নুরুল করিম রাসেল : টেকনাফে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষ্যে বুধবার (২৬ জুন) সকালে শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাস বলেছেন, আমার জেল হউক আর ফাঁসি হউক টেকনাফ থেকে মাদক নির্মূল করবই করব।
তিনি বলেন, কল্পনা করা যায় ! টেকনাফে টমটম চালক থেকে শুরু করে স্কুল শিক্ষক, মেম্বার থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই ইয়াবা কারবারে ব্যস্ত।
ইয়াবা কারবারীদের টাকার গরমে আমাদের বাজার কমিটি, মসজিদ কমিটিতে কোন সম্মানিত ব্যক্তির স্থান হচ্ছিলনা, মুচি-মেথর-চামার-কুলিরা যখন ইয়াবা বিক্রি করে কোটিপতি বনে গেল তখন নির্মোহ, সৎ ও সম্মানিত ব্যক্তিরা সমাজে নিগৃহিত হতে শুরু করলো।
তাদের বাবাদের ভাইদের মোটর সাইকেলের অবৈধ কালো ধোঁয়া ও বিকট আওয়াজে সমাজ অস্থির এবং অসহনীয় হয়ে উঠল। বাজার সাধারন মানুষ মাছ কেনা থেকে দুরে থাকল।
ঠিক এমনি এক ভয়াবহ মুহুর্তে আমাদের পুলিশ সুপার মহোদয় ডিসি মহোদয়ের নেতৃত্বে টেকনাফে শুরু হয়ে গেল সাঁড়াশী অভিযান, শুরু হয়ে গেল মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। যুদ্ধে ধ্বংস হলো আলিশান ঘর বাড়ি, জলযান এবং আত্মসমর্পন করতে শুরু করলো ইয়াবা কারবারীরা গ্রেফতার হলো ভুরি-ভুরি।
রায়ট-পুলিশ-বিজিবি-র্যাব মাদকদ্রব্যের অভিযানে মানুষের মাঝে আস্থা ফিরে এলো। মানুষ ভুল বুঝতে শুরু করলো। নিগৃহিত সমাজ শ্রেনী সম্মানে ফিরে এলো।
প্রাণ ফিরে এলো টেকনাফে। শৃংখলা ফিরে এসেছে স্কুল কলেজে এমনকি পারিবারিক জীবনেও চলে এসেছে শৃংখলা। এখনকার মানুষ মেয়ে বিয়ে দিতে চিন্তা করে তারা কাকে মেয়ে বিয়ে দিবে। সে ইয়াবা কারবারী কিনা। শৃংখলা ফিরে এসেছে স্কুল কলেজে। ছাত্ররা সুশৃংখলভাবে সাথে স্কুল কলেজে যাতায়াত করতে শুরু করলো। মোটর সাইকেলের কালো ধোঁয়া বিকট আওয়াজ, এখন দেখা যায় না।
যে ইয়াবা টেকনাফ কে কলংকিত করেছে, বৃদ্ধাকে চেকেপোষ্টে হয়রানী করেছে, সম্মানিত করেছে অসম্মানিত, কুলি, মেথর মুচিকে সভাপতি করেছে, আমার জেল হউক আর ফাঁসি আমি টেকনাফকে মাদক মুক্ত করবই করব।
আমি কবির ভাষায় বলতে চাই
আমি মানি না তো কোন আইন
মহাপ্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর,
আমি দূর্বার,
আমি ভেঙে করি সব চুরমার!….
