টেকনাফে মাদক বিরোধী অভিযানে র‌্যাব সদস্যরা গুলিবিদ্ধ : বন্দুকযুদ্ধে স্থানীয় ডাকাত নিহত

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago
ফাইল ছবি র‌্যাব

হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফে মোচনী বাজারে ক্রেতা সেজে মাদক বিরোধী অভিযান চালাতে গিয়েই স্বশস্ত্র দূর্বৃত্ত চক্রের গোলাগুলিতে র‌্যাব সদস্যরা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে। এরপর আটক ডাকাত সদস্যকে নিয়ে অস্ত্র ও মাদক বিরোধী অভিযানে গোলাগুলিতে ধৃত ডাকাত নিহত হয়েছে।

জানা যায়, ৩১ ডিসেম্বর রাতের প্রথম প্রহরে র‌্যাবের হাতে আটক উপজেলার হ্নীলা পশ্চিম লেদা নুর আলী পাড়ার ছৈয়দুল ইসলামের পুত্র ডাকাত আনোয়ার সাদেক (৩২) কে নিয়ে ২৬নং রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন মোচনী পাড়ায় অভিযানে গেলে ওঁৎপেতে থাকা তার সহযোগীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। র‌্যাবও আত্নরক্ষার্থে পাল্টা গুলিবর্ষণ শুরু করার কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি শান্ত হলে ঘটনাস্থল তল্লাশী করে ১টি দেশীয় পিস্তল, ৮হাজার ইয়াবাসহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আনোয়ার সাদেকের মৃতদেহ পাওয়া যায়। এই বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর উপাধিনায়ক মেজর মোঃ রবিউল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, গত ৩০ডিসেম্বর (সোমবার) বিকাল সাড়ে ৪টারদিকে র‌্যাব-১৫ (সিপিসি-২) হোয়াইক্যং ক্যাম্পের একটি চৌকষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ক্রেতা সেজে নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্প সংলগ্ন মোচনী টাওয়ারস্থ বাজার এলাকায় ইয়াবা বিরোধী অভিযানে গেলে স্বশস্ত্র মাদক কারবারী গ্রæপের সদস্যরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে ৫/৬ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করলে র‌্যাবের কয়েকজন সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়। এই সময় ঘটনাস্থল হতে পশ্চিম লেদা নুর আলী পাড়ার ছৈয়দুল ইসলামের পুত্র ডাকাত আনোয়ার সলিম (৩২) কে আটক করে। আটক র‌্যাব সদস্যদের দ্রæত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য টেকনাফ নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার দেওয়ার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
র‌্যাব-১৫ (সিপিসি-২) হোয়াইক্যং ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি শাহ আলম সংবাদকর্মীদের নিকট র‌্যাব সদস্য গুলিবিদ্ধের তথ্য নিশ্চিত করলেও মোট ক’জন আহত হয়েছেন জানাতে পারেনি।
এদিকে গোপনীয় একটি সুত্রের দাবী র‌্যাব সদস্য মশিউর, সৈনিক ইমরান ও কর্পোরাল শাহাব উদ্দিনসহ ৪জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতের মধ্যে মশিউরসহ অপর জনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে সুত্রটির দাবী।
গত ৩০ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টারদিকে র‌্যাবের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উক্ত এলাকায় ক্রেতা সেজে ইয়াবা বিরোধী অভিযানে যায়। র‌্যাব সদস্যরা ইয়াবাসহ আনোয়ার ইসলামকে আটক করে ফেললে আনোয়ার গ্রæপের মোচনী পাড়ার স্বশস্ত্র সদস্যরা রোহিঙ্গা ডাকাতেরা আনোয়ারকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে মনে করে গোলাগুলি শুরু করলে র‌্যাবের চার সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়।
এদিকে আটক ডাকাত আনোয়ারকে নিয়ে র‌্যাবের অস্ত্র এবং মাদক উদ্ধার অভিযানে গেলে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে ডাকাত আনোয়ার ইসলাম ওরফে সাদেক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।
এদিকে স্থানীয় চিহ্নিত প্রভাবশালী ও রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র মাদক কারবারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা মিলে দীর্ঘদিন ধরে আদম পারাপার, মাদকের চালান খালাস এবং স্বশস্ত্র বাহিনী দিয়ে চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতি করে আসছে। এই চক্রের সিন্ডিকেট সদস্যরা আইন-শৃংখলা বাহিনীর উপর হামলার ঘটনায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২/৩ মাস পূর্বে লেদা লামার পাড়া হতে পশ্চিম লেদা নুর আলী পাড়ার ছৈয়দুল ইসলামের পুত্র ডাকাত আনোয়ার ইসলাম (৩২) ওরফে সাদেকের নেতৃত্বে ৮/১০ জনের একটি সিন্ডিকেট মিয়ানমার হতে আসা দেড় লাখ পিস ইয়াবার একটি চালান লুটপাট করে। কুখ্যাত ডাকাত নুরুল আমিন গংয়ের হামলার ভয়ে মোচনী পাড়ায় অবস্থান নিয়ে লুটকৃত ইয়াবার চালান কৌশলে বিভিন্ন জনের নিকট বিক্রি করে আসছিল। ###