নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে গরু চুরির মিথ্যে অপবাদে মা-মেয়ে নির্যাতনের ঘটনায় গঠিত ২টি তদন্ত কমিটির কোন অগ্রগতি নেই। ঘটনা পরবর্তী ১৮ দিন আতিবাহিত হলেও দুইটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়নি। অপরদিকে নির্যাতিত নারী পারভীন আক্তার বাদি হয়ে চকরিয়া থানায় দায়েরকৃত মামলায় তিন আসামি গ্রেফতার হলেও গেল ১৫ দিনে প্রধান আসামি হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, ২১ আগস্ট গরু চুরির অপবাদ দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারের নামে হারবাং ইউনিয়ন পরিষদে এনে দ্বিতীয়দফায় মা ও তাঁর দুই মেয়েসহ পাঁচজনকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ২৩ আগস্ট জেলা প্রশাসনের তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি ও ২৪ আগস্ট চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক স্বপ্রনোদিত হয়ে একটি সুয়োমোটো মামলা করেন।
আদালতের বিচারক সুয়োমোটা মামলার বিষয়ে চকরিয়া সহকারী পুলিশ সুপারকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন। অন্যদিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে দুই দফা সময় বাড়িয়েছে। তবে এখনো তদন্ত সংশ্লিষ্টরা সময় বাড়ালেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। তবে সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হতে পারে।
স্থানীয় সুত্রে অভিযোগ উঠেছে, সময়মতো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ার সুযোগে চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম যে কোন উপায়ে তদন্তকাজে প্রভাবিত করতে পারে। এই ধরণের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে।
প্রসঙ্গত, গত ২১ আগস্ট শুক্রবার দুপুরে মা-মেয়েকে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের পর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পরিষদে নিয়ে যায়। সেখানে দ্বিতীয় দফায় হারবাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাদের কাঠের চেয়ার ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থানা পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে গরু চুরির মামলা দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
মা-মেয়েকে রশিতে বেঁেধ ইউনিয়ন পরিষদে আনার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুক ও দেশের বিভিন্নস্তরের গণমাধ্যমে খবরটি প্রকাশ হলে প্রশাসনে টনক নড়ে। এমনকি বিষয়টি নজরে আসে হাইর্কোটের। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ২৩ আগস্ট কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো.কামাল হোসেন ঘটনাটি তদন্তে জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শ্রাবস্তী রায়কে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। পরদিন ২৪ আগস্ট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শ্রাবস্তী রায় ছাড়াও গঠিত তিন সদস্যের কমিটি।
অপরদিকে জামিনে কারামুক্তির পর গত ২৫ আগস্ট নির্যাতিত নারী পারভীন বেগম বাদী হয়ে চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামী করে ৪জনের নাম উলেখপূর্বক ৩০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় এজাহার নামীয় তিনজন গ্রেফতার হয়ে জেল-হাজতে থাকলেও প্রধান আসামী চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম এখনো অধরা রয়ে গেছেন।##
