এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :
চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীর ভাঙ্গন ঠেকাতে এবার পানি উন্নয়ন বোর্ড চারশত কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে একটি মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রকল্পের বিপরীতে অর্থবরাদ্দ নিশ্চিতের মাধ্যমে কাজের অনুমতি দানের জন্য আবেদন জানিয়ে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড। সমীক্ষার মাধ্যমে পাউবো গতমাসে পানি সম্পদ মন্ত্রানালয়ে এই চাহিদাপত্র প্রেরণ করেছেন। প্রকল্পের আওতায় দুইশত কোটি টাকা অর্থায়নে নদীর ৪০ কিলোমিটার এলাকায় ড্রেজিং এবং আরো দুইশত ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙ্গন ঠেকাতে পাথরের ব্লকদ্বারা টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (একনেক) পাঠাচ্ছে মন্ত্রানালয়। একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে তারপর মাতামুহুরী নদীর শাসন সংরক্ষনের কাজ পুরোদমে শুরু করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.সবিবুর রহমান।
প্রমক্তা মাতামুহুরী নদী চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অন্যতম উৎস হলেও প্রকৃতির বৈরী আচরণে গত দুইযুগ ধরে মাতামুহুরী নদী জনগনের কাছে অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে প্রতিবছর বর্ষাকালে ভারী বর্ষণের কারণে নদীতে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামলে শুরু হয় বন্যার তান্ডব। ঢলের পানির সাথে পাহাড় ভিজে নেমে আসা পলি জমে প্রমক্তা মাতামুহুরী বছরের পর বছর ভরাট হতে শুরু করে। এ অবস্থায় প্রতিবছর বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলে নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে গেলে তীরবর্তী জনপদ তলিয়ে যায় বানের পানিতে। পরবর্তী সময়ে বানের পানি লোকালয় থেকে নেমে যাওয়ার প্রাক্কালে নদীর দুইতীরে শুরু হয় ভয়াবহ ভাঙ্গনের তান্ডব। প্রতিবছর বর্ষাকালে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বিলীন হচ্ছে শত শত বসতঘল, দোকান-পাট, মসজিদ মাদরাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপুর্ণ একাধিক সড়ক। এভাবে ভাঙ্গনে দুই দশকে কমপক্ষে ১০হাজার পরিবার ভিটেবাড়ি হারিয়ে গৃহহীন হয়েছেন। এখনো ভাঙ্গন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন লক্ষাধিক জনসাধারণ।
গতকাল মঙ্গলবার মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টের ভাঙ্গন এলাকা পরির্দশন করেছেন কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.সবিবুর রহমান, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম। ওইসময় উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী, সচিব মাস-উদ-মোর্শেদ, পৌরসভার কাউন্সিলর মকছুদুল হক মধু, কাউন্সিলর রেজাউল করিম, লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কাইছার ও পাউবো চকরিয়া শাখা কর্মকর্তা তারেক বিন সগীর প্রমুখ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের চকরিয়া শাখা কর্মকর্তা (এসও) তারেক বিন সগীর জানান, মাতামুহুরী নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধে বর্তমানে পাউবো অর্থায়নে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পাথরের ব্লকদ্বারা টেকসই একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। তবে পর্যাপ্ত অর্থবরাদ্দ না থাকার কারনে সদিচ্ছা থাকা সর্ত্বেও অনেক এলাকায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা। ইতোমধ্যে সমীক্ষা চালিয়ে মাতামুহুরী নদী শাসন সংরক্ষনে একটি মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন পাউবো। প্রকল্পের আওতায় অন্তত ৪০ কিলোমিটার এলাকায় ড্রেজিং (খনন কার্যক্রম) ও দুইশত কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে অধিক ঝুঁিকপুর্ণ এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে পাথরের ব্লকদ্বারা টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্বান্ত রয়েছে। সর্বশেষ গতমাসে মেগাপ্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিপরীতে চাহিদা অনুযায়ী অর্থবরাদ্দ নিশ্চিতের আবেদন জানিয়ে কক্সবাজার পাউবো পানি সম্পদ মন্ত্রানালয়ে চাহিদাপত্র প্রেরণ করেছেন।
মাতামুহুরী নদীর ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন শেষে চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম বলেছেন, দেশের অগ্রগতি উন্নয়ন ও জনগনের কল্যানে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রানালয় কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে। কিন্তু অনেক সময় কতিপয় নীতিমালার কারনে দুর্যোগ মুর্হুতে এলাকার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জরুরী ভিত্তিতে কাজ করতে পারেনা। বিশেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতি মুর্হুতে দুর্যোগের বিপরীতে কাজ করেন। সেখানে কোন একটি জায়গায় জরুরী ভিত্তিতে তাঁরা কাজ করতে সদিচ্ছা দেখালেও তা সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে প্রকল্পের অর্থবরাদ্দ ও কাজ করার অনুমোদন নিতে নিতে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাটি আরো বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, জনগনের জানমাল ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরী ভিত্তিতে দুর্যোগ কালীন সময়ে কাজ করতে হবে। সেইজন্য বিষয়টির আলোকে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রানালয় ও দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
