আমাদের নায়ক

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

টেকনাফ টুডে ডটকম : টেকনাফের কৃতি সন্তান যুগ্ন সচিব নজির আহমদকে নিয়ে লেখা আরেক কৃতি সন্তান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রফেসর ডা. এ কে এম রেজাউল করিমের লেখাটি ফেইসবুকের টাইমলাইন থেকে টেকনাফ টুডের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো : সত্তরের দশকের কথা।একেবারেই মফস্বল টেকনাফ স্কুলের ছাত্র আমরা। দেশ স্বাধীন হবার দশক,বিভিন্ন চড়ায় উতরায় এর মধ্যে দিয়ে সময় যাচ্ছে। শিক্ষকরা ছাত্রদের পিতাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে স্কুলের ছাত্র জোগাড় করেন। তারমধ্যেই অনেক ছাত্র মাঝ পথে ঝরে যায়। পাঁচ ছয় কিলোমিটার দূর থেকে হেতে আসতে হয়। পরীক্ষার কেন্দ্র নেই, তাই ৮ম শ্রেনীর বৃত্তি ও এসএসসি দেবার জন্য জেলা শহর কক্সবাজার যেতে হয়।হয়ত বংশের একমাত্র ছেলে লেখা পড়া করছে, তাই নতুন চলার পথে শত বাঁধা।

লেখাপড়া করে যে খুব বেশী বৈষয়িক লাভ নেই সেটার বাস্তব প্রমান তাদের চোখের সামনেই আছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক এলাকার সন্তান সেকেন্ড ক্লাসে বিকম পাশ করে স্বাধীনতা উত্তর স্কুলের হাল ধরেছেন, স্থানীয় আরো কিছু শিক্ষক আছেন, পদ মর্যাদা ভেদে চার, পাঁচ , ছয়শ টাকা বেতন পান। ক্রমাগত উর্ধমূখী বাজারে সেই স্কুলের শিক্ষকদের গরিবী হাল সবাই বুঝে। এলাকার কোন ছেলে ডাক্তার ইন্জিনিয়ার ইপিসিএস বিসিএস মিলিটারী অফিসার ছিলনা, যাদের দেখে অন্যরা জানবে লেখাপড়া করলে গরীব শিক্ষক ছাড়া আর কি কি হওয়া যায়।

প্রতিবছর এস এস সি র ফল বের হলে একটু উত্তেজনা সৃস্টি হয়। একজন হয়ত ফার্স্ট ডিভিশন পায়, কিছু সেকেন্ড, বাকীরা থার্ড ডিভিশন বা ফেল। পাশদের বিয়ের বাজার ভাল হয়, ১/২ জন হয়ত কলেজ মূখী হয়। সেও ৪/৫ ঘন্টার দূরত্বে কক্সবাজার শহরে।

হঠাৎ করে সেই স্কুলের এক ছাত্র কুমিল্লা বোর্ডে একেবারে নবম স্ট্যান্ড করে বসল। স্কুলের শিক্ষকরা ও কোনদিন যা হয়ত ভাবেন নি। চারিদিকে সাড়া পরে গেল। যাকে তাঁর বন্ধুরা ছাড়া অন্যরা খুব একটা চিনত না, তিনি রাতারাতি সেই মফস্বলের আলোচিত মুখ হয়ে গেলেন। আমরা যারা জুনিয়র ছাত্র তাদের কাছে আক্ষরিক অর্থেই নায়ক।

টেকনাফের সর্বশেষ প্রান্ত থেকে ৩/৪ কিলোমিটার হেটে অনেক প্রতিকূলত ডিংগিয়ে স্কুলে পড়াশুনা করেছেন। আশাতীত ভাল রেজাল্ট করার কারনে উচ্চ শিক্ষার জন্য চট্টগ্রাম মূখী হলেন। গাইড করবে সে রকম কেউ উনার ছিলনা, বরং ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি অনেকে বন্ধুর গাইড/গার্জিয়ান সেজে কলেজের প্রিন্সিপাল এর সাথে দেখা করে দেন দরবার করতেন, সে গল্প আমাদের হাসির খোরাক হত।

অসাধারন মেধাবী এই মানুষটি বিভিন্ন পারিবারিক সমস্যার কারনে খুব ভাল একাডেমিক ক্যারিয়ার করতে পারেন নি। পরিবারের সচ্চলতার জন্য মাঝখানে ব্যবসা বানিজ্য শুরু করেছিলেন। হঠাৎ কি মনে বিসিএস দিয়ে সরকারী চাকরীতে যোগ দিলেন।

আমাদের নায়ক, একেবারেই Self made man Nazir Ahmad ভাই গতকাল বাংলাদেশ সরকারের যুগ্ম সচিব হিসাবে পদোন্নতি লাভ করেছেন। মৃদুভাষী, আন্তরিক, পরোপকারী এই মানুষটির সুস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করছি। 0E90604D BB78 4A39 A11B 0A94AE69892E TEKNAF TODAY - সীমান্তের সর্বশেষ খবর