টেকনাফে র‌্যাবের হাতে ডাকাত ছালেহসহ ৬জন আটক এবং অ*স্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় লোকজনের মধ্যে উল্লাস ও মিষ্টি বিতরণ

: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

বিশেষ প্রতিবেদক : টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর অভিযানে রোহিঙ্গা ডাকাত ছালেহ বাহিনী প্রধান ছাইল্যাকে ৫জন সহযোগীসহ আটকের ঘটনায় পুরো উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের মধ্যে উল্লাস দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে উল্লাসিত জনসাধারণের অনেককে মিষ্টি বিতরণ ও মিষ্টিমুখ করাতে দেখা গেছে।

৬মে সন্ধ্যায় টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ষ্টেশনের বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হ্নীলা ইউনিয়ন (একাংশ) শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরের নেতৃত্বে একটি গ্রæপ ব্যবসায়ী, পেশাজীবি, দোকানদার, সাধারণ মানুষকে মিষ্টিমুখ করিয়ে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়, মাদক চোরাচালান, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ যাবতীয় অপরাধ দমনে সব ভেদাভেদ ভূলে ঐক্যবদ্ধভাবে আইন-শৃংখলা বাহিনীকে সার্বিক সহায়তার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহবান জানান। এরপর র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার কর্তৃক টেকনাফের দূর্গম পাহাড় কেন্দ্রিক বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অন্যতম হোতা নয়াপাড়া রেজিষ্টার্ড ক্যাম্পের ব্লক-ডি,শেড নং-৭৪৯, ১নং রোমের বাসিন্দা মোহাম্মদ শফি ওরফে নাসির উদ্দিনের পুত্র হাফিজুর রহমান ওরফে ছালেহ উদ্দিন প্রকাশ ছলে ডাকাত (৩০), তার সহযোগী নুরুল আলম ওরফে নুরু (৪০), আক্তার কামাল ওরফে সোহেল (৩৭), নুরুল আলম ওরফে লালু (২৪) সহ ৬জনকে বিপূল পরিমাণ দেশী-বিদেশী অস্ত্রাদি ও বুলেটসহ গ্রেফতার করায় অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। এছাড়া উপজেলার হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ পৌরসভা, সদর ইউনিয়ন, বাহারছড়া এবং সাবরাং ইউনিয়নের বাজার সমুহে র‌্যাব-১৫ কর্তৃক পাহাড়ি ডাকাত দলের মুলহোতাকে গ্রেফতার করায় উল্লাস করতে দেখা গেছে। এইজন্য কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর সদর, টেকনাফ ও হোয়াইক্যং ক্যাম্পে দায়িত্বরত সদস্যদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে শুনা গেছে।

টেকনাফ উপজেলা গ্রীণ এনভায়রণমুভমেন্ট টেকনাফ উপজেলা শাখার সভাপতি তারেক মাহমুদ রনী জানান, কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর এই অভিযানে আজ পুরো উপজেলার মানুষ খুব খুশি। টেকনাফে দায়িত্বরত সব বাহিনীই এসব অপরাধ দমনে খুবই আন্তরিক। আগামীতে সকলের সমন্বয়ে র‌্যাব,পুলিশ, বিজিবি, এপিবিএন, আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

এলাকার সচেতনমহল মনে করেন, দলমত, বিভেদ ও স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে টেকনাফের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় বাণিজ্য, মাদক চোরাচালান এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ড কঠোর হাতে দমন করে সীমান্ত জনপদে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আসতে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, এলাকার শিক্ষিত ও সচেতন মহল ঐক্যবদ্ধ হয়ে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, এপিবিএনের সমন্বয়ে যৌথবাহিনী গঠনের মাধ্যমে স্পর্শকাতর এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদার করা হলে বিভিন্ন অপবাদে অতিষ্ঠ টেকনাফের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মত প্রকাশ করেন।