টেকনাফ টুডে ডেস্ক : আজ শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় বসুন্ধরার মুখোমুখি হচ্ছে তার দল।
মৌসুমের প্রথম ট্রফি জিতে সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে চাইলেও কাজটি সহজ হবে না। আবাহনী আগের চেয়ে শক্তিশালী দল গড়েছে তা ঠিক। ফাইনালে আসার আগ পর্যন্ত পারফরম্যান্সও দুর্দান্ত তাদের। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে সেনাবাহিনীকে উড়িয়ে দিয়েছে ৪ গোলে। সেমিফাইনালে আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানির দল সাইফ স্পোর্টিংও সুবিধা করতে পারেনি। দুই অর্ধে তাদের দুই গোল দিয়েই ফাইনালের টিকিট কেটেছে লেমসের দল। দুই বিদেশি রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা দানিয়েল কলিনদ্রেস ও ব্রাজিলিয়ান রাফায়েল অগাস্তোর রসায়ন ছিল অসাধারণ। দলের প্রতিটি জয়ে বড় ভূমিকা ছিল তাদের।
এছাড়া নাবীব নেওয়াজ জীবন কিংবা ইমন মাহমুদরাও যোগ্য সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সমস্যা হলো, প্রতিপক্ষ বসুন্ধরার সঙ্গে মুখোমুখি রেকর্ড স্বস্তি দিতে পারছে না তাদের। এখন পর্যন্ত ৭ বার লড়াই হয়েছে। আবাহনী জিতেছে মাত্র একবার, বাকি ৫ ম্যাচ জিতেছে বসুন্ধরা, ড্র একটি। তাই আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমসের সতর্ক মন্তব্য, ‘এটা ফাইনাল, যেকোনও কিছু ঘটতে পারে। অবশ্যই আমরা জিততে চাই, বিগত বছরগুলোতে বসুন্ধরা জিতে আসছে, আমরা সেই ধারা পরিবর্তন করতে চাই। আমরা জেতার জন্যই মাঠে যাবো।’
আবাহনীর জন্য দুঃসংবাদ হলো, দলের ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরা দুই হলুদ কার্ডের কারণে ফাইনালে খেলতে পারছেন না। তবে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার দোরিয়েন্তন থাকছেন শুরু থেকে। লেমস তাই আশাবাদী, ‘আমার দলে যা শক্তি আছে, তা মাঠে দেখাতে পারলে শিরোপা জিততে পারবো। রক্ষণ যেমন জমাট থাকতে হবে, তেমনি ফরোয়ার্ডদেরও গোল পেতে হবে। সুযোগ নষ্ট করা যাবে না। তাহলেই সাফল্য আসবে।’
টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস। শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে তারাও।টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস। শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে তারাও।
বসুন্ধরা কিংসও মৌসুম শুরু করতে চাইছে ট্রফি জিতে। তবে দলে চোট হানা দেওয়ায় টিম ম্যানেজমেন্টের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। দুই ডিফেন্ডার তপু বর্মণ ও কাজী তারিক এবং ব্রাজিলিয়ান ফেরনান্দেসের খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। দলে রয়েছেন ব্রাজিলিয়ান রবিনিয়োর মতো ক্ষুরধার একজন উইঙ্গার। দলের প্রতিটি জয়েই যার প্রায় সমান ভূমিকা। ফাইনালেও তার দিকে দৃষ্টি থাকবে দলের। তাই তো ফাইনাল নিয়ে স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন বলেছেন, ‘রবিনিয়ো ভালো খেলোয়াড়। আশা করছি ফাইনালেও ভালো করবে। আমরা ১৬ গোল করে একটি খেয়েছি। কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে এই পর্যন্ত এসেছি। এছাড়া আমাদের দলে চোট সমস্যাও আছে। কিন্তু ছেলেরা দেখিয়েছে আমাদের স্কোয়াডের গভীরতা সম্পর্কে। ক্লাবের সবাই ভালো ফলাফলের জন্য বিজয়ী মানসিকতা এবং চেতনায় কাজ করে চলেছে।’
দুই দলের এই ইতিবাচক মানসিকতাই বলে দিচ্ছে, কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ধুন্ধুমার এক ফাইনাল দেখতে যাচ্ছেন দর্শক-সমর্থকরা।
