টেকনাফ টুডে ডেস্ক : টেকনাফের নয়াপাড়া ও শালবাগান ক্যাম্পের মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্য, সংঘবদ্ধ গ্রুপের অস্ত্রবাজিসহ এখন নানা অপকর্মে আতংকের নাম পুতিয়া গ্রুপ। এই গ্রুপের কারণে সাধারণ রোহিঙ্গারা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেনা অভিযোগ উঠেছে। তাই তাদের কঠোর হাতে দমনের দাবী উঠেছে।
জানা যায়,গত ৩০জুলাই বিকাল ৪টারদিকে নয়াপাড়া রেজিষ্টার্ড ক্যাম্পের এইচ ব্লকের সাব লিডার সৈয়দ আহমেদ (৪০) কে শালবাগান সি-৭ ব্লকের সামনে থেকে নয়াপাড়া আই ব্লকের ধইল্যা হাজীর পুত্র ছৈয়দ হোছন প্রকাশ পুতিয়া গ্রুপের প্রধান ডাকাত পুতিয়ার নেতুত্বে এইচ ব্লকের আমির হোছনের পুত্র হামিদ হোছন, করিমুল্লাহর পুত্র সলিমুল্লাহ প্রকাশ শিয়াইল্যা, মোহাম্মদ হামিদের পুত্র ইলিয়াছ, লিয়াকত আলীর পুত্র আক্তার হোছন, শামসুর পুত্র মোহাম্মদ হোছন প্রকাশ ভুইন্যা, আই ব্লকের মৌলভী ছৈয়দ আহমদের পুত্র আবু হুইরা প্রকাশ আব্বুইয়া, হাজী আব্দুল আমিনের পুত্র দিল মোহাম্মদ এবং বি-ব্লকের জনৈক বশির আহমদ, রফিক ও নুরুল আমিনসহ ২০/২৫জনের একটি স্বশস্ত্র গ্রুপ অস্ত্রেরমুখে জিম্মি করে পাহাড়ে নিয়ে যায়। পরে শালবাগান ও জাদিমুড়া পুলিশ ক্যাম্প যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে বিকাল পৌনে ৬টারদিকে জাদিমুড়া পুলিশ ক্যাম্প বি-১১ ব্লকের পার্শ্বস্থ কাঁটাতার সংলগ্ন পাহাড়ী ছড়া থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। এই ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানায় ১৪জনকে নামীয় এবং অজ্ঞাত ১০/১৫ জনকে আসামী করে এজাহার দায়ের করা হয়।
এছাড়াও উক্ত স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী এবং মাদক কারবারী পুতিয়া গ্রæপের প্রধান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানার মামলা নং-১৪/০৭/২০২১ইং,নং-২৯১৭(৩)১, ১৫/০৩/২০২১ইং,নং-২১৩০(৩)১, ০৮/০২/২০২১ইং,নং-১০৭৭(৩)১, ২২/০৫-২০২১ইং,নং-৩৬৫১(৩)১ এবং মামলা নং-৩১, ০৮/০৩/২০২১ইং সহ ডজনের অধিক মামলা রয়েছে। এছাড়াও গত ৯মাস পূর্বে আই ব্লকের হাজী শহিদুল্লাহর পুত্র ইসমাঈল নামে এক ব্যক্তিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অপহরণের পর পাহাড়ে নিয়ে ৩লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেয়। এসব মামলার কারণে এই গ্রুপের সদস্যরা ফেরারী হওয়ায় ক্যাম্প ভিত্তিক যতসব অপকর্ম করে বেড়ায়। তাদের এই অপকর্ম ধামা-চাপা দেওয়ার জন্য উল্টো উক্ত সন্ত্রাসী গ্রুপ ভিকটিম ছৈয়দ আহমদের ভাই ও স্বজনদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে ভূক্তভোগী পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন।
এক সময়ে উক্ত ক্যাম্পে অপতৎপরতাকারীরা নিঃশেষ হওয়ার পর এই পুতিয়া গ্রুপ এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্প সমুহে নানাবিধ অপতৎপরতা চালিয়ে সাধারণ রোহিঙ্গাদের জীবন বিষিয়ে তুলেছে। তাই ক্যাম্প ভিত্তিক এই স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপকে সমূলে নির্মূলের জন্য ক্যাম্পে দায়িত্বরত আইন-শৃংখলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ###
