এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া : চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নে দাফনের পাঁচমাস পর আদালতের নির্দেশে জিহাদুল ইসলাম ওরফে রায়হান চৌধুরী (২২) নামের এক যুবকের গলিত মরদেহ ফের কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে চকরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট খন্দকার ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাতের উপস্থিতিতে চকরিয়া থানার এসআই সুকান্ত চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশের একটিদল লাশটি উত্তোলন করেন। জিহাদুল ইউনিয়নের দীঘিরপাড় এলাকার মৌলভী মোহাম্মদ ইউনুছের ছেলে।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, ২০১৮সালের ৫ নভেম্বর রাত দশটার দিকে চকরিয়া উপজেলা কাকারা ইউনিয়নের এসএম চরপাড়ার মৌলভী মোহাম্মদ ইউনুছের ছেলে জিহাদুল ইসলাম ওরফে রায়হান চৌধুরী বাড়ির পাশে নিজেদের মুদির দোকান বন্ধ করে ব্যাটমিন্টন খেলতে যায়। খেলা শেষে রাত ১২টায় রায়হান তার দোকানে ঘুমাতে যায়।
ওইদিন রাত আড়াইটার দিকে কয়েকজন দূর্বৃত্ত দোকানের বাহির থেকে অগ্নিসংযোগ করে। এসময় আগুনের লেলিহান শিখা দোকানের চারপাশে ছড়িয়ে পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় জিহাদুলের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে রায়হানের মৃত দেহ উদ্ধার করেন। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ওইদিন বিনা ময়নাতদন্তে জিহাদুলের দাফন সম্পন্ন হয়।
লাশ দাফনের প্রায় দুইমাস পর মামলার বাদী নিহত জিহাদুলের বাবা মোহাম্মদ ইউনুছ চকরিয়া প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, তার ছেলে জিহাদুল ইসলামকে পূর্বশত্রুতার জের ধরে স্থানীয় বখাটে গিয়াস উদ্দিন ও জাহেদুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে দোকানে আগুন লাগিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করেছে। মুলত খুনিরা আমার পরিবারকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে পথের কাটা সরাতে দোকানে আগুন দিয়ে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।
সর্বশেষ গতবছরের ২৭ ডিসেম্বর ছেলের মৃত্যুর ঘটনাটি পরিকল্পিত ও শত্রæতামুলক দাবি করেন তাঁর বাবা মৌলভী মোহাম্মদ ইউনুছ বাদি হয়ে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় দুইজনকে আসামি করা হয়। অভিযুক্তরা হলেন কাকারা ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়া গ্রামের গোলাম কাদেরের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৩৬) একই এলাকার নুরুল আলমের ছেলে জাহেদুল ইসলাম (২৪)। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেয়ার জন্য চকরিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশক্রমে পরবর্তীতে চকরিয়া থানার ওসি মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী মামলাটি তদন্তের জন্য থানার এসআই সুকান্ত চৌধুরীকে দায়িত্ব ন্যাস্ত করেন। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উৎঘাটনে তদন্ত কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকরিয়া থানার এসআই সুকান্ত চৌধুরী বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্বভার পেয়ে সুচারুভাবে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করি। প্রথমে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। এরপর স্থানীয় লোকজনের বক্তব্য নিই।
তিনি বলেন, মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে লাশটি যেহেতু বিনা ময়নাতদন্তে দাফন হয়েছে, সেকারণে তদন্ত কার্যক্রমে অনেকগুলো সমস্যা দেখা দেয়। সেই কারনে আমি বিষয়টি আদালতের কাছে উপস্থাপন করি। এরপর আদালতের বিচারক আইন মোতাবেক কবর থেকে লাশটি উত্তোলন পুর্বক ময়নাতদন্তের জন্য নির্দেশ দেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মামলার অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনে লাশটি উত্তোলনে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। সেই আলোকে একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে গতকাল দুপুরে কবর থেকে নিহত জিহাদুলের লাশটি উত্তোলন পরবর্তী ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার মো.ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত বলেন, উত্তোলন করা কঙ্কাল কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত হবে। তবে সিভিল সার্জন যদি করে ভিসেরা রিপোর্টের জন্য কঙ্কালের প্রয়োজনীয় অংশ চট্টগ্রামে পাঠানো হবে। এরপর ময়নাতদন্ত রির্পোট হাতে আসলে ঘটনার সত্যতা উৎঘাটন হবে। #
