বনাঞ্চল কমে যাওয়া, আবাসস্থল ও খাদ্য সংকটে পতিত হাতি বনাম মানুষের লড়াই
মো.কামরুজ্জামান, লামা :
লামা ফাঁসিয়াখালীর হারগাজায় মাসব্যাপি বন্য হাতির তান্ডব। এক মহিলার প্রাণ হানী ৪০টি বসতঘর গুড়িয়ে দিয়েছে গজ মামারা। আশপাশের তিন গ্রামের শতাধিক পরিবার হাতি আতংকে দিন রাত পাহারারত রয়েছে। মাস খানেক আগে হামলার শুরুতে এক মহিলা প্রাণ হারায় হাতির আক্রোমনে। বঙ্গবন্ধু সাপারী পার্কের তিন কিলোমিটারের মধ্যে লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে মাস ব্যাপি এই তান্ডব চলছে। এর আগে থেকে ওই ইউনিয়নে হাতি বনাম মানুষের লড়াই বিগত ৪০ বছর ধরে চলছে। হাতির আক্রোমনের বিষয়ে মানুষ আগের তূনায় অনেক সচেতন হওয়ার ফলে প্রাণ হানীর সংখ্যা কমলেও প্রচুর পরিমান সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। মানুষ বনাম বন্য হাতির এই লড়াইয়ে হয়তো হাতিরা হেরে যাবে; প্রশ্নবিদ্ধ হবে সরকারের হাতি রক্ষণা-বেক্ষন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ববোধের জায়গা।
লামা উপজেলার বন্য হাতির আক্রোমন প্রবন এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ফাঁসিয়াখালী, ফাইতং, সরই, গজালিয়া ও আজিজনগর। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের সবকটি ওয়ার্ডে বছরে কয়েকবার করে হাতি হামলা চালায়। এতে প্রাণহানীসহ সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। এই ইউনিয়নের সব চেয়ে হাতি প্রবন হচ্ছে ২ নং ওয়ার্ড হারগাজা এলাকার মইশ খাইল্যা পাড়া ও ফকিরা খোলা। মাসব্যপি হাতি আতংকে থাকা হারগাজার বাসিন্দা কৃষকলীগের সভাপতি মো: রফিক শনিবার (১৪ জুলাই) রাতে এই প্রতিনিধিকে জানান, গত একমাস ধরে ৩/৪টি হাতি দলবদ্ধ কিংবা এককভাবে ওই গ্রামের প্রায় ৪০টি বসতঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। প্রান্তিক কৃষতের ক্ষেতের ধান শেষ করে হাতির দল ধানের গোলার সন্ধানে ওই তিন গ্রামের প্রতিটি বসত ঘরে হামলা চালাচ্ছে। গত একমাস আগে হামলার প্রথম দিনে একজন নারী প্রাণ হারায়। এই কৃষক জানান, এব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সবাই জানেন। কিন্তু মাসব্রপি হাতির আক্রোমনের শিকার তিন গ্রামের মানুষের পাশে দাড়ায়নি কেউ। এখনো হাতির একের পর এক আক্রোমন চলছে। স্থানীয়রা বসতঘরসহ জানমাল রক্ষার জন্য রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, বনবিভাগের লোকেরা সরেজমিন গিয়েছে। বিষয়টি উধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে বিধি অনুযায়ী সহযোগিতা করা হবে।
জানাযায়, এক সময় ২০/৩০টি হাতি এক সাথে বিচরণ করতো। এর মধ্যে দু’একটি ছিল খুবই রাগি হাতি, সামনে যা পড়তো তাই মেচাকার অবস্থা করে দিত। বাকি হাতিরা দলবদ্ধ হয়ে ধান ক্ষেতে নয়তোবা অন্যকোন ফল-ফসলে নেমে তাদের ক্ষুধা মিটিয়ে ২/৩ বা পক্ষকাল অবস্থান নিয়ে ফেরৎ যেত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাতির সংখ্যা কমে এসেছে। এর কারণ জানাযায়, হাতি বনাম কিছু স্বার্থপর বাগান উদ্যাক্তাদের লড়াইয়ে হাতির সংখ্যা কমে গেছে(!)। কিছুদিন আগেও সানমার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যাক্তির বিরুদ্ধে হাতি নিধনের অভিযোগে আদালতে মামলাও হয়েছিল।
অপরদিকে পার্বত্য লামা উপজেলায় বনাঞ্চল উজাড়, বন দখল করে কৃষি জমির বিস্তার, যত্রতত্র জনবসতি, ব্রিকফিল্ড স্থাপনের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বন্য হাতি। সূত্রে জানাযায়, দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করা হাতির পরিমান ২৩০-২৪০টি। এর মধ্যে লামা-নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বনাঞ্চলে রয়েছে ৫০টির মতো হাতি। নানান কারণে হাতির অনুকুল পরিবেশ বিনষ্ট হয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে হাতির আক্রোমনে বিগত তিন দশকে অনেকে প্রাণ হানীর ঘটনাও ঘটেছে। দাঁত পাচারকারী চক্রসহ প্রাণ ও বন রক্ষার নামে মানুষের হাতেও বহু হাতি মারা পড়েছে।
