ভুল প্রশ্নে অনিশ্চয়তায় সাবরাং ও নয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০ এসএসসি পরীক্ষার্থী

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

খাঁন মাহমুদ আইয়ুব, বিশেষ প্রতিনিধি :
টেকনাফে ভুল প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা দিল ২০ শিক্ষার্থী। এতে শিক্ষা জীবনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে উক্ত শিক্ষার্থীদের। এঘটনায় সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবসহ ৩জনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্র সচিরের বিরুদ্ধে। কক্সবাজারের টেকনাফ এজাহার সরকারী বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ২০২০ সালের ২০ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীকে ২০১৮ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে পরীক্ষা নেওয়ায় এ অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থী, শিক্ষক-অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গেলো ৩ ফেব্রæয়ারী এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে টেকনাফ এজাহার বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে (কেন্দ্র নং-২)’র মোট ১১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১৫ জন পরীক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রত্যেকেই নিয়মিত পরীক্ষার্থী। উক্ত কেন্দ্রের ১৪ নম্বর কক্ষে পরীক্ষার্থী ছিলো ৩০জন। এদের মধ্যে সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫জন ও নয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫জন। তৎমধ্যে সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ জন ও নয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের কাছে বিগত ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র নিয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। বিষয়টি পরীক্ষা চলাকালীন জানাজানি না হলেও পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা খারাপ হওয়ার কারনে পরীক্ষার্থীদের পরষ্পর আলোচনায় বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরে বিষয়টি কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের জানালেও তারা বিষয়টি গোপন রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার ৫ ফেব্রæয়ারী বিকালে ক্ষতিগ্রস্থ কয়েকজন পরীক্ষার্থীর অবিভাবক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের সাথে সাক্ষাতে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করলে তিনি এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন অভিভাবক।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ৬ ফেব্রæয়ারী কেন্দ্র সচিব একাডেমিক সুপারভাইজার নুরুল আবছার, কেন্দ্র সুপার এজাহার সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সাব্বির আহমদ, একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক (১৪নং) হল পর্যবেক্ষক আব্দুল আজিজ কে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।

এব্যাপারে কেন্দ্র সচিব নুরুল আবসারের কাছে জানতে চাইলে তিনি হল পর্যবেক্ষকের অবহেলায় এমনটি ঘটেছে বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, দায়িত্ব অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্ট ৩জন কে অব্যাহতি দিয়ে নতুন ৩ জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ ২০ জন পরীক্ষার্থীর বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে কয়েকজন পরীক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভুল প্রশ্নের কারনে পরীক্ষা অশানুরূপ হয়নি। তারা পরীক্ষা ফলাফল ও নিজেদের শিক্ষা জীবন নিয়েও শংকিত।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত২০১৮ সালে জেএসসি পরীক্ষায় একাডেমিক সুপার ভাইজার নুরুল আবসারের একই ভুলের কারনে টেকনাফ এজাহার সরকারী বালিকা ও শাহপরীরদ্বীপ হাজি বশির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিলো। পূনরায় একই ভুলের কারনে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে নেমে এসেছে হতাশা।

  • ভুল প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা