টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কাজ হচ্ছে নিম্নমানের। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে চলতি বর্ষায়ই সড়কটি ভেঙে যাবে।
সূত্র জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ টেকনাফ পৌর শহরের কুলালপাড়া থেকে শাহপরীর দ্বীপ সড়কের হারিয়াখালী জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত আট কিলোমিটার উন্নয়ন (সড়ক মোরামত, বর্ধিতকরণ ও কার্পেটিং) ও ৯টি সেতু নির্মাণকাজের জন্য ১৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরএবি আরমি প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আবু বকর ছিদ্দিক এ কাজ পেয়েছেন। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে কাজটির ফলক উন্মোচন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান। এরপর পুরোদমে সড়ক ও সেতুর কাজ শুরু হয়। তবে কাজের মান নিয়ে স্থানীয় সচেতন মানুষ নানা প্রশ্ন তুলছে।
সেতু নির্মাণ ছাড়াও টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়ক উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে সড়কের দুই পাশে প্লাস ও গাইড ওয়াল নির্মাণ (মেরামত ও ১২ ফুট প্রস্থ সড়ককে ১৮ ফুট করা)। কাজে সিলেটি পাথর ব্যবহারসহ পানি দিয়ে রোলার কমপেকশন (সন্নিবিষ্ট) করার কথা থাকলেও কোনো কোনো স্থানে তা মানা হচ্ছে না। সড়ক ও সেতু উন্নয়নকাজে সার্বক্ষণিকভাবে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের উপসহকারী প্রকৌশলী থাকার নিয়ম থাকলেও তিনি কর্মস্থলে থাকেন না। শুধু মোস্তাক আহমদ নামের কার্যসহকারীর ওপর এ দায়িত্ব দিয়ে তাঁরা গরহাজির থাকেন। বাস্তবায়ন স্থানে কাজের ওপেন সাইনবোর্ড টানানোর নিয়ম থাকলেও তা নেই।
গত বুধবার সকালে টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়কের শীলবনিয়াপাড়া ও কুলালপাড়ায় গেলে সড়ক উন্নয়নকাজের শুরুতেই অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র ধরা পড়ে। দেখা যায়, পুরনো সড়কের ওপর স্থানীয় নিম্নমানের পাথর-বালু মিশ্রণ করে বিটুমিন-ছোট পাথরের প্রলেপ দিয়ে তড়িঘড়ি রোলার করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর হোসেন বলেন, ‘টেকনাফ-সাবরাং (টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়কের অংশ) সড়কটি বেশ কয়েক বছর ধরে খুব খারাপ অবস্থায় ছিল। তাই টেকসই রাস্তা নির্মাণ হবে এমনটি মনে করে সার্বিক সহযোগিতাও করেছি। কিন্তু এ ধরনের বালির রাস্তা নির্মাণ হবে তা ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে। এ রাস্তা চলতি বর্ষার মধ্যেই আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। ’
টেকনাফ সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গুরা মিয়া জানান, ‘সড়ক ও সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্পে সিলেটি পাথর ব্যবহার করার কথা থাকলেও কোনো কোনো স্থানে করা হচ্ছে না। ফলে কাজটি বেশিদিন টেকসই হবে না। ৭০ শতাংশ বালি আর ৩০ শতাংশ পাথর দিয়ে কিভাবে রাস্তা নির্মাণ শেষ করা হয়েছে তা বোধগম্য নয়। এতে সরকারের অর্থ অপচয় হবে। এ ব্যাপারে তদন্ত হওয়া দরকার। ’
এই কাজের দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার নুরুল করিম জানান, সড়ক উন্নয়নকাজের ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ অচিরেই শেষ হবে। ৭৫ শতাংশ পাথর ও ২৫ শতাংশ বালি দিয়ে প্লাড সলিং (পাথর-বালুর মিশ্রণ) করার কথা থাকলেও এখানে বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিন উন্নয়ন প্রকল্প স্থানে সওজের সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কক্সবাজার সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী রানা প্রিয় বড়ুয়া বলেন, এ বিষয়ে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
