জলাবদ্ধতায় জনজীবন বিপন্ন নাইক্ষ্যংছড়িতে তামাক ও সবজি চাষ ব্যাহত ভারী বৃষ্টিতে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ১০ years ago

শামীম ইকবাল চৌধুরী,নাইক্ষ্যংছড়ি(বান্দরবান)থেকেঃঃ
তিন,চার দিন ধরে লাগাতার ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে চাষীরা। অর্থকারি ফসল হিসেবে তামাক ও সবজি ক্ষেত নষ্ট হওয়ার পর দ্বিতীয় দফা প্রস্তুতির মুহূর্তে বৃষ্টি আবারও কাল হয়ে দেখা দিয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তামাক ও সবজি চাষীদের। ফালগুন মাসে কয়েক দফা বৃষ্টিতে পানি জমে অধিকাংশ তামাক ও সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্খা রয়েছে। কৃষি বিভাগের বিষমুক্ত সবজি চাষ প্রকল্পের কৃষকের সবজি ক্ষেতও রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত এ তালিকায়। বৃষ্টি থামার ফাঁকে ফাঁকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রামে নামেন কৃষকরা। কিন্তু দফায় দফায় বৃষ্টি হওয়াতে দিশেহারা করে তুলেছে চাষিদের। পুঁজি হারিয়ে পথে বসার আশঙ্কা করছেন তাদের অনেকে। অন্যদিকে, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর এলাকায় কৃষি বিভাগের বিষমুক্ত সবজি চাষ প্রকল্পের বিভিন্ন ক্ষেতে পানি জমে নষ্টের সম্ভাবনা রয়েছে ।
সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন আলু, বাদাম, খিরা,তরমুজ ও তামাক চাষীরা।এ বৃষ্টির কারণে আলু, তরমুজ,খিরা ও বাদামের পচানী রোগ আসতে পারে এবং তামাক ক্ষেতে রোদ পড়ার সাথে সাথে পাতা গুলো অতিরিক্ত হলুদ বর্ণে রূপ ধারন করে তামাকের রং নিম্ম গ্রেইডে ও ওজনে কমে যাওয়ার আশঙ্খায় চাষীরা হতাশ। অপর দিকে আলু ও তামাকের সঠিক মূল্য বাজারে না পাওয়ার আশঙ্খও রয়েছে।

তবে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অলক দাশ জানান, বৃষ্টির কারণে এবার মৌসুমকালীন সবজি একটু দেরিতে উঠলেও ফলন ব্যাপক হবে। তা ছাড়া সবজিচাষিদের মধ্যে আলু ও বাদাম সামান্য ক্ষতি হলেও বৃষ্টি থেমে গেলে তা অন্যান্য চাষের জন্য দারুণ উপকার হবে।এই মৌসুমে উপজেলায় ১৩৪৫ হেক্টর বোরো ফসল ভাল অবস্থানে আছে। পক্ষান্তরে ২৮২ হেক্টর তামাক চাষ বৃষ্টির কারনে দারুন ভাবে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্খ রয়েছে। অনেক তামাক চাষী কৃষি বিভাগে উপ সহকারীদের কাছে পরার্মশ নিয়ে তামাক চাষ বন্ধ করে মূল কৃষি কাজে ফিরে আসার কথাও জানান।

এদিকে নাইক্ষ্যংছড়িউপজেলার ৪টি ইউনিয়নের বাইশারী, সোনাইছড়ি, দৌছড়ি ও ঘুমধুমসহ আশপাশের সবজি ও তামাক চাষিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এসব এলাকার অনেক পরিবার শুধু সবজি ও তামাক চাষ করেই জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। কিন্তু চলতি মৌসুমে ক্ষেতে জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে তারা। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হবে এখানকার অনেক তামাক চাষীদের।

কৃষি বিভাগের তথ্যে মতে জানাযায়, এবার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ২ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি ও বোরো চাষ করা হয়। ৯৯৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ এবং বোরো চাষ ১৩৪৫ হেক্টর তৎমধ্যে পাহাড়ী এলাকা বলে যথ সাম্যান্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্খার মধ্যে রয়েছে আলু,বাদাম,ক্ষিরা, তরমুজ, টমেটো, লাল শাক, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, শসা, চালকুমড়া, বরবটি, বেগুন, পুঁইশাক, পেঁপে,সহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ক্ষেত পানি জমে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন চাষিরা

নাইক্ষ্যংছড়ির বাকঁখালী চরের চাষী মোঃ বেলাল জানান, বৃষ্টির পানি ও শিলা বৃষ্টির কারনে তার ৫ বিঘার ওপর বাদামসহ অন্যান্য সবজি ক্ষেত করা হয়েছে। তবে খালের চর বিদায় ১বিঘার মত বাদাম ক্ষেত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা শিমুল বড়–য়া জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে যথ সাম্যান্য সবজি ক্ষেত নষ্ট হওয়ার আশঙ্খ রয়েছে। তবে ২/৩ দিন পর বুঝা যাবে কি পরিমাণ নষ্ট হতে যাচ্ছে। নষ্ট হয়ে যাওয়া সেসব ক্ষেতে চাষিরা নতুন করে চাষাবাদ শুরু করবেন বলে জানান।
স্থানীয় তামাক চাষি আবু হান্নন বলেন, তামাক উৎপাদনের ৬০ শতাংশই চাষ হয় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়। বৃষ্টির পানি বেশ কয়েকদিন জমে থাকায় তামাক চাষে ব্যাপক হয়েছে। এই তামাক পাতা কোন কাজে আসবেনা। আমি পাচঁ একর জমিতে তামাক ফলন বাম্পার হয়েছিল তবে লাগাতার ভারী বৃষ্টির জলবদ্ধতার কারনে পুঁজি ও লাভের আশা ছেড়ে দিয়েছি। তাই এ বছর নাইক্ষ্যংছড়িতে তামাক চাষীদের দুর্দিন যাচ্ছে।
কয়েকজন চাষি জানান, বৃষ্টির কারণে কপি ও মরিচের চারা মরে যাওয়ার পর নতুন করে বীজতলা তৈরি করলেও শেষ মুহূর্তে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের মতে, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এ বছর শীতকালীন সবজি উৎপাদনে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে।