আব্দুল মাবুদ, শাহপরীরদ্বীপ প্রতিনিধি |
ফের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ দিয়ে প্লাস্টিক জার ধরে সাঁতরে নাফ নদী পেরিয়ে এসেছে ১৯ রোহিঙ্গা। শুক্রবার (৩ নভেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ জেটি ঘাট দিয়ে তারা সাঁতরে কুলে উঠে। এসময় শাহপরীরদ্বীপ বিওপির বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে হেফাজতে নেয়। বিজিবি জানিয়েছে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশানুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
১৯ রোহিঙ্গারা সবাই কিশোর ও যুবক। এদের বয়স ১৮ থেকে ২৫ এর মধ্যে।
এখানে আসা আব্দুল্লাহ, জাহেদ, নজিরসহ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাখাইনের বুচিডং-পুইমালী এলাকা থেকে স্বপরিবারে এসে নাফ নদী তীরবর্তী দামনখালী এলাকায় অবস্থান করছিল তারা প্রায় ১০ দিন যাবৎ। বাংলাদেশে পালিয়ে আসার অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু কোন নৌকা না পাওয়ায় আসতে পারছিল না। ইতিমধ্যে রাতের আঁধারে কয়েকবার দালালদের নৌকা সেখানে গেলেও অতিরিক্ত টাকা চাওয়ায় তারা আসতে পারেনি। এদিকে প্লাস্টিক জার ধরে এর আগে কয়েক দফায় ২৩ জনের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। তাদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে জানতে পারে নদীতে সাঁতরে আসতে কোন অসুবিধা হয়নি। এছাড়া বর্ডার এখনো খোলা রয়েছে এ সংবাদ তারা জানতে পেরে সাহস করে প্লাস্টিক জারে ভর করে সাঁতার শুরু করে। প্রায় ৪ ঘন্টার মতো সাঁতার কাটতে হয়েছে বলে জানায় তারা। তাদের পরিবারের সদস্যরা ওপারে দামনখালী এলাকায় তাবু গেড়ে রয়েছে। ইউএনএইচসিআর সেখানে কিছু কিছু খাদ্য সহায়তা দিয়েছে বলে জানায় রোহিঙ্গারা। তবে তা ছিল অপ্রতুল।
গ্রাম থেকে বের হতে না পারা, কোন কাজ কর্ম করতে না পেরে আয় রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের গ্রামে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। ফলে তারা গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়। তারউপর সম্প্রতি মিয়ানমার সরকারের এনবিসি কার্ড রোহিঙ্গাদের মাঝে আতংক ছড়িয়েছে বলে জানায় তারা।
পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা হচ্ছে বুচিদং পুইমালী এলাকার আবদুল্লাহ, মোঃ আয়াজ,জাহেদ, নজির আহমদ, জহির আহমদ, মোঃ আয়ুব, রাহামত উল্লাহ, মোঃ নুর, সিরাজুল ইসলাম, আবদু মোনাফ, আজিজুর রহমান, আবু ছৈয়দ, নুর কবির, পৈয়জু আলম, আনোয়ার খালেদ, মোঃ আয়ুব, মোঃ নুর, মোঃ আয়াজ ও নবি হোসন। এদের সকলের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।
