রঙ্গিখালীতে মাদ্রাসা সুপারের উপর হামলা শীর্ষক সংবাদের ব্যাখ্যা ও প্রতিবাদ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

গত ৩ আগষ্ঠ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ৪ আগষ্ঠ স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত “হ্নীলায় এক মাদ্রাসা সুপার হামলার শিকার : পুলিশী সহায়তায় উদ্ধার” শীর্ষক সংবাদটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যা তিলকে তালে পরিণত করে নাটক সাজিয়ে কৃত অপকর্ম ঢাকা দেওয়ার বৃথা চেষ্টা ছাড়া কিছুই না।
প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে তৎকালীন সভাপতি সিরাজুল মনোয়ারের নেতৃত্বে রঙ্গিখালী খাদিজাতুল কোবরা দাখিল মহিলা মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি ৪ বছরের ২৫ লক্ষ টাকা আতœসাত,অনিয়ম ও দূর্নীতির কারণে সুপার ফখরুল ইসলাম ফারুকীকে বহিস্কার করে রেজুলেশন করে সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা বিলকিস আরা বেগমকে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। উক্ত সুপার অনিয়ম,দূর্নীতি ও আতœসাতের হিসেব না দিয়ে কৌশলে কালক্ষেপন করায় তৎকালীন পরিচালনা কমিটির বিদ্যোৎসাহী সদস্য মোঃ জাফর আলম সাদেক বাদী হয়ে দূদকে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে দূদকের পরামর্শক্রমে কক্সবাজার জজকোর্টে একটি দূর্নীতি ও আতœসাতের মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নং-০১/২০১৮ইং। তারিখ:-১৬-০১-২০১৮ইং।
তখন সে নিজের অপকর্ম ঢেকে রাখতে অন্যায়ভাবে পুরান কমিটিকে বাদ দিয়ে জনৈক নুরুল হুদা মেম্বারের নেতৃত্বে একটি এডহক কমিটি গঠিত হয়। উক্ত কমিটির বিরুদ্ধে পূর্বের কমিটি আইনী পদক্ষেপ নিয়ে হাইকোর্টে রিট করলে মহামান্য আদালত রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উক্ত এডহক কমিটির যাবতীয় কার্য্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন। যার নং-পি-৩৪০৬১/১৮ইং। তখন হতে উক্ত মাদ্রাসা সুপার পূর্বের কমিটির সাথে আপোষ করার জন্য এলাকার বিভিন্ন জনের নিকট গিয়ে ধর্ণা দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে স্থানীয় জুম্মা পাড়ার মৃত আজিজুর রহমানের পুত্র মোঃ কলিমুল্লাহকে ৬মাস ধরে স্ববিনয় অনুরোধ করলে মানবিক দিক বিবেচনা ও মাদ্রাসার উন্নয়নের স্বার্থে মরহুম আলহাজ¦ এইচকে আনোয়ার চেয়ারম্যানের নিকট শরণাপন্ন হয়। তখন তিনিও মাদ্রাসার মঙ্গল চিন্তা করে বিবাদমান উভয়পক্ষকে নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছার জন্য তিন দফায় বৈঠক করেন এবং উভয়পক্ষ থেকে স্টাম্প নেন। সেখানে উল্লেখ ছিল যে,হাইকোর্টের রিটের প্রতি সম্মান দেখিয়ে পূর্বের কমিটিকে মাদ্রাসার যাবতীয় হিসেব-নিকেশ বুঝে দিয়ে সকলে মিলে-মিশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মাদ্রাসা পরিচালনা করবেন। কিন্তু উক্ত সুপার সমঝোতার পর হতে কোন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা না করেই ভিন্নপথ অবলম্বন করতে থাকে। এলাকার কিছু জনবিচ্ছিন্ন লোকদের সাথে গোপনে আতাঁত করে নতুনভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করে অন্যায়ভাবে আরো একটি এডহক কমিটি করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। তাতেও মধ্যস্থতাকারী মোঃ কলিমুল্লাহ উভয়ের সাথে বৈঠক করে তা মীমাংসা করে এবং মাদ্রাসার বিভিন্ন প্রকার অভাব-অভিযোগ ও দুই মাসের শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারী বেতন স্কেল অনুসারে ৫০% পরিশোধের সিদ্বান্ত গৃহীত হয়। বিগত রমজানের ৩/৪দিন পূর্বে উক্ত সুপারসহ সকল কর্মচারীদের সাবেক কমিটি বেতন প্রদান করেন। উক্ত সুপার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গ হতে মাদ্রাসার জন্য চাঁদা কালেকশনের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক আয়ের টাকাও কুক্ষিগত করে রাখে। উক্ত সুপারের নিকট থাকা এসব টাকা-পয়সার হিসেব চাইলে বিভিন্ন কৌশলে পাশ কাটিয়ে যায়। এরই মধ্যে উপজেলা প্রশাসন হতে মাদ্রাসার জন্য ১টন চাল বরাদ্ধ দেন। যার