সেন্টমার্টিন্স থেকে টেকনাফে আসা রোহিঙ্গা শ্রমিকের গু*লি*বি*দ্ধ হয়ে আহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে ধূম্রজাল

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ২ years ago

কক্সবাজার প্রতিনিধি :
সেন্টমার্টিন্স থেকে ট্রলারে করে টেকনাফে আসা এক রোহিঙ্গার গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে আহত এই রোহিঙ্গা কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা প্রথমে দাবি করেছিল সেন্টমার্টিন থেকে ট্রলারযোগে ফেরার পথে জলসীমার মিয়ানমারের অংশ থেকে আকস্মিক ছোঁড়া গুলিতে তিনি আহত হয়েছেন। তবে শুক্রবার রাতে সাংবাদিকদের কাছে ঘটনা বর্ননার করতে গিয়ে অসংলগ্ন কথা বলায় গুলিবিদ্ধ হওয়া নিয়ে মারাত্মক ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়।

তবে আইন শৃংখলা বাহিনীসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে সবধরণের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘটনার দিন ওই নৌরুট দিয়ে সেন্টমার্টিন থেকে কোন ট্রলার নাফ নদী হয়ে টেকনাফ আসেনি।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোহিঙ্গা যুবকের নাম আলী জোহার (৩০)।

তার দেওয়া তথ্য মতে, তার পিতা হামিদ হোসেন। তিনি উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার থেকে পালিয়ে পরিবারসহ তিনি কক্সবাজারের উখিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে। শুক্রবার (১৪ জুন) রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলী জোহার বলেন সেন্টমার্টিন্স থেকে টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপে এসে ট্রলারে পৌঁছালে হঠাৎ গুলির আওয়াজ শুনে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পায়ের আঘাতটি গুলির নাকি অন্য কিছুর বুঝতেছিনা। এসময় তিনি নানা অসংলগ্ন কথা বলেন।

আলী জোহর জানান বৃহস্পতিবার সেন্টমার্টিন থেকে চারটি ট্রলারে করে দ্বীপে আটকা পড়া লোকজনকে টেকনাফে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু দ্বীপে আটকে থাকা সবাই সেই ট্রলারগুলোতে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় উঠতে পারেননি।

এসময় ৩০/৩৫ জন যাত্রী একজোট হয়ে আরেকটি কাঠের ট্রলার ভাড়া করে রওনা দেয়। শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাশ থেকে কূলে উঠার কথা থাকলেও ট্রলারের মাঝি সেটা না মেনে তাদেরকে নিয়ে যায় শাহপরীর দ্বীপের পূর্বপাশের ঘাটের দিকে।

এ রোহিঙ্গা বলেন, তাদের বহনকারি ট্রলারটি নাফ নদীর শাহপরীর দ্বীপের পূর্বে পৌঁছালে আকস্মিক জলসীমার মিয়ানমার অংশ থেকে দুইটি ট্রলার বের হয়ে সীমানার কাছাকাছি এসে তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে।

আলী জোহার প্রথমে দাবি করেন, নাফ নদীর ৫ কিলোমিটার দূরত্ব থেকে তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি করেছে। তার পায়ে গুলি লাগার পর অজ্ঞান হয়ে যায়। তারপর আর কিছু বলতে পারে না। পরে জ্ঞান ফিরে দেখি উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। পরে শুক্রবার দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। রাতে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে জানায় গুলির আওয়াজ শুনেছে তবে আঘাতটি কিসের বলতে পারছে না।

মূলত একমাস আগে ক্যাম্প থেকে কাজের জন্য সেন্টমার্টিনে যায় দাবি করেন তিনি। সেখানে একটি টিকাদারী প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকের কাজ করতো। বিভিন্ন সুত্র থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে টেকনাফে আসার সময় ট্রলার থেকে নামার সময় তিনি পায়ে গুরুতর আঘাত পায়। টেকনাফে পৌঁছে টিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তাকে টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।

সেন্টমার্টিন ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ও স্পীডবোট মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, বৃহস্পতিবার ৪টি ট্রলার ছাড়া আর কোন ট্রলার টেকনাফ যায়নি। নাফ নদীতে গোলাগুলি হচ্ছে তাই কোন ট্রলার নাফ নদী হয়ে টেকনাফ যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আলী জোহার হয়তো মিথ্যাচার করছে।

টেকনাফ থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, বৃহস্পতিবার বোট মালিক সমিতির সভাপতি রশিদ আহমেদের মালিকানাধীন ৪টি ট্রলারে করে প্রায় ৩০০ মানুষ বঙ্গোপসাগর হয়ে টেকনাফ পৌছায়। এর বাইরে আর কোন ট্রলার নাফ নদী কিংবা বঙ্গোপসাগর হয়ে টেকনাফ আসেনি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো. ইয়ামিন হোসেন বলেন, সেন্টমার্টিন থেকে বঙ্গোপসাগর হয়ে ৪টি ট্রলার ছাড়া আর কোন ট্রলার টেকনাফ আসেনি। এখন গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা সেন্টমার্টিন থেকে ট্রলার যোগে টেকনাফ আসার পথে গুলিবিদ্ধি হয়েছে এই ধরণের কোন তথ্য নেই।

এদিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হলেও সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসা গ্রহনের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।