আবুল কালাম আজাদ, টেকনাফ |
টেকনাফে পান চাষের মৌসুম শুরু হওয়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে চাষীরা। তবে পান চাষের উপকরনের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছে চাষিরা। সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের আয়ের অন্যতম উৎস পান চাষ। যা বছরে ৩/৪ মাস স্থায়ী হয় এই পান চাষ। এ আয়ের উপর নির্ভর করে পান চাষিরা চলে। এখন হচ্ছে পান চাষের ভরা মৌসুম। পান চাষিরা পান চাষে ব্যস্ত হায়ে পড়েছে। এদের বেশির ভাগ পান চাষি নিম্মবিত্ত পরিবারের লোকজন। সরকারী পৃষ্টপোষকতা না থাকায় মহাজনের ধার কর্জ করে পান চাষ করে। একটি ৫ বা ১০ হাজার চারার পানের বরজ করতে ১ থেকে ২ লাখ টাকা ব্যয় হয়। তাও যদি বরজ তৈরির উপকরন চারা ও শ্রমিকের মজুরি কম থাকে। যদি এর দাম বৃদ্ধি পায় তাহলে ৩ লক্ষ টাকার উর্ধে ব্যয় হয়। চলতি মৌসুমে উপকরনসহ প্রতিটি জিনিসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পান চাষিরা পড়েছে বিপাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় অনেক পান চাষি অতি উৎসাহ উদ্দিপনা নিয়ে পান চাষে নেমে পড়েছিল। কিন্তু চাষের উপকরনের দাম শুনে হতাশ হয়ে পড়েছেন। যা চলতি মৌসুমে পানের বরজ তৈরির উপকরনের দাম বৃদ্ধিতে অনেক পান চাষি চাষ করতে পারবেনা। কয়েক জন পান চাষি জানান প্রতি বছর আমরা পান চাষের মৌসুম চলে আসলে বাড়ির সহায় সম্বল বিক্রি করে নতুবা মহাজনের চড়া সুদ নিয়ে পান চাষ করে থাকি। যা ৫ থেকে ১০ হাজার চারার পানের চাষ করতে ১ থেকে ২ লাখ টাকা ব্যয় হয়।
কিন্তু চলতি বছরে দেখা যাচ্ছে পানের বরজ তৈরির উপকরন সহ প্রতিটি জিনিসের দাম আকাশ ছোঁয়া। যা এত টাকা ব্যয় করে আমাদের পক্ষে পানের বরজ করা সম্ভব হবে না। কেননা আমরা দরিদ্র লোকজন এত টাকা পাব কোথায়। চলতি বছরে পানের বরজ তৈরির উপকরনের দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক পান চাষি পান চাষ করতে পারবেনা। ফলে তাদের প্রধান আয়ের উৎস পান চাষ। এ চাষ করতে না পারলে অর্ধাহারে-অনাহারে থাকা ছাড়া আর কোন পথ থাকবে না।
স্থানীয় সচেতন মহল জানায়, টেকনাফের পান চাষ বাংলাদেশে প্রসিদ্ধ। যা উৎপাদিত পান দেশের চাহিদার ২৫ শতাংশ যোগান দিয়ে থাকে। এ চাষকে যুগউপযোগি করতে হলে আধুনিক পদ্ধতিতে পান চাষ, চাষিদেরকে প্রশিক্ষন, ব্যাংক লোনের সুবিধা সহ বিভিন্ন সুযোগ সুুুবিধা প্রদান করলে টেকনাফের পান দিয়েই দেশের চাহিদার ৫০ শতাংশ পূরণ করতে পারবে।
এ ব্যাপারে কৃষি মন্ত্রনালয়কে এগিয়ে আসতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।###
