতি মহিলা মেম্বার নাসরীন পারভীন কবিরের প্রকল্পে সরজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে সবগুলো লেদা রোহিঙ্গা টালের শ্রমিক। এ সময় উপস্থিত শ্রমিক মাঝি বাদশা মিয়া বলেন- এ পর্যন্ত যে ক’দিন কাজ করেছে সব গুলো রোহিঙ্গা টালের শ্রমিক দিয়ে করেছে। কারণ হিসেবে জানতে চাইলে, সে বলে অল্প টাকার মজুরী দিয়ে দেশীয় শ্রমিক পাওয়া যায় না। তাছাড়া বেড়ীবাঁধের কাদা মাটি কাটতে রোহিঙ্গা শ্রমিকই প্রয়োজন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প সভাপতি নাসরীন পারভীন কবির বলেন- শুধু আমি কেন অনেকেইতো রোহিঙ্গা শ্রমিক দিয়ে কাজ করাচ্ছে। এ সময় উপস্থিত শ্রমিকদের মধ্যে ১২ জনের মত শ্রমিক পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে লেদা রোহিঙ্গা টালের ‘এ’ ব্লকের ১৭২ নং বাড়ীর আহমদ কবির, ১৭৫ নং বাড়ির মুহাম্মদ আইয়ুব, ১৮৩নং বাড়ীর মোহাম্মদ ছলিম, ১১৯ নং বাড়ীর শফি আলম, ১৭০ নং বাড়ির মুহাম্মদ ছালাম, ১১২ নং বাড়ীর ইলিয়াছ, ‘বি’ ব্লকের ১০১নং বাড়ীর রবি আলম, ১১৫ নং বাড়ীর মুহাম্মদ ছলিম, ১১০ নং বাড়ীর মোহাম্মদ হাশেম, ‘সি’ ব্লকের ১১১নং বাড়ীর ছৈয়দুল আমিন, ‘এফ’ ব্লকের ১৫নং বাড়ীর ছৈয়দ নুরসহ আরো কয়েকজন রোহিঙ্গা শ্রমিককে পাওয়া যায়। তারা সকলেই রোহিঙ্গা টালের বলে স্বীকার করে।

এছাড়া এ প্রকল্পে গত ০৫ দিনের কাজে ০২ দিন ২০ জন, ০২ দিন ১৫ জন ও ০১ দিন ৩০ জন শ্রমিক দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মাঝি এ প্রতিবেদককে জানান।

এভাবে পুরো ইউনিয়নের ০৮টি প্রকল্প কাজের কিছু কিছু প্রকল্পের কাজ মোটামুটি সন্তোষজনক হলেও কতিপয় জনপ্রতিনিধি কাজে রোহিঙ্গা শ্রমিক ব্যবহার করার কারণে সরকারের দেশীয় দারিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির আভিষ্ট্য লক্ষ্যটি পথভ্রষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গরীব জনসাধারণ তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয় এতে করে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত হওয়ারও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছে।

বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি দমন কমিশন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে আনার জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে হ্নীলা ইউনিয়নের দায়িত্ব প্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নুরুল আবছারের যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রকল্প মেয়াদ শেষ হওয়ায় সাময়িক কাজ বন্ধ ছিল। তবে কাজের রোহিঙ্গা শ্রমিক ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।