এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া : পেকুয়া উপজেলার শীলখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ইফতি আকবর তাওসিফ এবছর পেকুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল তাঁর ইংরেজী বিষয়ের পরীক্ষা। পরীক্ষায় অংশনেয়ার ঠিক তিন ঘন্টা আগে বাড়িতে খবর আসে তাঁর বাবা মাওলানা নাজেম উদ্দিন (৪৮) আর বেঁচে নেই। তিনি সকাল ৬টারদিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ততক্ষনে বাড়িতে পরিবার সদস্যদের মাঝে কান্নার রোল পড়েছে। বাবার মৃত্যু শোকে হতভস্ব হয়ে পড়েন শিক্ষার্থী তাওসিফ।
এলাকাবাসি জানিয়েছেন, সকাল ৯টার কিছু আগে চমেক থেকে বাড়িতে আনা হয় বাবার মরদেহ। ওইসময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন পরিবারের সবাই। সবার মতো বাবার মরদেহের পাশের বসে অঝোরে কেঁদেছে শিক্ষার্থী তাওসিফ। জন্মদাতা বাবার নিস্তেজ মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেও গতকালের অনুষ্ঠিত পরীক্ষা দেয়ার মনস্থির থেকে পিছিয়ে যায়নি অধম্য তাওসিফ।
শেষমেষ বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখেই সকাল ৯টায় পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে চলে যান তাওসিফ। দুপুরে কোনমতে পরীক্ষা শেষ করে বাড়িতে ফেরার সাথে সাথেই আবারও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অদম্য তাওসিফ। ওইসময় পরিবার সদস্যদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে আশপাশের পরিবেশ। একপর্যায়ে হৃদয় বিদারক ঘটনায় এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া।
মাওলানা নাজেম উদ্দিন পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোঁয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্তরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব গোঁয়াখালী গ্রামে। তিনি কয়েকদিন ধরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
শিক্ষার্থী তাওসিফর চাচা পেকুয়া উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক ছেলের নেজাম উদ্দিন বলেন, আমার ভাই নাজেম উদ্দিন ভালো মানুষ ছিলেন। শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থেকে তিনি মৃত্যু বরণ করেছেন। তিনি লেখাপড়ার মাধ্যমে সন্তানদেরকে তাঁর আর্দশে মানুষ করেছেন। তিনি বলেন, বাবার শেখানো আর্দশ ধারণ করেই ছেলে তাওসিফ নিজের ইচ্ছায় বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিয়েছে।
পেকুয়া মডেল সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহির উদ্দিন বলেন, তাওসিফ আমাদের বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছে। সে খুবই মেধাবী ছাত্র। অষ্টম শ্রেণীর জেএসসি পরিক্ষায় গোল্ডেন এপ্লাস ও বৃত্তি পেয়েছে। এসএসসিতেও ইনশালাহ ভাল করবে।
তিনি বলেন, পরীক্ষার দিন বাবা মারা গেলেও মরদেহ বাড়িতে রেখে সে পরিক্ষা দেয়ায় আমরা খুঁশি। দোয়া করি আমার ছাত্র অনেক বড় হবে।
পেকুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সচিব আবদুল কাদের বলেন, বাবার মৃত্যুর খবরটি আমরা পাওয়ার সাথে সাথে পরিক্ষার হলে গিয়ে ছেলেটির (তাওসিফ) সঙ্গে দেখা করি। পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থী তাওসিফর চেহেরায় কষ্টের ভাব দেখা গেলেও মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী ছিল। তাকে কোন ধরণের ভাবনায় না থেকে সুন্দরভাবে পরীক্ষা দেয়ার জন্য উৎসাহ দিয়েছি। শেষ পর্যন্ত তাওসিফ খাতায় যথেষ্ট মনোযোগ দিয়ে লিখেছে।
