বিলুপ্তির ৮মাস পরেও চকরিয়া উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের নতুন কমিটি হয়নি ; ঝিমিয়ে পড়েছে সাংগঠনিক কার্যক্রম, বাড়ছে গ্রুপিং রাজনীতি!

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৪ years ago

এম.জিয়াবুল হক : ৮মাস যাবত নেই কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা ছাত্রলীগের কমিটি। ২০২১সালের ৮জুলাই সাংগঠনিক স্থবিরতা, গঠনতন্ত্র ও দলীশৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাÐ এবং মেয়াদোর্ত্তীণ হওয়ায় এ দুই ইউনিটের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এতে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। আগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনার পর ৮মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ছাত্রলীগের কমিটি গঠিত হয়নি। অসংখ্যবার কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিলেও এখনো তা আলোর মুখ দেখেনি।
ফলে উপজেলা ও পৌরসভা কমিটিতে পদপ্রত্যাশী নেতারা নিরাশ হয়ে পড়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরী হয়েছে হতাশা। কমিটি না হওয়ায় পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে সৃষ্ট গ্রুপিং এখন চরমভাবে প্রকাশ্যে এসেছে। গত তিন বছরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে একাধিকবার প্রকাশ্যে মারামারি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটেছে। এই নিয়ে পাল্টাপাল্টি মামলাও হয়েছে। এ বিরোধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কেউই মিটাতে পারেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় একযুগের কাছাকাছি সময়ে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা ছাত্রলীগের তিনটি কমিটি হলেও একটি কমিটিও পূর্ণাঙ্গ হয়নি। অনেকে দীর্ঘদিন ছাত্রলীগ করেও দলীয় পরিচয় পাচ্ছেন না। তাতে সাবেক কমিটির নেতারাও নিরাশ হয়ে রাজনীতির হাল ছেড়ে দিয়েছে। আবার অনেকে পাড়ি জমিয়েছে বিদেশে। অনেকে আবার ছাত্রলীগের রাজনীতির বয়স শেষ হয়ে গেছে।
তবে ২০১৮সালের ২১এপ্রিল চকরিয়া পৌরসভা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান ও সম্পাদক সোহেল রানা পারভেজ এর নেতৃত্বাধীন কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ।
উপজেলা ও পৌরসভা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে কমিটি নেই। যে সাতটি ইউনিয়নে কমিটি রয়েছে সেগুলোর মধ্যে কোনো ইউনিয়ন এক বছর বা তারও আগে মেয়াদোর্ত্তীণ হয়েছে। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে একটি কমিটিরও মেয়াদ নেই। সবশেষ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি য় ছিলেন মোহাম্মদ মারুফ ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আকিত হোসেন সজীব। অন্যদিকে পৌরসভা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা পারভেজ। ২০২১সালের ৮জুলাই উপজেলা ও পৌরসভা কমিটি বিলুপ্ত করার পর কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের কাছে পদপ্রত্যাশীদের জীবন বৃত্তান্ত জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান করেন। ৮মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ছাত্রলীগের দুই ইউনিটের কমিটি গঠিত হয়নি। অসংখ্যবার কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিলেও এখনো তা আলোর মুখ দেখেনি। ফলে পদপ্রত্যাশী নেতারা নিরাশ হয়ে পড়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরী হয়েছে হতাশা। কমিটি না হওয়ায় পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে সৃষ্ট গ্রুপিং এখন চরমভাবে প্রকাশ্যে এসেছে। গত তিন বছরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে একাধিকবার প্রকাশ্যে মারামারি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটেছে। এই নিয়ে পাল্টাপাল্টি মামলাও হয়েছে। এ বিরোধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কেউই মিটাতে পারেনি।
বেশিরভাগ ছাত্রলীগ নেতারা জানান, ২০০৬সাল থেকে ২০১৩সাল পর্যন্ত উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হায়দার আলী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন কাউছার উদ্দিন কছির। সর্বশেষ ২০১০সালে ওই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়। এরপর গত ১১বছরে ছাত্রলীগের আরও তিনটি কমিটি গঠিত হয়। এরপর কোনো কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। পদবঞ্চিত এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে রাজপথে আছি। কোনো পদ এখনো পাইনি। সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে নতুন কমিটি হওয়া প্রয়োজন। তবে প্রকৃত ছাত্রলীগ করে এমন নেতাদের দিয়ে কমিটি হোক।
চকরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হায়দার আলী বলেন, ‘যথাসময়ে কমিটি করা না হলে, নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে না। নতুন ছাত্রলীগের কর্মীরা কাজ করার সুযোগ পায়। অচিরেই জেলা ছাত্রলীগ উপজেলা ও পৌরসভা কমিটি ঘোষণা করুক, চকরিয়ায় আবারও ছাত্রলীগে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।
তিনি বলেন, ‘আমি যখন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। তখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ছিল। ২০১৩সালের পর থেকে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। ’
জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ‘৮মাস ধরে কমিটি নেই ঠিক। তবে আমরা জেলা কমিটি চাইছি আগে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে অন্য কমিটিগুলো করব।’ ‘যাঁরা মনেপ্রাণে ছাত্রলীগ করে তারা বিমুখ হবে না। যাঁরা বিমুখ হয়ে পড়েছে প্রকৃতপক্ষে তাঁরা ছাত্রলীগের রাজনীতিই করে না।’##