টেকনাফ টুডে ডেস্ক : টেকনাফে প্রশাসনের অব্যাহত ঘোর মাদক বিরোধী অভিযানের মধ্যেও হ্নীলায় পাহাড় ঘেঁষা কয়েকটি স্পটে এখনো সংঘবদ্ধ কৌশলী মাদক কারবারীদের অপতৎপরতা থামছেনা। তারা কৌশল অবলম্বন করে এখনো এই অপতৎপরতায় লিপ্ত থাকায় এখনো মাদকের চালানসহ আটকের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
বিভিন্ন মহলের সাথে আলাপ ও সরেজমিন এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, হ্নীলা ঊলুচামরী এলাকার আব্দুস সালাম ওরফে বঙ্গর পুত্র শফিউল আলম কালু, খোরশেদ আলম, মালয়েশিয়া প্রবাসী ইসমাঈলের স্ত্রী রেহেনা বেগম, পশ্চিম সিকদার পাড়ার নুরুল আমিনের পুত্র কায়সার, জকির মিস্ত্রীর পুত্র জয়নাল এবং পূর্ব পানখালী হোয়াকিয়া পাড়ার কয়েকজন মিলে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলে এখনো কৌশলে মাদকের চালান সংগ্রহ, হাত-বদলে লিপ্ত রয়েছে। এই মাদক কারবারে সংশ্লিষ্টরা এলাকার প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতা রেখে এখনো এই অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। টাকার প্রলোভনে পড়ে তাদের মাদকের চালান সরবরাহ করতে গিয়েই আনোয়ার পারভেজ নামে এক ব্যক্তি গত ১৫ ফেব্রæয়ারী হোয়াইক্যং র্যাবের হাতে আটক হয়। এই ঘটনার পর উক্ত ইয়াবা সিন্ডিকেটের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়লে মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য মোটাংকের টাকা নিয়ে লবিং শুরু করে। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর আবারো কৌশলী ভূমিকা নিয়ে এখনো মাদক কারবারে সম্পৃক্ত রয়েছে।
এদিকে কালুর শ্বাশুড় বাড়ি নয়াবাজার সাতঘরিয়া পাড়া এবং নানা বাড়ি হোয়াকিয়া পাড়া এবং ইয়াবা গডমাদার প্রবাসী ইসমাঈলের স্ত্রী রেহেনা খালা শ্বাশুড়ি হওয়ার সুবাদে হ্নীলা ষ্টেশনসহ বিভিন্ন স্থান হতে ইয়াবার চালান সহজে সংগ্রহ করা যায়। এসব মাদকের চালান সরবরাহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করার জন্য রয়েছে ৩/৪ জন বাহক। তারাই পাহাড়ি পথে ক্রেতাদের নিকট মাদকের চালান পৌঁছে দিচ্ছে। আর খোরশেদ আলম আরো কৌশলী হয়ে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, নারায়নগঞ্জ ও নরসিংদী হতে আগত ক্রেতাদের কৌশলে খাইয়ে পেটের ভেতরে করে এখনো পাচার অব্যাহত রেখেছে। এখনো সপ্তাহে ৩/৪ জন বহনকারী মাদকের চালান নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
উক্ত বিষয়ে অভিযুক্ত খোরশেদ আলমের নিকট জানতে চাইলে বলেন, উপরোক্তদের বিষয়ে আমি কোন ধরনের মন্তব্য করতে পারবনা। তবে আমি এখন এসব অপরাধের সাথে জড়িত না। হয়তো এলাকার কিছু শত্রæমহল আমাকে হয়রানির জন্য এসব কথা বলেছেন। এই বিষয়ে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না।
অপরদিকে মধ্যম হ্নীলার খারাংখালী-নয়াবাজার পয়েন্ট ছাড়াও দক্ষিণ লেদা মৌলভী পাড়ায় আশ্রয় নেওয়া বার্মাইয়া ব্ল্যাক মোঃ হোছন ওরফে মাছন বলীর মেয়ে জামাই, ক্রসফায়ারে নিহত ইয়াবা গডফাদার বার্মাইয়া শামসুর বোন জামাই, রোহিঙ্গা মৃত আবু ছিদ্দিকের পুত্র মৌলভী আনসার উল্লাহ এবং দমদমিয়ায় থাকা তার ভাই মৌঃ ইয়াছিনকে ব্যবহার করে পাহাড়ে অবস্থান নেওয়া স্বশস্ত্র ডাকাত দলের সাথে আতাঁত করে নাটমোরা পাড়া, রঙ্গিখালী, লেদা লামার পাড়া, মোচনী, নয়াপাড়া, জাদিমোরা ও দমদমিয়ার সীমান্ত সংলগ্ন দূর্গম পয়েন্ট দিয়ে মাদকের চালান খালাস করে আসছে বলে মাদক সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্রের দীর্ঘদিনের অভিযোগ। এসবে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে তার স্থানীয় ও রোহিঙ্গা সিন্ডিকেট সদস্য সম্পৃক্ত রয়েছে। উক্ত বিষয়ে মৌলভী আনসার উল্লাহর নিকট একাধিক বার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। এছাড়া লেদা, মোচনী, নয়াপাড়া, বৃহত্তর জাদিমোরার চিহ্নিত কতিপয় মাদক কারবারী এখনো এসব অপরাধে সক্রিয় রয়েছে।
এখন মিয়ানমার হতে মাদকের চালান আনার কৌশলেও পরিবর্তন এসেছে। মিয়ানমার হতে ১লাখ ইয়াবার চালান বাংলাদেশী ২লাখ টাকায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য শ্রমিক প্রস্তুত থাকে। রাতের অন্ধকারে এসব মাদকের চালান এনে বেড়িবাঁধ সংলগ্ন মৎস্যঁেঘর ও লবণ মাঠের শ্রমিকদের নিকট জমা দিয়ে যায়। এসব মাদকের চালান লুটপাট নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে থাকে। পরে সময় স্বাপেক্ষে এসব মাদকের চালান কারবারীদের নিকট পৌঁছে যায়। বিভিন্ন সংস্থার চলমান মাদক বিরোধী অভিযানের ধরা-ছোয়ার বাইরে থাকতে অনেক মাদক কারবারী কথিত সোর্সদের সাথে সখ্যতা রেখে চলে বলে কথা প্রচলিত আছে।
এই ব্যাপারে স্থানীয় সচেতন মহলের সাথে আলাপকালে জানায়, পুরো টেকনাফে পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান এবং সচেতনতামূলক প্রচারণার কারণে মাদকের তৎপরতা অনেক কমে এসেছে। এখন যৎসামান্য যা চলছে তা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক এবং প্রত্যেক গ্রামের কৌশলী গুটিকয়েকজন মানুষ এখনো এসব অপতৎপরতায় লিপ্ত বলে শুনা যায়। এখন বন সম্পদ উজাড় এবং নাফনদীতে মাছ শিকার বন্ধ থাকায় এলাকায় বেকার জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়েছে। মাদক চোরাচালান নির্মূল হলে সরকারীভাবে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা যায়।
আইন-শৃংখলা বাহিনীর একাধিক সুত্রের দাবী, মাদকসহ যেকোন অপরাধের পর্যায় জিরো টলারেন্স পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিভিন্ন স্পটে এখনো যারা মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত রয়েছে তাদের ব্যাপারে আইন-শৃংখলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তার জন্য সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রতি আহবান জানান। ###