বাজার মূল্য ১৮হাজার টাকা উক্ত সুপার গ্রহণ করেন। এছাড়া সাম্প্রতিক কালের মাদ্রাসার প্রাতিষ্ঠানিক আয় প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা কুক্ষিগত করেন। এই বিষয়ে সাবেক কমিটির লোকজন জানতে চাইলে হিসেব দেবে দেবে বলে কালক্ষেপন করেন। এমতাবস্থায় মাদ্রাসাটি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ন্যায় এমপিওভূক্তি এবং স্বীকৃতি নবায়ন তদবিরের জন্য টাকা চাইলে পুরাতন কমিটির লোকজন উক্ত বিষয়ে তাহার নিকট থাকা প্রতিষ্ঠানের টাকা হতে কাজ সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। কিন্তু উক্ত সুপারের হাতে এখন কোন প্রকারের টাকা নেই দাবী করে পরবর্তীতে হিসেব-নিকেশের মাধ্যমে পরিশোধের শর্তে চলমান ১সপ্তাহের মধ্যে মাদ্রাসার স্বীকৃতি নবায়ন ও এমপিও তদবিরের জন্য ২য় দফায় ২৫হাজার টাকা গ্রহণ করেন। এই সংক্রান্ত ব্যাপারে যাবতীয় হিসেব দেওয়ার কথা থাকলেও ২২দিন যাবত কোন হিসেব না দেওয়ায় ফোনে বার বার কথা বলার চেষ্টা করলেও রিসিভ করেনি। পরবর্তীতে একদিন ফোন রিসিভ করে উক্ত বিষয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে কথা বলার জন্য আহবান জানান।
সেই সুত্রধরে গত ৩আগষ্ট সকাল সাড়ে ১০টারদিকে সাবেক কমিটির বিদ্যোৎসাহী সদস্য মোঃ জাফর আলম সাদেক, নুর মোহাম্মদ মামুন ও সুপারের মধ্যস্থতাকারী মোঃ কলিম উল্লাহ সুপারের অফিসে যায়। সুপারের সাথে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে মাদ্রাসার স্বীকৃতি নবায়ন ও এমপিও তদবিরের ব্যাপারে কি হয়েছে জানতে চাইলে তাঁরই ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে প্রতিষ্ঠানের কোন কাজই করতে পারেনি বলে জানান। তখন মধ্যস্থতাকারী কলিমুল্লাহ সুপারকে স্বীকৃতি নবায়ন ও এমপিও তদবিরের জন্য গৃহীত টাকা পুরাতন কমিটি বরাবর ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানায়। এরপর উক্ত সুপার টাকা ফেরত দেবেনা বলে তর্কে জড়িয়ে পড়লে পাশর্^বর্তী রোমের শিক্ষক-শিক্ষিকারা এসে উভয়পক্ষকে শান্ত করে। তখন তিনি গায়ের জোরে বৈঠক হতে বের হয়ে যাওয়ার সময় দরজা ধাক্কা লেগে হাতে একটু ব্যথা পায়। উক্ত মাদ্রাসার শিক্ষকদের সহযোগিতায় আবারো মাদ্রাসার ২য়তলার অফিসে উভয়পক্ষের মধ্যে বৈঠক হয়। তখন উক্ত বৈঠকে সংগঠিত ঘটনা ও মাদ্রাসার আনুসাঙ্গিক বিষয় নিয়ে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদে সমাধানে সিদ্ধান্ত হয়। পুরো বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত উভয়পক্ষ স্ব স্ব অবস্থানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে থাকার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর আমরা স্ব স্ব গন্তব্যে চলে যায়।
এরপর হঠাৎ করে উক্ত সুপার বিভিন্ন মহলের ইন্দনে হামলার অভিযোগ এনে প্রশাসনিক সহায়তা কামনা করে মাদ্রাসায় পুলিশ আনে। এই খবর পেয়ে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো বিষয়টি তদন্ত করেন এবং উভয়পক্ষের সাথে আলোচনা স্বাপেক্ষে এলাকার প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তি, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবকদের সমন্বয়ে সৃষ্ট এই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের আশ^াস প্রদান করলে উভয়পক্ষ সম্মত হয়। ইতিমধ্যেই উক্ত সুপারের উপর লাঠি-সোটা নিয়ে হামলা করে হাত ভেঙ্গে দেওয়া এবং কলিমুল্লাহকে জামায়াত ক্যাডার উল্লেখ করে ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে মিথ্যা,বানোয়াট,ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার চালিয়ে আমাদের সামাজিকভাবে হেয়পন্ন করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। আমরা উক্ত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ধর্মীয় একমাত্র নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষার জন্য সর্বস্তরের জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করছি।

প্রতিবাদকারী :
(১) নুর মোহাম্মদ
(২) মোঃ জাফর আলম সাদেক
(৩) মোঃ কলিমুল্লাহ
রঙ্গিখালী, হ্নীলা, টেকনাফ।