লামার বাজার ফাইল ছবি
বিশেষ প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে লামার বাজার এলাকায় কতিপয় ব্যবসায়ীদের অবৈধ কর্মকান্ডে বিপাকে বৈধ ব্যবসায়ীরা। বাজার এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার পরেও এসব ব্যবসায়ীদের অপরাধ কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হচ্ছেনা বলে দাবী ব্যবসায়ী নেতাদের। ফলে ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে প্রকৃত বৈধ ব্যবসায়ীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,পৌরসভার লামার বাজার ছোট বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্টান রয়েছে। এসব ব্যবসা প্রতিষ্টানের মধ্যে রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক জুয়েলারী ব্যবসা প্রতিষ্টান। বাকী দেড় শতাধিক বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্টান। এসব ব্যবসা প্রতিষ্টানের অধিকাংশ মালিক সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, রামু ও অন্যান্য এলাকার।
ব্যবসায়ী নেতাদের সূত্র মতে, এসব ব্যবসা প্রতিষ্টানের মধ্যে ৮৫ শতাংশ ব্যবসায়ী কোননা কোন ভাবে বৈধ ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত। তবে বেশ কয়েকটি জুয়েলার্স ব্যবসায়ীর সাথে সিন্ডিকেট করে মুদী ব্যবসা ও কসমেটিক ব্যবসায়ীরা স্বর্ণ ও মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও কয়েকটি জুয়েলার্স কর্মচারী মাদকের চালান নিয়ে আটক হয়ে জামিনে বেরিয়ে এসে আবার জুয়েলার্স গুলোতে ফিরে এসেছে। এসব মাদক চালান জুয়েলার্স মালিকদের বলে জনশ্রতি থাকলেও অদৃশ্য কারনে মুলহোতারা পার পেয়ে যাচ্ছে। এই কারনেই স্বর্ণ ও মাদক ব্যবসা বেড়ে যাচ্ছে দ্বিগুন। অথচ তদন্তের নামে হয়রানীর শিকার হচ্ছে সাধারণ বৈধ ব্যবসায়ীরা।
এদিকে, গেলো ৮ নভেম্বর বিজিবির হাতে সাতকানিয়ার গণী বিপুল পরিমান স্বর্ণসহ আটক হওয়ার পরে বেড়িয়ে আসতে শুরু করেছে স্বর্ণ চোরাচালানের বিভিন্ন তথ্য। সূত্রমতে, টেকনাফ লামার বাজার কেন্দ্রীক অন্তত তিনটি স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের নাম উঠে এসেছে। এসব সিন্ডিকেট গুলো মূলত জুয়েলারী ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘ দিন ধরে স্বর্ণ চোরাচালানের সাথে জড়িত রয়েছে এমটি তথ্য জানা গেছে।
লামার বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছবুর সওদাগর জানান, বাজারে অপরাধ কর্মকান্ড ও ব্যবসায়ীদের গতিবিধি নজরদারী করতে গত মাসে লামার বাজার ব্যবসায়ী সমিতির অর্থায়নে গোটা বাজার এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। থানা পুলিশের সাথে অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রনে মতবিনিময় সভা হয়েছে। সভায় যেসব ব্যবসায়ী অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে তাদেরকে সতর্ক করার পরেও তারা অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বৈধ ব্যবসার আড়ালে কোন ব্যবসায়ী অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত হলে তার দ্বায়ভার নেবেনা কমিটির সভাপতি-সম্পাদক। তাছাড়া অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্টান বন্ধ করে দিতে প্রশাসনের সহযোগীতা নেয়া হবে।
