বার্তা পরিবেশক :” হাজার তারার মাঝে তুমি একটা চাঁদ” হয়তো লেখাটা বা সুরটা পাল্টিয়ে লিখা যেতো ” পরশ” এর আকাশে বেড়ায় হাজার তারা , তার মাঝে দুই ধ্রুব তারার উত্থান। শুধু কি তারা? আরো কত উপমা যে দেওয়া যায় তার অন্ত নেই। কারণ উপকারীর উপকার স্বীকার না করা বড্ড অকৃতজ্ঞতার বহি প্রকাশ বৈ কি, যারা এমন কিছু মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়, হাত ধরে রাস্তা পার করিয়ে দেয় উপরে উঠার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে দেয় নিজেদের স্কন্ধন , বুক বা পিটকে অথচ সেই মানুষ গুলো আপনি আমার মতো আকাশ বাতাস পৃথিবীর সুন্দর রূপ দেখতে পায়না, আর না শুনতে পায় বাবা- মায়ের মততা ভরা ডাক বা পাখির সুমধুর সুর…আর না বলতে পারে হরেক রকম রসমিশানো মিষ্টি কথা! চলতে পারে না আপনি আমার মতো অবলীলায় ! মানে তারা স্বভাবিক মানুষের চেয়ে একটু পিছিয়ে পড়া.. যাদের এক কথায় প্রতিবন্ধী বলে আখ্যা দিয়ে থাকি , হয়তো অনেকেই অবহেলা করে দূরে সরিয়ে দিতেও পিছপা হয় না।যারা সমাজের সেই মানুষের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করে দিতে প্রস্তুত তাদের উপমায় সিক্ত করবো না তো কারে করবো?
আজ এমন দুই জনকে নিয়ে লিখবো যাদের বলা হয় তাঁরা শুধু তারা নয় তাঁরা তো ধ্রুব তারা! এই দুই জনের একজন হলেন চট্টগ্রাম নগরীর বহুল পরিচিত বিনোদন কেন্দ্র ফয়েজ লেক কনকর্ড এর মহাব্যবস্থাপক কমান্ডার এ এস এম মনোয়ারুল ইসলাম(অবঃ) স্যার ও অন্যজন একই প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন ব্যবস্থাপক মনোয়ার হোসেন রনি স্যার! সত্যি দু’জনই অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। বিশাল ওনাদের হৃদয় যেখানে লুকিয়ে আছে মায়া- মমতা, সরলতা, কোমলতা ও প্রতিবন্ধীদের প্রতি অপুরান্ত ভালোবাসা। আপনাদের হৃদ্যতা ও ভালোবাসাকে আমি কুর্নিশ করি। ” পরশ” এর পক্ষ থেকে , প্রতিবন্ধী সমাজের পক্ষ থেকে জানাই হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা।
সত্যি আপনাদের কাছে শেখা যায় কিভাবে অন্যদের জন্য আত্মত্যাগ করতে হয়, কিভাবে কিছু নিরানন্দ জীবনে একটু আনন্দ বিলিয়ে দিতে এগিয়ে আসতে হয়।
এই তো কিছু দিন আগের কথা , “পরশ” সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে এবং তাদের মাঝে আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত করতে প্রতিবন্ধী কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। কিন্তু সমস্যা হলো ভ্যানু নিয়ে , কোথায় করবে আয়োজন? কোথায় করলে ভালো হয়? তবে অনেক প্রতিবন্ধীদের প্রত্যাশা হলো ফয়েজ লেক কনকর্ড। কারণ অনুষ্ঠানও হলো সেই সাথে বিনোদনের সুযোগও পাওয়া গেলো। বলা যত সহজ করা কি ততই সহজ? যেখানে প্রবেশ ফি তিনশো, সেখানে দুইশো মানুষের খাওয়া দাওয়া ,রাইড ব্যবস্থা করা , যাতায়াত ব্যবস্থা করা , বলতে গেলে এক এলাহী কাণ্ড ছাড়া মুটেও সম্ভব নয়!
হ্যাঁ হয়তো সম্ভব নাও হতে পারতো যদি এই দুইজন মহান মানুষ পরশ এর পাশে এসে না দাড়াতো , যদি একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দিতো । সমাজে যত দিন এমন মহৎ প্রাণের মানুষ বেঁচে থাকবেন ততদিন অসম্ভব বলে কিছু আছে আমার কিন্তু মনে হয় না… অনন্ত সেই দিনের পর থেকে।
যখনই স্যাররা জানতে পারলেন প্রতিবন্ধীদের আনন্দ দেওয়ার জন্য” পরশ” কনকর্ড এ একটা অনুষ্ঠান করতে চায় ঠিক তখনই কোন ধরনের ব্যবসায়িক চিন্তা না করে ” পরশ” কে আয়োজনের অনুমতি সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং সেই সাথে রাইড ব্যবহার করে যেন প্রতিবন্ধীরা আনন্দ উপভোগ করতে পারে তারও ব্যবস্থা করে দিয়ে যেন পুরো প্রতিবন্ধী সমাজকে আপন করে নিলেন। বলা বাহুল্য প্রতিবন্ধীদের এই আয়োজনে বিশেষ অতিথির আসন অলংকৃত করে প্রতিবন্ধীদের মাঝে যেভাবে নিজেদের ভালোবাসাকে বিলিয়ে দিয়েছেন তা চির অম্লান হয়ে থাকবে।
স্যার “পরশ” আপনাদের এই ঋণ কখনো ভুলবে না , সত্যি বলতে কি আপনারা যখন বলেছেন যে কোন সময় প্রতিবন্ধীদের আনন্দ দানে ” পরশ” কনকর্ড ব্যবহার করতে চাইলে আপনারা ব্যবস্থা গ্রহণের সচেষ্ট থাকবেন ঠিক তখনই অনেক প্রতিবন্ধীদের চোখ দিয়ে আনন্দের অশ্রু গড়িয়ে পড়তে দেখেছি।আপনাদের এমন মহানুভবতা আমার অল্প লেখায় শেষ হওয়ার নয়, তবে “পরশ” এর আকাশে আপনাদের আগমন শুধু তারা নয় বরং ধ্রুব তারা! স্যার বেঁচে থাকুন অনেক দিন প্রতিবন্ধীদের স্বার্থে , পরশ এর ভালোবাসার স্বার্থে।
[ বি: দ্র- গত ১৪/০৯/২০১৯ তারিখ চট্টগ্রাম ফয়েজ লেক কনকর্ড এ” পরশ” আয়োজন করে প্রতিবন্ধী কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২০১৯, এতে নগর পিতা মাননীয় মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে না পারলেও আর্থিক ও মানসিক ভাবে সহযোগিতা করে “পরশ” কে ধন্য করেছেন, এছাড়াও কনকর্ড এর কয়েক জন ভাই পরশ এর জন্য কষ্ট করেছেন, এই বিষয়ে অন্য দিন লিখবো ইনশাল্লাহ]
শুভেচ্ছান্তে.
মো.রফিকুজ্জামান
সভাপতি-পরশ
