লামা সংবাদদাতা : লামায় নুনারবিল ঝিরি একপ্রান্তে আগ্রাসনের ফলে হাসপাতালপাড়া পয়েন্টে একটি গ্রামীন সড়ক বিলিন হয়ে গেছে। ঝিরির পাড় দখল করায় স্রোতে ভেসে যায় ইটের তৈরি একটি রাস্তা। ভাঙ্গনের কবলে রয়েছে একটি ব্রীজ। সরকারি ম্যাপ অনুযায়ী ঝিরি রক্ষা করার দাবী তুলেছে স্থানীয়রা।
লামা পৌরশহর ঘেঁসে মাতামুহুরী নদীমুখি নুনারবিল ঝিরি বেশিরভাগ অংশ দখলদারদের কবলে। দু’পাড় দখলের ফলে প্রবাহমান ঝিরিটি অস্তিত্ব হারাচ্ছে। পাড় দখল প্রতিযোগিতায় তুঙ্গে রয়েছেন স্থানীয় ব্যাবসায়ী ফরিদ উদ্দিন। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন একটু একটু করে ঝিরি দখল করে ফরিদ উদ্দিন গত কয়েক বছরে তার অংশে ঝিরির ৮০% অংশ ভরাট করে নিয়েছে। স্থানীয়রা লিখিত অভিযোগে জানান, এব্যাপারে ফরিদ উদ্দিনকে বাধা দিলেও সে অপ্রতিরুদ্ধ।
স্থানীয়রা জানায়, ফরিদ উদ্দিন এর অংশে বাঁশ দিয়ে শক্ত প্রতিরোধ দেয়ায়, অপর পাড়ের জনচলাচল সড়কটি বৃষ্টির ¯্রােতে তলিয়ে যায়। জানাযায়, পৌরসভার অর্থায়নে গেল অর্থ বছরে একটি ইটের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিলো। রাস্তাটি ক’দিন আগে তলিয়ে যাওয়ায়, চলাচলে স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমাকার ধারণ করেছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে দেখাযায়, দখলের ফলে দু’দিক থেকে ঝিরিটি সংকোচিত হয়ে এর তলদেশে আনুমানিক তিনফুট জায়গা দিয়ে পানি প্রবাহ হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এই ঝিরির তলদেশ একসময় ১৫-২০ ফুট ছিলো। দখলদারদের হাত থেকে ঝিরি রক্ষা করার দাবী করে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
লামা পৌর শহরের দক্ষিনে বিস্তৃত নুনারবিল গ্রামসহ, পশ্চিম ও দক্ষিনের পাহাড়ের পানি এই ঝিরি দিয়ে মাতামুহুরী নদীতে পতিত হয়। বারোমাস পানির প্রবাহ ছিলো ঝিরিটিতে। গত কয়েক দশকে স্থানীয় জোতদারদের দখল প্রতিযোগিতায় নুনারবিল ঝিরি সংকোচিত হয়ে, কোন কোন স্থানে এর অস্তিত্বও হারিয়ে গেছে। এর ফলে বর্ষার পানি নিস্কাশনে বাধাগ্রস্থ হয়ে সামান্য বৃষ্টিতে জনবসতিতে জলাবদ্ধতাসহ ঝিরির বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙ্গন শুরু হয়। ফলে দু’পাড়ের বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়ে।
ম্যাপ অনুযায়ী সরকারিভাবে পরিমাপ করে ঝিরির অবস্থান চিহ্নিত করে পানি প্রবাহের গতিপ্রকৃতি রক্ষায় সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসবেন, এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন স্থানীয়রা।
