বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের একাংশে লেদার ঠিকাদার মোঃ আলমের ব্যাখ্যা ও প্রতিবাদ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

বার্তা পরিবেশক :: ২৫ অক্টোবর দৈনিক আজকের দেশ-বিদেশ পত্রিকায় “ বন্দুকযুদ্ধে নিহত মুফিজ আলমদের ৭ ভাইয়ের সিঙ্গাপুর পাড়ায় সাধারণের প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ ” এবং দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকায় “ টেকনাফে বন্দুক যুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত” শীর্ষক সংবাদসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত সংবাদে আমাকে ইয়াবা চোরাকারবারী হিসেবে পরিচিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক। তাই পাঠকদের সদয় জ্ঞাতার্থে আমাকে ইয়াবা কারবারী সাজানোর সাতকাহন তুলে ধরা হল।
সম্মানিত টেকনাফবাসীসহ জেলার সচেতনমহন মহল, নিশ্চয় আপনারা অবগত রয়েছেন টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদায় জামায়াত-বিএনপি অধ্যূষিত একটি মৃত বক্কর মেম্বার গ্রুপ আর একটি আওয়ামী লীগ সমর্থিত হাজী কাশেম গ্রুপ। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই দু‘পক্ষের মধ্যে হানাহানি, মারামারী, সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এমন কি প্রকাশ্য দিবালোকে আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আবুল কাশেমকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনা ঘটেছে। ২০০১ সাল হতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। প্রতিপক্ষ গ্রুপ আমাদের ঘায়েল করার জন্য বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন দপ্তরে নামে-বেনামে চোরাকারবারী, ইয়াবা পাচারকারী, সন্ত্রাসী, অস্ত্রবাজ, ডাকাত হিসেবে পরিচিত করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টায় লিপ্ত ছিল। পরবর্তীতে ১/১১ সরকারের দুই বছর শাসনের পর জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিপক্ষ গ্রুপ কিছুটা ক্ষান্ত হয়ে পড়ে।
আমি ২০০৮ সাল হতে আব্দুল্লাহ এন্টার প্রাইজ লিমিটেডের স্বত্তাধিকারী হিসেবে নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্প, লেদা রোহিঙ্গা বস্তি, বাহারছড়া শামলাপুর, উখিয়া, বালুখালী, থাইংখালীতে কর্মরত এনজিও সংস্থা মুসলিম এইড, আই্ওএম, এসিএফ, সলিডারিটিস, এনজিও ফোরাম, অক্সফার্ম, সেভ দ্যা চিলড্রেন, কোডেক, ইউএনএইচসিআর, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন সংস্থার ঠিকাদারী কাজ সম্পন্ন করে সরকারকে কর দিয়ে আসছি। আওয়ামী লীগ সরকার একাধারে ২য় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে সীমান্তে ইয়াবা চোরাচালান বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০১৫ সালের আগষ্টে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি তালিকা প্রকাশ করে। উক্ত তালিকায় প্রতিপক্ষের দায়েরকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে আমার নামটি চলে আসে। আমি উক্ত তালিকা চ্যালেঞ্জ করে স্বরাষ্ট্র সচিব বরাবরে আবেদন করলে বিষয়টি তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ঐ পৃথক তদন্তকারী দল গোপনে তদন্ত করে এবং আমার বৈধ ঠিকাদারী কার্য্যক্রম পর্যালোচনা করে একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। উক্ত প্রতিবেদনে আমি ইয়াবা চোরাচালানে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই আমি একজন বৈধ ঠিকাদার হিসেবে একটি পত্র দেন। যা এখনো আমার হাতে সংরক্ষিত রয়েছে। আমার যা সম্পদ রয়েছে তা সরকারকে ট্যাক্স দেওয়া এবং বৈধ। এর বাহিরে থাকলে আপনারা যেকোন মুর্হুতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দিয়ে তদন্ত করে দেখতে পারেন। আমি এলাকায় অবস্থান করে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করে আসছি। এতে একটি মহলের চক্ষুশুলে পরিণত হয়েছে। আর আমার বৈধ টাকা দিয়ে বিদেশ গিয়ে ধর্ম-কর্ম করলে অসুবিধে কোথায় ?
আমি জাতির বিবেক সাংবাদিক ভাইদের সুদৃষ্টি কামনা করে মিনতি জানিয়ে বলছি। আপনাদের লেখার অধিকার আছে। প্রকৃত ঘটনা যাচাই-বাছাই করে লিখুন দেশ ও জাতি উপকৃত হবে। অনুমান নির্ভর বা ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করলে আমি আগামীতে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হব। সুতরাং এই ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সম্মানিত পাঠকদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানিয়ে এই বানোয়াট, ভিত্তিহীন সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

প্রতিবাদকারী :
মোঃ আলম
পিতা-মরহুম লাল মিয়া
স্বত্তাধিকারী : আব্দুল্লাহ এন্টার প্রাইজ লিঃ
পূর্ব লেদা, হ্নীলা, টেকনাফ।