টেকনাফ টুডে ডেস্ক : মিয়ানমারে দ্য ইরাবতী নিউজ গ্রুপ ও দু’জন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি সব অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। একই সঙ্গে চলমান অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ কভার করা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুমকির মাধ্যমে ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। তারা আটক সব সাংবাদিকের মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছে। ১২ই মার্চ সামরিক জান্তা দ্য ইরাবতীর বিরুদ্ধে দ-বিধির ৫০৫(এ)-এর অধীনে অভিযুক্ত করে। এই ধারার উপধারাটি ব্যবহার করে কোনো ভুল তথ্য প্রকাশ করার জন্য উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে অথবা নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীতে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বা রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে বিদ্রোহ সৃষ্টি করতে পারে- এমন কোনো আর্টিকেল প্রকাশ করলে শাস্তির বিধান রয়েছে। এ বিষয়ে সিপিজের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন দ্য ইরাবতী পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা অং জাওয়া। ২০ শে ফেব্রুয়ারি ইরাবতী পত্রিকা একটি ভিডিও প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়, গ্রেপ্তারকৃত বিক্ষোভকারীদের পরিবারের সদস্যদের কাছে পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের মুক্তি দিতে এক কোটি ৩০ লাখ কিয়াত বা ৯২০০ ডলার ঘুষ দাবি করছেন।
অং জাওয়া এ তথ্য দিয়েছেন। এর কারণে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত প্রমাণিত হলে তিন বছরের জেল দেয়ার বিধান আছে। পৃথক এক ঘটনায় ১৯ শে মার্চ দুপুরে সাদা পোশাকের লোকজন বিবিসির সাংবাদিক অং থুরা এবং মিজিমার সাংবাদিক থান হতিককে আটক করে। এ সময় তারা ন্যাপিডতে একটি আদালতের বাইরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন। তারপর থেকে বিবিসি লিখেছে, তারা অং থুরার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। একই সঙ্গে তাকে কোথায় রাখা হয়েছে সে সম্পর্কেও জানা যায়নি। সিপিজের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া প্রতিনিধি শন ক্রিস্পিন বলেছেন, দ্য ইরাবতীর বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ অবিলম্বে অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে সামরিক জান্তাকে। একই সঙ্গে নিউজ গ্রুপটিকে অবাধে, প্রতিশোধ নেয়ার ভয়হীন অবস্থায় কাজ করতে দিতে হবে। কর্তৃপক্ষকে একই সঙ্গে মুক্তি দিতে হবে সাংবাদিক অং থুরা এবং থান হতিক অং’কে। তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়। এটাকে অপরাধ হিসেবে দেখা বন্ধ করতে হবে মিয়ানমারকে।
২০শে ফেব্রুয়ারি ওই ভিডিও প্রকাশের পর পরই সেনাবাহিনী পরিচালিতে মিয়ানমার রেডিও এবং টেলিভিশন দাবি করে যে, ওই ভিডিওটি ভুয়া। ওদিকে অং জাওয়া সিপিজেকে বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কারণে ইরাবতীর সাংবাদিক ও সম্পাদকরা রাতের বেলায় আত্মগোপনে থাকছেন। তারা তাদের প্রকাশনা গ্রুপকে নিরাপদ স্থান হিসেবে ইয়াঙ্গুন ব্যুরেতে নিয়ে গেছে, যাতে তারা প্রতিদিন খবর প্রকাশ করতে পারে। তিনি আরো বলেন, মান্দালয় এবং ন্যাপিডতে স্পেশাল ব্রাঞ্চের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে মার্চের প্রথম দিকে। তাদেরকে বলা হয়েছে, এসব শহরের কোথায় রয়েছেন ইরাবতীর স্টাফরা তা খুঁজে বের করতে। ওইসব শহরের সাংবাদিকরাও আত্মগোপনে রয়েছেন।
