রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেবার নামে এনজিও সংস্থা ব্র্যাকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হরিলুটের অভিযোগ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

গফুর মিয়া চৌধুরী, উখিয়া :

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেবার নামে এনজিও সংস্থা ব্র্যাকের কতিপয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। এনজিও সংস্থা ব্র্যাক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শেড নির্মান, নলকূপ স্থাপন, টয়লেট নির্মান, গোসল খানা ও বিভিন্ন প্রকার বাঁশ সরবরাহ কাজে অনিয়ম, দূর্ণীতি লুটপাটসহ হরিলুট চালাচ্ছে এমন অভিযোগ সচেতন মহল ও ক্যাম্পে দায়িত্বরত প্রশাসনের। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এসব কাজের ঠিাকাদারদের সাথে যোগসাজসের মাধ্যমে কাজে নয়-ছয় করে কমিশন বাণিজ্য করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ব্র্যাকের দূর্ণীতি পরায়ন কর্মকর্তারা।
অভিযোগ উঠেছে, উখিয়ার কুতুপালং ব্র্যাক অফিস-১ এর ম্যানেজার মনিরুল ইসলাম, কুতুপালং ব্র্যাক অফিস-২ এর ম্যানেজার আব্দুর রউফ লাইসেনন্স বিহীন ঠিকাদারদের সাথে আতাত করে কোটি কোটি টাকার কাজ বিনা টেন্ডারে পাইয়ে দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধ পন্থায় পকেটস্থ করছে।
অথচ বৈধ ঠিকাদারেরা লাইসেনন্স নিয়ে কাজ করার জন্য বার বার চেষ্টা করে ও ব্যর্থ হয়।
জানা যায়, দূর্ণীতিবাজ ম্যানেজার মনিরুল ইসলাম, আব্দুর রউফ প্রতিটি গোসল খানা থেকে ১ হাজার টাকা কমিশন, প্রতিটি টয়লেট থেকে ১ হাজার টাকা করে নিচ্ছে। প্রতিটি দেড় লাখ টাকার একটি শেড নির্মান থেকে দশ হাজার টাকা করে কমিশন আদায় করছে।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, ঠিকাদার জসিম উদ্দিন, আরজু, মোঃ হেলাল, আজিজুর রহমান ও আব্দুল হক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজের নামে ব্যাপক অনিয়ম দূর্ণীতি করে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। এই ঠিকাদারেরা কোন নিয়ননীতির তোয়াকা না করে মন গড়াভাবে কাজ করে ঐ ম্যানেজারদের সহায়তায় বিলের টাকা সহজে উত্তোলন করে নিচ্ছে। এভাবে রোহিঙ্গাদের সেবার নামে এনজিও সংস্থা ব্র্যাক, আর্ন্তজাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশ থেকে কোটি কোটি টাকার মার্কিন ডলার এনে রোহিঙ্গাদের সেবার নামে ক্যাম্পে বিভিন্ন প্রকপ্লের মাধ্যমে কাজ করার নাম দিয়ে হরিলুট চালাচ্ছে।
এদিকে ব্র্যাকের অনিয়ম দূর্ণীতি চরম পর্যায়ে পৌঁছলে ও ব্র্যাকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোন তদারকি নেই। সচেতন মহল মনে করেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্র্যাকের কাজের গুণগত মান নিয়ে শুরু থেকে নানা প্রশ্ন উঠলে ও অনিয়ম দূর্ণীতি ও কমিশন বাণিজ্য ঠেকানো যাচ্ছে না। এসব কাজে স্থানীয় প্রশাসনের দেখ ভাল না থাকায় তারা ইচ্ছামত কাজ করে টাকা আত্মসাৎ করে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক ও ঠিকাদার বশির আহমদ অভিযোগ করে বলেন, ব্র্যাকের ম্যানেজার মনির ও রউফ কয়েকজন লাইসেনন্স বিহীন ঠিকাদারদের ইচ্ছামত কাজ দিয়ে কমিশন আদায়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার কাজ অনিয়মের মাধ্যমে করছে। এতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্র্যাকের চলমান কাজের গুণগত মান খুবই খারাপ হচ্ছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী রবিন ভোরের কাগজকে বলেন, এনজিও সংস্থা ব্র্যাকের কাজের গুণগত মান নিয়ে শুরু থেকে নানা প্রশ্ন উঠেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্র্যাকের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ তদারকি করে বিহীত ব্যবস্থা নেওয়ার হবে।