এম.জিয়াবুল হক : চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নুরআয়েশা বেগম, হালিমা খাতুন ও এলমুন নাহার নামের তিন নারীকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামিরা ধরাচোঁয়ার বাইরে রয়েছে। হামলা তাÐবের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটির গৃহকর্তা আহমদ চোবাহান বাদি হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ্য করে গত ২০মে থানায় মামলাটি রুজু হলেও গেল ১৫দিনে পুলিশ একজন আসামিকেও গ্রেফতার করতে পারেনি। পুলিশ প্রশাসনের কাছে এজাহারনামীয় এসব আসামিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি করেছেন আক্রান্ত পরিবার ছাড়াও এলাকাবাসি। আসামিদের গ্রেফতার দাবিতে ছবিসহ এলাকায় পোস্টারিংও করেছে বিক্ষুদ্ধ জনসাধারণ।
অপরদিকে অভিযুক্ত আসামিরা পুলিশী গ্রেফতার এড়াতে দিনে পালিয়ে থাকলেও সুযোগ বুঝে এলাকায় এসে মামলা তুলে নিতে বাদিপক্ষকে নানাভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। এই অবস্থায় বাদি ও ভিকটিমদের পরিবার সদস্যরা আতঙ্কে ভুগছেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গত ১৮ মে বিকালে হামলা চালায় চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মিজাইল্যাকাটা বিলের হাসিমারকাটা জামে মসজিদের জমির উপর। এ ঘটনায় বাঁধা দিতে জমি মালিকপক্ষের অংশিদার তিন নারী মৃত আবদুল কাদের এর স্ত্রী নুর আয়েশা বেগম (৪৫), আহমদ চোবাহানের স্ত্রী হালিমা খাতুন (৫০) ও মৃত আবদুর রশিদের মেয়ে এলমুন নাহার (৪৫) কে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবার সদস্যরা। ঘটনার সময় নুর আয়েশা বেগমের একটি স্বর্ণের চেইনও লুটে নেয় হামলাকারীরা।
হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটির গৃহকর্তা আহমদ চোবাহান (৮৫) বাদি হয়ে গত ২০ মে চকরিয়া থানায় একটি হত্যাচেষ্ঠা মামলা রুজু করেন। এজাহারে হামলাকারী হিসেবে স্থানীয় হাসিমাকাটা এলাকার আবদুল গণির ছেলে হারুনর রশিদ, মামুনুর রশিদ, মোস্তাফা কামালের ছেলে মো.হোছাইন মুন্না, ইয়াছিন আরাফাত ও হাসান শরীফ মানিককে আসামি করা হয়।
বাদি আহমদ চোবাহান ও ভিকটিমদের পরিবার সদস্যরা অভিযোগ তুলেছেন, তাদের মামলাটি রুজু হবার পর ১৫ দিন সময় অতিবাহিত হলেও পুলিশ একজন আসামিকেও গ্রেফতার করতে পারেনি। সেইসুযোগে উল্টো আসামিপক্ষ দশদিন পরে সাজানো ঘটনা দেখিয়ে গত ৩০ মে আমাদের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় পাল্টা মামলা করেছে।
প্রতিপক্ষের মৃত মোস্তাফা কামালের স্ত্রী মর্তুজা বেগম বাদি হয়ে দায়ের করা ওই পাল্টা মামলায় বাদি আহমদ চোবাহান এবং ভিকটিম নুর আয়েশা, হালিমা খাতুন ও এলমুন নাহারসহ তাদের পরিবারের সাত সদস্যকে আসামি করেছে।
বাদি আহমদ চোবাহান এবং ভিকটিম নুর আয়েশা, হালিমা খাতুন, এলমুন নাহারসহ এলাকাবাসি হামলায় ঘটনায় অভিযুক্ত এজাহারনামীয় এসব আসামিদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং সাজানো পাল্টা মামলা থেকে নিস্তার পেতে কক্সবাজারের জেলা পুলিশ সুপারের কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে আহমদ চোবাহান বাদি হয়ে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটি তদন্ত করছেন চকরিয়া থানার এসআই গোলাম সরওয়ার। মামলার অগ্রগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলাটি রুজু হবার পর থেকে এজাহারনামীয় আসামিরা এলাকা ছেঁড়ে পালিয়ে গেছে। তাই আসামিদের গ্রেফতারে একটু বেগ পেতে হচ্ছে। তবে তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ##
