টেকনাফে নির্মানাধীন স্কুল কাম কমিউনিটি সেন্টারের মালামাল হরিলুট!

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

শাহ্ মুহাম্মদ রুবেল, কক্সবাজার |
টেকনাফ থানার সাবরাং ইউনিয়নের কাটাবনিয়া ও কচুবনিয়া সরকারী প্রাথামিক বিদ্যালয়ের পাশে নির্মানাধীন স্কুল কাম কমিউনিটি সেন্টারের মালামাল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার ২৩ ফেব্রুয়ারি চুরি হওয়া মালামালের অর্ধেক অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ চুরির ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাফর আহমেদের নেতৃত্বে কাটাবনিয়া ও কচুবনিয়ায় অভিযানে এসব মালামাল উদ্ধার করা হয়। অভিযানে কাটাবনিয়া এলাকার মোজাম্মেল, রহিমা ও আব্দুর মেয়ের বাড়ি থেকে নির্মান কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ রড-সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাফর আহমেদ বলেন, নির্মানাধীন ভবনের মালামাল চুরির অভিযোগে বিদ্যালয় কতৃপক্ষ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে যায়। এসময় বিপুল পরিমাণ নির্মান সামগ্রী উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সোপর্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চুরি হওয়া মালামাল নিয়ে মুরগির ফার্ম, প্রজেক্ট এবং ব্যক্তিগত বাড়ি নির্মান করায় বিরাট অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে কে বা কারা এসব মালামাল চুরি করে নির্মান কাজ করেছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি এ ইউপি সদস্য।

কাটাবনিয়া ও কচুবনিয়া সরকারী প্রাথামিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোছন আহমেদ বলেন, নির্মানাধীন ভবনের মালামাল চুরি অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এ ভবনটি নির্মান হলে একদিকে শিক্ষার্থীরা যেমন উন্নত সুযোগ সুবিধা নিয়া পড়াশুনা করতে পারতো অপরদিকে যেকোন ঘূর্ণিঝড় দুর্যোগে এ ভবনটি ব্যবহার করতে পারতো। এসব মালামাল চুরির পিছনে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন এ শিক্ষক।

জানা যায়, ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। এরপর ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংকের অনুদানে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে নয়াপাড়া থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত কানেক্টিং রাস্তাসহ স্কুল কাম কমিউনিটি সেন্টারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রায় ৬ কোটি টাকার বাজেটে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এর নির্মান কাজ শুরু করেন। চলতি বছরের জুনে এ ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এ নিয়ে সংশয় দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মুবিনুর রহমান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মুবিনুর রহমান বলেন, আমাদের বিপুল পরিমাণ রড, সিমেন্ট,ইট,বালি,পাথর চুরি হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ১০ লক্ষ টাকা। গতকাল এর কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করা যায়নি। এ নিয়ে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে বিপুল পরিমাণ মালামাল চুরি হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন এ ইঞ্জিনিয়ার।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের আশেপাশের একটি প্রভাবশালী চক্র নির্মানাধীন ভবনের মালামাল চুরি করে ব্যক্তিগত ফার্ম, ঘরবাড়ি তৈরি করেছে। ভবনের নাইট গার্ড আব্দুর রশীদকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মালামাল চুরির পিছনে যারা জড়িত তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

এদিকে এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পিছয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার মান উন্নয়নে নির্মানাধীণ ভবনের মালামাল চুরি এলাকাবাসীকে হতবাক করেছে। একদিকে বর্তমান সরকার আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়নে রাতদিন পরিশ্রম করছে অপরদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালামাল চুরি করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছে কিছুতে মেনে নিতে পারছেনা স্থানীয় সচেতন সমাজ। তারা এসব মালামাল চুরির পিছনে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।

  • কমিউনিটি সেন্টার