নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া ॥
কক্সবাজারের উখিয়ার কোটবাজারে সরকারি অনুমোদনহীন চলছে সেঞ্চুরী ল্যাব নামের অবৈধ গলাকাটা বাণিজ্য। ওখানে কর্তৃপক্ষ বলতে কেউ নেই। রয়েছে শুধুমাত্র ভাড়াটিয়া কিছু কর্মচারী। যারা রোগীদের সাথে বেপরোয়া আচরণ ও শারীরিক লাঞ্চিত করণসহ একাধিক ঘটনায় এলাকাবাসী অতিষ্ট হয়ে ওঠেছে। কেউ যাতে ওই ল্যাবের অনৈতিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে না পারে সেজন্য রাখা হয়েছে স্থানীয় ভাড়াটিয়া মাস্তান।
জানা গেছে, এ উপজেলার ব্যস্ততম এলাকা কোটবাজার এন.আলম মার্কেটের ২য় তলায় সরকারের কোন রকম অনুমতি না নিয়ে ও স্বাস্থ্য আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করে সেঞ্চুরী ল্যাব নামে একটি অবৈধ ল্যাব বসিয়ে চালাচ্ছে অবৈধ গলাকাটা বাণিজ্য ও রোগীদের সাথে চরম র্দুব্যবহার। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৪ ঘটিকায় ওই ল্যাবে রোগী নিয়ে যায় উখিয়ার সদরে আবুল কাশেমের মেজ ছেলে মহি উদ্দিন খান। বিকাল ৪টায় ওই ল্যাবে স্ত্রী ও মাকে ডাঃ শংকর বড়–য়ার কাছে গেলে পূর্ব দিনের মোবাইল কল অনুযায়ী রোগীর সিরিয়াল ছিল ২৬ নম্বরে। যাওয়ার পরপরও দেখা যায় সিরিয়াল চলছিল ১৮ নম্বর পর্যন্ত। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টা বাজাঁর পরও ডাক্তারের ফি: পরিশোধ করার পরও সিরিয়াল নাম্বার নিয়ে ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকার সুযোগ না পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাইলে, সেখানে অবস্থান করা রিসেপশনের বাহিরে ভাড়াটিয়া মাস্তানরা বলেন, এখানে কোন কথা বলা যাবে না!! “তুমি সিরিয়াল নাম্বার বাবা ৩৬”। ভুক্তভোগী কেন জিজ্ঞেস করলে, প্রতি উত্তরে বলে, কেন এর জবাব না দেওয়ার জন্য আমরা এখানে আছি। এই বিষয়টি মালিক পক্ষের সাথে আলাপ করা হবে বলে, ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা মালিক পক্ষের মাকে নিয়েও অশালীন ভাষায় প্রতি উত্তরে জানান। ফলে ভুক্তভোগী অবাক হয়ে নি:চুপে চলে আসেন। সেঞ্চুরী ল্যাবে ভাল মানুষ গেলেও রোগীতে পরিণত হবে। দুগর্ন্ধে ভেতরে প্রবেশ করা কঠিন। স্টার্ফদের নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। নেই কোন মেশিনারিজ এবং বিধি মোতাবেক অবকাঠামো। অথচ প্রাইভেট ক্লিনিক নাম দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। বিস্তারিত জানতে গিয়ে দেখা যায়, কক্সবাজার সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে ওই ল্যাবটির নামে কোন অনুমোদন নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এঘটনায় ভুক্তভোগী মহি উদ্দিন খান স্বাস্থ্য মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এব্যাপারে জানাতে চাইলে সেঞ্চুরী ল্যাবের পরিচালক মাষ্টার মানিক দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, শুধু তাই নয় ওই সব স্টার্ফরা আমার কথাও শুনে না। কেন শুনেনা জানতে চাইলে তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন।
