সাবরাং নাফ নদীর উপকূল দিয়ে থেমে থেমে ইয়াবা ঢুকছে : সীমান্ত রক্ষীর হাতে ইয়াবা জব্দ হলেও আটক হচ্ছে না ওরা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন – ১১ পর্ব

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
সাবরাং নাফ নদীর উপকূল অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। মিয়ানমার মংডু সীমান্ত এলাকা দিয়ে বস্তা বস্তা ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান থেমে থেমে ঢুকছে। নাফ নদীর জিরো পয়েন্ট দিয়ে এসব ইয়াবার বহর দুদেশের পাচারকারীদের মাধ্যমে হাতবদল হয়ে উপকূলের আলোচিত চোরাই পয়েন্ট দিয়ে খালাস হচ্ছে। নাফ নদীর উপকূলের আড়াই নাম্বার স্লুুইসগেইট থেকে চার নাম্বার স্লুসগেট পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটারের মধ্যে ইয়াবা স্বর্ণের চালান সমানতালে ঢুকছে। সাগর এবং উপকূল ইয়াবা পাচারের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টদের কড়া নজরদারী থাকার প্রেক্ষিতে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা রুট পরিবর্তন করে এখন সাবরাং নাফ নদীর উপকূলকে ওরা ইয়াবা ও স্বর্ণ পাচারকে নিরাপদ মনে করছেন। ইতিপূর্বে বর্ডার গার্ড বিজিবি ও কোষ্টগার্ড বাহিনীর পৃথক অভিযানে বস্তা বস্তা ইয়াবা জব্দ হচ্ছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পাচারকারীরা আটক হচ্ছেনা।

সাবরাং ৪নং ওয়ার্ড নয়াপাড়া, জিনাপাড়া, ডেগিল্ল্যারবিল, হারিয়াখালী, দক্ষিণ নয়াপাড়া এখন ইয়াবার ঘাটিতে পরিনত হয়েছে। উপকূলের লবণ মাঠে পাচার হয়ে আসা বস্তা বস্তা ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান গোপনস্থানে মওজুদ করে এবং পরে লবণের আড়ালে পরিবহনের মাধ্যমে পাচার হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যায়।

অনুসন্ধান করতে গিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায় মওজুদকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট ও স্বর্ণের চালান কাবার্ড ভ্যান ও ট্রাক ভর্তি লবণের আড়ালে বেশীর ভাগ পাচার হয়ে যায়। সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও ঢাকায় আইন শৃংখলা বাহিনীর পৃথক অভিযানে এ দুইটি পরিবহনের ভিতর থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে।

সাবরাং ৪নং ওয়ার্ডস্থ ৫টি পাড়ায় প্রায় ঘরে ঘরে ইয়াবার ডিলার ও খুচরা ব্যবসা চলছে। অনেকেই ইয়াবা ব্যবসা করে হঠাৎ আংগুল ফুলে কলাগাছে পরিনত হয়ে অত্যাধুনিক বাড়ী, গাড়ী, ট্রাক, কাবার ভ্যান, মাইক্রো, যাত্রীবাহীবাস, নোহা, প্লাট ও জায়গা জমির মালিক বনে যায়। আবার অনেকেই কালোটাকা সাদা করে এখন রাজার হালতে জীবন যাপন করছে।

জলে অভিযান থাকলেও স্থলে কিন্তু দৃশ্যমান ইয়াবা বিরুধী অভিযান নেই। ফলে সীমান্তে এলাকায় অনেকেই কালো টাকার মালিক বনে গেছে।

এদিকে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রনে রাখতে প্রায় ইয়াবা ব্যবসায়ী অবৈধ অস্ত্রের মালিক। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এ অস্ত্রের প্রয়োজন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী অকপটে একথা বলেন।

টেকনাফ মডেল থানার (ও’সি) রনজিত কুমার বড়–য়া বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স এবং ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কোন মতে ছাড় দেওয়া যাবেনা। অভিযান চলছে এবং চলবে।