আল্লাহর ভয় তথা ‘তাকওয়া’ একজন মুমিনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
আল্লাহর ভয় তথা ‘তাকওয়া’ একজন মুমিনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
(সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১০২)
অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘প্রকৃত পক্ষে সে তো শয়তান, যে তার বন্ধুদের সম্পর্কে ভয় দেখায়। সুতরাং তোমরা যদি মুমিন হয়ে থাকো, তবে তাদের ভয় কোরো না; বরং কেবল আমাকেই ভয় করো।’
(সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৭৫)
দুই. মধ্যপন্থা গ্রহণ
একজন মুমিনের অন্যতম গুণ মধ্যপন্থা গ্রহণ করা। মধ্যপন্থা মানে, নিরপেক্ষতা, পরিমিতিবোধ তথা সব কিছুর ঠিক মাঝখানে অবস্থান করা এবং বিশেষ কোনো দিকে ঝুঁকে না পড়া।
কোনো ক্ষেত্রে প্রান্তিকতার পরিচয় দেবে না। বাড়াবাড়ি করবে না এবং শৈথিল্যের পরিচয় দেবে না।
তিন. ইনসাফ করা
মানুষের আরেকটি পছন্দনীয় অভ্যাস হলো, সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি—সর্বাবস্থায় ইনসাফের মুয়ামালা করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ইনসাফ, দয়া এবং আত্মীয়-স্বজনকে (তাদের হক) প্রদানের হুকুম দেন। আর অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও জুলুম করতে নিষেধ করেন।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯০)
অন্য আয়াতে এসেছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা হয়ে যাও আল্লাহর (বিধানাবলি পালনের) জন্য সদা প্রস্তুত (এবং) ইনসাফের সঙ্গে সাক্ষ্যদানকারী এবং কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের ইনসাফ পরিত্যাগে প্ররোচিত না করে। ইনসাফ অবলম্বন করো। এ পন্থাই তাকওয়ার বেশি নিকটবর্তী। আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সব কাজ সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে অবগত।’
(সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৮)
চার. আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করা
সচ্ছলতা-অসচ্ছলতা, আনন্দ ও দুঃখ সব সময় আল্লাহর প্রশংসা করাও ইবাদত। মানুষ সাধারণত সচ্ছলতা ও আনন্দঘন মুহূর্তে আল্লাহর প্রশংসা করলেও অসচ্ছলতা ও কষ্টের সময় আল্লাহর প্রশংসা করে না, কিন্তু আম্বিয়ায়ে কিরাম ও আল্লাহওয়ালাদের বৈশিষ্ট্য হলো, তারা সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাআলার প্রতি সন্তুষ্ট থাকে এবং তার গুণমুগ্ধ প্রশংসা করে। আবার কিছু মানুষ খুশির সময় বা অতি আনন্দে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল হয়ে যায়। আবার যখন চরম দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়, তখন কেউ কেউ আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে, আবার কেউ কেউ আল্লাহ তাআলার ওপর নাখোশ হয়। আল্লাহ তাআলাকে গাল-মন্দ করে। যার কোনোটিই ঠিক নয়। আল্লাহর শ্রেষ্ঠ বান্দা আম্বিয়ায়ে কিরাম যখন কোনো নিয়ামতপ্রাপ্ত হতেন তখন প্রাণভরে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করতেন, পবিত্র কোরআনে হজরত নুহ (আ.) প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারপর যখন তুমি এবং তোমার সঙ্গীগণ নৌযানে ঠিকঠাক হয়ে বসে যাবে, তখন বলবে, শোকর আল্লাহর, যিনি আমাদের জালিম সম্প্রদায় থেকে মুক্তি দিয়েছেন।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ২৮)
দাউদ (আ.) ও সোলাইমান (আ.)-এর ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে, ‘আমি দাউদ ও সুলাইমানকে জ্ঞান দিয়েছিলাম। তারা বলেছিল, সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে তাঁর বহু মুমিন বান্দার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।’
(সুরা : নামল, আয়াত : ১৫)
মহান আল্লাহ সবাইকে এই মহৎ গুণগুলো অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া কাশেফুল উলূম মাদ্রাসা, মধুপুর, টাঙ্গাইল।
