টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্তদের অপকর্ম থামছেনা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : টেকনাফের শালবাগান, নয়াপাড়া ও লেদা ক্যাম্প ভিত্তিক স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা দূবৃর্ত্তদের অপকর্ম থামছেনা। বরং ক্যাম্পে নিয়োজিত ব্লক মাঝি ও কতিপয় ভলান্টিয়ার রহস্যজনক আচরণে এই গ্রæপের সদস্যরা আরো বেপরোয়া হয়ে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় বাণিজ্যে সাধারণ রোহিঙ্গারা অতিষ্ঠ হওয়ার পাশাপাশি আইন-শৃংখলা বাহিনী পর্যন্ত হিমশিম খাচ্ছে। যেকোন মুর্হুতে প্রাণনাশের আতংকে নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।

এখনো রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশর্^বর্তী পাহাড়ে অবস্থানরত কুখ্যাত বনদস্যু আব্দুল হাকিম ডাকাতের নির্দেশনায় ডাকাত জকির, ছৈয়দ হোছন ওরফে পুতিয়া, খাইরুল আমিন, সালমান শাহ, মোঃ শফি, আনোয়ার, নুর হোছন, মোঃ ইসলাম ধইল্যা, নুরুল ইসলাম ওরফে নুর সালামের নেতৃত্বে স্বশস্ত্র বেশ কয়েকটি ডাকাত গ্রæপ অবস্থান করছে। এরা পাহাড় হতে নেমে ক্যাম্পে এসে মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র বেচা-বিক্রি, ভাড়াটে খুনি, অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্যের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্রের মহড়া চালাচ্ছে। বলতে গেলেই রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করছে এই ডাকাত চক্র ও তার সহযোগীরা। ক্যাম্পে তাদের অপতৎপরতার কারণে অনেক এনজিও কর্মী প্রাণনাশের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন বলে একাধিক কর্মীর দাবী। এমন কি এলিট ফোর্স বা র‌্যাবের সদস্যরা এসব এলাকায় অবৈধ অস্ত্র এবং মাদক বিরোধী অভিযান চালাতে গিয়েই হামলার শিকার হয়।

সাধারণ রোহিঙ্গারা বলেন,মায়ানমার হতে এসে এদেশে আশ্রয় নিয়ে শান্তিতে থাকতে চায়। কিন্তু রাতের বেলায় অবৈধ অস্ত্রধারীদের কথা মত চলতে এবং বলতে বাধ্য করছে। এসব অবৈধ অস্ত্রধারীদের কারণে মুখ ফুটে কিছুই বলতে না পেরে প্রাণের ভয়ে নীরব থাকতে হচ্ছে। এই সুযোগে স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্তরা অপকর্মের রাজত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য ক্যাম্প সমুহে নিয়োজিত ব্লক মাঝি ও ভলান্টিয়ারদের বেশীর ভাগই তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অপরাধ প্রবণতা অব্যাহত রেখেছে। গত কয়েক দিন পূর্বে নয়াপাড়া ক্যাম্পের পি-ব্লকের বলী ইউছুপের পুত্র শাহরুখ খান ওরফে সাদ্দামকে স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্তরা অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবী করছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সুশীল মহল মনে করছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক স্বশস্ত্র গ্রæপ সমুহকে দমাতে হলে পাহাড় ও ক্যাম্পের মধ্যবর্তী কাঁটা তারের বেড়ার দেওয়ার পাশাপাশি আইন-শৃংখলা বাহিনীর বিশেষ পোস্ট স্থাপন জরুরী হয়ে পড়েছে।

এই ব্যাপারে আইন-শৃংখলা বাহিনীর একাধিক বিশ্বস্থ সংস্থা সুত্র জানায়,ক্যাম্প কেন্দ্রিক অপরাধীদের তৎপরতার সত্যতা স্বীকার করেন। সুত্রটি আরো জানান, আইন-শৃংখলা বাহিনী তাদের কঠোর হাতে দমনে সক্রিয় রয়েছে তবে দূর্গম এলাকায় তাদের অবস্থান হওয়ায় একটু হিমশিম খেতে হয়। সব অপরাধীদের পর্যায়ক্রমে আইনের আওতায় আনার আশ^াস প্রদান করেন সুত্রটি।

স্থানীয় লোকজন জানায়,পাহাড়ে অবস্থানকারী দূবৃর্ত্ত সবাইকে নিরাপদ রাখতে কাঁটা তারের বেড়া ও পুলিশ ক্যাম্প নির্মাণের বিকল্প নেই। ###